কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকত রক্ষা এবং মেরিন ড্রাইভ সড়ক টিকিয়ে রাখা এখন আর কোনো দাবি নয়, এটি উপকূলের রক্ষায় আজই জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণের সময়।
চলমান মৌসুমি জলবায়ুর প্রভাবে বঙ্গোপসাগরে জোয়ারের প্রবল ঢেউয়ের আঘাতে কুয়াকাটার মূল সৈকত ও একমাত্র সুরক্ষা বাঁধ আজ ধ্বংসের শেষপ্রান্তে এসে ঠেকেছে। মাত্র কয়েকদিনের ব্যবধানে এই পরিস্থিতির স্থায়ী সমাধান করা না হলে কুয়াকাটার দৃশ্যপট পুরোপুরি বদলে যাবে, যার চরম খেসারত দিতে হবে স্থানীয় বাসিন্দাদের।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কুয়াকাটা জিরো পয়েন্ট থেকে ফিস ফ্রাই মার্কেট পর্যন্ত অংশ কিছুটা ঝুঁকিমুক্ত থাকলেও, এর পরের অংশ থেকে মেরিন ড্রাইভ সড়কটির প্রায় ৭০ ভাগই ইতোমধ্যে ভেঙে গেছে। সড়কটি মাত্র কয়েক ফুট বিলীন হলেই লোকালয়ে সরাসরি সমুদ্রের জোয়ারের পানি প্রবেশ করবে বলে আশঙ্কায় দিন গুনছেন বাসিন্দারা। এতে উপকূলীয় জনপদ এক মহাবিপর্যয়ের মুখে পড়ার চরম আতঙ্ক এখন সমুদ্র সংলগ্ন বাসিন্দাদের।
স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা যায়, কিছুদিন আগেও যে সড়কটিকে তারা নিজেদের বসতি ও জীবনমানের সুরক্ষার প্রধান ঢাল হিসেবে মনে করতেন, আজ সেটিই চরম ঝুঁকিপূর্ণ। তদারকি ও দ্রুত সুরক্ষামূলক ব্যবস্থার অভাবে উপকূলের এই গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো আজ সম্পূর্ণ ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়েছে। সমুদ্রসংলগ্ন এলাকার বাসিন্দারা বর্তমানে এক অনিশ্চিত জীবন-মরণের সন্ধিক্ষণে দিন কাটাচ্ছেন।
বিশেষ করে এই ভাঙন মাত্র কয়েকদিন চলমান থাকলেই এখানকার ভূমিহীন ও সাধারণ মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়বেন। জীবনমানের ওপর নেমে আসবে বড় ধরনের বিপর্যয়। অবিলম্বে এই সড়ক রক্ষা করা না গেলে কুয়াকাটার পর্যটন শিল্প এবং উপকূলীয় পরিবেশের ভারসাম্য মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে বলে মনে করছেন সচেতন মহল।
স্থানীয় সচেতন নাগরিক ও ক্ষতিগ্রস্ত বাসিন্দাদের জোরালো দাবি—সরকারের প্রশাসনের আশু হস্তক্ষেপ এবং কার্যকর পদক্ষেপই কেবল পারে এই মেরিন ড্রাইভ সড়ক, পর্যটন শিল্প এবং উপকূলের লাখো মানুষের স্বপ্ন ও বসতি রক্ষা করতে। অন্যথায় কুয়াকাটার ইতিহাসে এক বড় ধরনের বিপর্যয় নেমে আসবে।
মন্তব্য করুন