নাটোরের বড়াইগ্রামে গত মঙ্গলবার ভোরে বালুবাহী ট্রাকের সাথে রাজশাহীগামী যাত্রীবাহী বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ব্যাংক কর্মকর্তা মির্জাগঞ্জের বাসিন্দা শহীদুল ইসলাম (৫০) ও তার শিশু কন্যা ফারহানা তাসফিয়া (৫) এর জানাযা নামাজ শেষে পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জের মির্জাগঞ্জ গ্রামের পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে। মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) রাত সাড়ে ১০ টার দিকে শহীদুল ইসলাম ও তার মেয়ের মরদেহ গ্রামের বাড়ী উপজেলার মির্জাগঞ্জ গ্রামের বাড়ীতে পৌঁছালে স্বজনদের আহাজারিতে আকাশ বাতাস ভারী হয়ে ওঠে।
আজ বুধবার (২১ অক্টোবর) সকাল ১০টার মির্জাগঞ্জ ইয়ার উদ্দিন খলিফা (রঃ) দরবার শরীফ মাঠে জানাযা নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। জানাযা নামাজে পটুয়াখালী ১ আসনের সংসদ সদস্য বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল (অবঃ) আলহাজ্ব আলতাফ হোসেন চৌধুরীসহ উপজেলা বিএনপির স্থানীয় নেতৃবৃন্দ, উপজেলা প্রশাসন,স্থানীয় পূবালী ও ব্র্যাক ব্যাংকের কর্মকর্তাগণসহ বিভিন্ন শ্রেনী পেশার মানুষ অংশগ্রহন করেন।
জানাযা নামাজের পূর্বে প্রয়াত ব্যাংক কর্মকর্তা মোঃ শহীদুল ইসলামের কর্মময় জীবনের স্মৃতিচারণ করে বক্তব্য দেন পটুয়াখালী ১ আসনের সাংসদ বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল অবঃ আলহাজ্ব আলতাফ হোসেন চৌধুরী, উপজেলা বিএনপির সভাপতি মোঃ সাহাবুদ্দিন নান্নু, বাংলাদেশ রেডক্রিসেন্ট সোসাইটির সাবেক পরিচালক মোঃ জাফর ইমাম সিকদার,মির্জাগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ মোঃ রাসেল,বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী উপজেলা আমীর মাওলানা মোঃ সিরাজুল হক,বিএনপি নেতা মোঃ ফিরোজ আলম গোলদার, ব্র্যাক ব্যাংক রিজিওনাল ক্রেডিট হেড মোঃ মাসুম মিয়া, পূবালী ব্যাংক পিএলসি বরিশাল আঞ্চলিক কার্য্যালয়ের সহকারী মহাব্যবস্থাপক মোঃ আবু সুফিয়ান ও প্রয়াত শহীদুল ইসলামের বড় ভাই মোঃ ফারুক হোসেন হাওলাদার প্রমূখ। বক্তারা নিহতের পরিবারের সার্বিক সহোযোগিতা ও দূর্ঘটনায় আহত স্ত্রী পূবালী ব্যাংক সুবিদখালী শাখার সিনিয়র অফিসার রুবিনা আক্তার ও ছেলে ফারহান তাজওয়ার লাবিবের চিকিৎসার সার্বিক সহোযোগিতার আশ্বাস দেন এবং নিহত বাবা -মেয়ের রুহের মাগফিরাত কামনা করে দোয়া প্রার্থনা করেন।

দূর্ঘটনায় আহত প্রয়াত শহীদুল ইসলামের স্ত্রী ও একমাত্র পূত্র বর্তমানে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। নিহত ব্যাংক কর্মকর্তা ও তার কন্যার দাফন শেষে ব্র্যাক ব্যাংক ও পূবালী ব্যাংকের উর্ধতন ও স্থানীয় কার্য্যালয়ের কর্মকর্তারা নিহতদের গ্রামের বাড়ী মির্জাগঞ্জ গ্রামে গিয়ে পরিবারের সদস্যদের সাথে সাক্ষাত করে শোক সন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান এবং আহত রুবিনা আক্তার ও তার ছেলের চিকিৎসার খোঁজ খবর নেন এবং চিকিৎসার সার্বিক সহোযোগিতার আশ্বাস দেন।
উল্লেখ্য, চলতি দূর্গাপূজার ছুটিতে রাজশাহীতে বোনের বাড়ীতে যাওয়ার সময় মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) ভোর ৫টার দিকে নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলার বনপাড়া এলাকায় বালুবাহী ট্রাকের সাথে বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে ব্যাংক কর্মকর্তা মোঃ শহীদুল ইসলাম ও তার শিশু কন্যা ফারহানা তাসফিয়াসহ ১৪ জন যাত্রী নিহত হন এবং তার স্ত্রী রুবিনা আক্তার ও একমাত্র ছেলে ফারহান তাজওয়ান লাবিবসহ প্রায় ৩০ জন নারী পুরুষ যাত্রী আহত হন। দূর্ঘটনাস্থল থেকে আহত স্ত্রী রুবিনা আক্তার ও ছেলে ফারহান তাজওয়ান লাবিবকেকে প্রথমে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ঐদিন দুপুরের পর তাদের শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাৎক্ষনিক ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরন করা হয়। নিহত শহীদুল ইসলাম ব্র্যাক ব্যাংক মাগুরা শাখায় ক্রেডিট ম্যানেজার ও কন্যা ফারহানা তাসফিয়া (৫) মির্জাগঞ্জের সুবিদখালী বন্দরের একটি নুরানী মাদ্রাসার ১ম শ্রেনীর শিক্ষার্খী ছিলেন।
মন্তব্য করুন