যুবদল নেতার ছুরিকাঘাতে গাইবান্ধার সাঘাটায় আলোচিত ছাত্রশিবির নেতা সাইফুল্লাহ বারী হত্যার সময় আহত জামায়াত কর্মী সালাউদ্দিন ৪৮ দিন পরে ঢাকার কল্যাণপুর ইবনে সিনা হাসপাতালে মারা গেছেন। শনিবার ( ৮ আগস্ট) সকাল ৭.৪০ মিনিটে মারা যায় বলে জানা গেছে।
শনিবার (৮ আগস্ট) সকালে জামায়াত কর্মী সালাউদ্দিনের মারা যাওয়ার ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন তার বাবা জামায়াতের রোকন ও উপজেলা জামায়াতের কর্ম পরিষদের সদস্য সামছুল হোদা দুদু।
এছাড়াও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় আমির ডা. শফিকুর রহমান তার ফেসবুক পেজেও বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ।
সাঘাটা যুব জামায়াতের সেক্রেটারি আশিকুর রহমান আপেল বলেন এটি একটি পরিকল্পিত হত্যা কান্ড। জামায়াত-শিবিরকে কোন ঠাসা করতেই পরিকল্পিত ভাবে সাইফুল্লাহ ও সালাউদ্দিনকে হত্যা করা হয়েছে। প্রশাসন সব জেনের আসামিদের ধরছেন না।
সাঘাটা উপজেলা ছাত্র শিবিরের সভাপতি সাজেদুর রহমান সাদা জানান, দিন দুপুরে এমন হত্যার ঘটনা যে ঘটিয়েছে সেই চাকু পলাশ এখনো এলাকায় ঘুড়ে বেড়ায় । মুকলের বাবা এখনো মানুষকে মাঝে ভয়ভীতি দেখাচ্ছেন । প্রশাসন নিরব ।
স্থানীয়রা জানান, ( ২১ জুন বিকেল ) সাঘাটার কচুয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটি গঠনের বিষয়ে সাঘাটা উপজেলা চত্বরে স্কুলটির প্রধান শিক্ষক হাবিবুল্লার সাথে যুবদল নেতা মুকুলের কথা কাটাকাটি হয়। স্থানীয় নেতাদের সমঝোতায় বিষয়টি মীমাংসা হয় এবং সবাই উপজেলা চত্বর থেকে চলে যায়। এর ১০ মিনিট পর শিবির নেতা সাইফুল্লাহ ও কর্মী সালাউদ্দিন বোনারপাড়া টু সাঘাটা সড়কের উপজেলা সংলগ্ন বোনারপাড়া চৌমাথায় দাঁড়িয়ে ছিল। এসময় যুবদল নেতা মুকুল মিয়া ও তার ছোট ভাই পলাশ, বোনারপাড়া ওয়ার্ড বিএনপির সদস্য রবিউল ইসলাম, যুবদল নেতা আশরাফসহ ১০ থেকে ১৩ জন ছুরি দিয়ে জামায়াত কর্মী সালাউদ্দিনকে আঘাত করে। এসময় বোনািরপাড়া ইউনিয়ন শিবিরের সভাপতি সাইফুল্লাজ বারী এগিয়ে আসলে তাকে ধাওয়া করে রাস্তার ফেলে গলায় ছুরিকাঘাত করেন যুবদল নেতা মুকুল ও তার ভাই পলাশসহ কয়েকজন । পরে স্থানীয়রা আহত দুজনকে উদ্ধার করে গাইবান্ধা আধুনিক হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক সাইফুল্লাহকে মৃত ঘোষণা করেন। গুরুতর আহত জামায়াত কর্মী সালাউদ্দিনকে বগুড়া জিয়াউর রহমান হাসপাতালে ভর্তি নেয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকার কল্যাণপুর ইবনে সিনা হাসপাতালে ভর্তি করানো হয় । দীর্ঘ ৪৮ দিন চিকিৎসার পরে আজ ৮ আগস্ট সকাল পৌনে ৮টার দিকে মারা যায় ।
এ ঘটনায় নিহত শিবির নেতা সাইফুল্লাহর বাবা হাবিবুর রহমান ২২ জুন সাঘাটা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় ছয়জনের নাম উল্লেখসহ ১৪-১৫ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়। ঘটনার পরপরই দলীয় শৃঙ্খলা পরিপন্থি কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে জেলা যুবদলের পক্ষ থেকে মোখলেছুর রহমান মুকুলকে প্রাথমিক সদস্যপদসহ বহিষ্কার করা হয়।
সাঘাটা থানার ওসি মাহবুব আলম জানান, সাইফুল্লাহ বারী হত্যা মামলায় এ পর্যন্ত প্রধান আসামি মোখলেছুর রহমান মুকুলসহ মোট পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্য আসামিরা হলেন— আশরাফ, রবিউল, শাহ আলম এবং একজন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তি।
মন্তব্য করুন