পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জে ফ্যামিলি কার্ড শুমারি-২০২৬ এর তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজার নিয়োগে অনিয়ম ও স্বজনপ্রীতি করে বিভিন্ন ইউনিয়নে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামীলীগের সহোযোগী সংগঠন ছাত্রলীগের একাধিক নেতা কর্মীকে নিয়োগ দিয়ে ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের বাদ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ নিয়ে গতকাল বৃহস্পতিবার দিনভর নিয়োগ কমিটির বিরুদ্ধে নানা সমালোচনায় মুখর ছিল উপজেলার প্রত্যন্ত এলাকার চায়ের দোকান থেকে শুরু করে বিভিন্ন হাট বাজার ছাপিয়ে উপজেলা শহরের সর্বত্র।
জানা যায়, মির্জাগঞ্জ উপজেলার ৬টি ইউনিয়নে ফ্যামিলি কার্ড শুমারি-২০২৬ এর সুপারভাইজার পদে ৭৬জন ও তথ্য সংগ্রহকারী পদে ৫৩৯জন আবেদনকারীদের আবেদন যাচাই বাছাই শেষে বুধবার (১২ আগষ্ট) রাতে “উপজেলা প্রশাসন মির্জাগঞ্জ” ফেসবুক আইডিতে “প্রাথমিকভাবে নির্বাচিত, রিজার্ভ ও অপেক্ষমান সুপারভাইজার ও তথ্য সংগ্রহকারীদের নামের তালিকা” প্রকাশ করে। তালিকায় ৯জন সুপারভাইজার ও ৮৪তথ্য সংগ্রহকারীর নাম রয়েছে। তালিকা প্রকাশের পর বিএনপি ও সহোযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা কার্যক্রম নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের একাধিক নেতা কর্মীকে বিভিন্ন ইউনিয়নে নিয়োগ দিয়ে ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের বাদ দেওয়ার অভিযোগ করে ক্ষোভ প্রকাশ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পোষ্ট করেন এবং নিয়োগ বাতিল করে পুনঃনিয়োগ প্রক্রিয়ার দাবি জানান। উপজেলার ইউনিয়ন সমাজকর্মী মোঃ জাকারিয়া রানাসহ নিয়োগ কমিটির একাধিক কর্মকর্তা যোগ্যদের বাদ দিয়ে আত্মীয় ও আওয়ামী ফ্যাসিস্টদের প্রাধান্য দিয়ে প্রায় ৪০জন ফ্যাসিস্টকে নিয়োগের মাধ্যমে পুর্নবাসনের সুযোগ করে দিচ্ছেন বলে ছাত্রদলের একাধিক নেতা অভিযোগ করেন।
ছাত্রদল নেতা মোঃ সেজান জাকির, মোঃ কাইউম মৃধা বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্বাচনী ওয়াদা পূরণে মির্জাগঞ্জে ফ্যামিলি কার্ড প্রাপ্তদের তথ্য সংগ্রহে সুপারভাইজার ও মাঠকর্মী নিয়োগের প্রক্রিয়ায় স্বজনপ্রীতি ও অনিয়ম করা হয়েছে। কর্তৃপক্ষ নিয়োগ প্রক্রিয়ায় আওয়ামী ফ্যাসিস্টদের প্রাধান্য দিয়ে নিয়োগের মাধ্যমে তাদের পুর্নবাসনের সুযোগ করে দিয়েছে। আমরা ওই নিয়োগ বাতিল করে পুনঃনিয়োগ প্রক্রিয়ার দাবি জানাই। নিয়োগ বাতিল করে পুনঃনিয়োগের দাবী জানিয়ে ৩৬ঘন্টার আল্টিমেটাম দিয়েছি আমরা, দাবী পূরন না হলে উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গনে ঝাড়– মিছিল করন ও কঠোর আন্দোলনের ঘোষনা দেয়া হবে।
এ বিষয়ে নিয়োগ কমিটির সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শেখ মোঃ রাসেল এর মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলে তিনি কল রিসিভ না করায় তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
নিয়োগ কমিটির সদস্য সচিব ও উপজেলা সমাজসেবা অফিসার মুহাম্মদ আমিনুল ইসলাম বলেন, স্বজনপ্রীতি ও অনিয়মের অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। আবেদনকারীদের শিক্ষাগত যোগ্যতা, মৌখিক এবং ব্যবহারিক পরীক্ষার ভিত্তিতে নির্বাচিত করা হয়েছে। প্রাথমিক নিয়োগ প্রাপ্তদের কারো বিরুদ্ধে কোনও ফৌজদারী বা গুরুতর অভিযোগ থাকলে নিয়োগ কমিটির সভাপতি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এর নিকট লিখিতভাবে জানালে নিয়োগ কমিটি অভিযোগগুলো তদন্ত করে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন। নিয়োগ কমিটির সদস্যবৃন্দ কেউ স্থানীয় বাসিন্দা নন। অনিয়ম ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন।
মন্তব্য করুন