উন্নয়নের জন্য শক্তিশালী প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর প্রয়োজন উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, সরকার স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি জোরদার করছে। মানবাধিকার, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা অবশ্যই রক্ষা করতে হবে।
শনিবার (৩ অক্টোবর) সকালে রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে তিন দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক সম্মেলন ‘বে অব বেঙ্গল কনভারসেশন (বিওবিসি) ২০২৬’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজ (সিজিএস) এ সম্মেলনের আয়োজন করেছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আইনের শাসন প্রতিটি নাগরিকের জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য হতে হবে। সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে মানুষের সেবা নিশ্চিত করার মতো একটি সংস্কৃতি গড়ে তোলার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।
রোহিঙ্গা সংকট প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশ এখনো প্রায় ১৩ লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থীকে আশ্রয় দিয়ে যাচ্ছে। তাদের দ্রুত, স্বেচ্ছায়, নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবাসনের জন্য রাজনৈতিক সমর্থন ও বৈশ্বিক অর্থায়ন প্রয়োজন। একই সঙ্গে সংকটের মূল কারণ মিয়ানমারে সমাধান করতে হবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
কৃষি খাতকে অর্থনীতির কেন্দ্রবিন্দু উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী প্রযুক্তি, সেচ, অর্থায়ন ও বাজারে কৃষকদের প্রবেশাধিকার বাড়ানোর কথা জানান। মৎস্য, গবাদিপশু ও গ্রামীণ উদ্যোগে সহায়তার পাশাপাশি কৃষি প্রক্রিয়াজাতকরণ ও রপ্তানি শিল্পকে এগিয়ে নেওয়ার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।
পানি ব্যবস্থাপনা প্রসঙ্গে আগামী পাঁচ বছরে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল ও জলপথ খনন, পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্প এগিয়ে নেওয়া এবং তিস্তা মহাপরিকল্পনা তৈরির কথা জানান প্রধানমন্ত্রী।
পরিবেশ নিয়ে তিনি বলেন, আগামী পাঁচ বছরে ২৫ কোটি গাছ লাগানোর পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি সৌরশক্তির সম্প্রসারণ, পুনর্ব্যবহারযোগ্য বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও পরিবেশবান্ধব কারখানা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। বাংলাদেশে বিশ্বের শীর্ষ ১০০টি লিড-সার্টিফায়েড কারখানার ৫৩টি রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
‘নতুন করে গড়ে ওঠা এক বিশ্বে ক্ষমতা, প্রযুক্তি ও আস্থার পথচলা’ প্রতিপাদ্যে আয়োজিত সম্মেলনটি ৫ অক্টোবর পর্যন্ত চলবে। এতে শতাধিক দেশের প্রায় ২০০ বক্তা, ৩০০-এর বেশি প্রতিনিধি ও এক হাজারের বেশি অংশগ্রহণকারী অংশ নিচ্ছেন।
মন্তব্য করুন