তীব্র তাপদাহ ও অসহ্য গরমে নাজেহাল হয়ে পড়েছে দিনাজপুরের হাকিমপুর (হিলি) উপজেলার জনজীবন।
আবহাওয়ার এই চরম অবস্থায় সীমান্ত ঘেঁষা এই এলাকায় পাল্লা দিয়ে বাড়ছে ডায়রিয়া ও পানিবাহিত রোগের প্রকোপ। গত এক সপ্তাহে উপজেলার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটিতে প্রায় অর্ধশত রোগী ভর্তি হয়েছেন, যাদের বড় অংশই শিশু ও বৃদ্ধ।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, গত ৩ এপ্রিল থেকে ১০ এপ্রিল পর্যন্ত সাত দিনে হাকিমপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে মোট ৪৮ জন ডায়রিয়া আক্রান্ত রোগী ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিয়েছেন। এছাড়া প্রতিদিন হাসপাতালের বহির্বিভাগে (আউটডোর) অন্তত ১০ থেকে ১৫ জন রোগী প্রাথমিক চিকিৎসা নিচ্ছেন।
বর্তমানে প্রতিদিন গড়ে ৬ থেকে ৭ জন নতুন রোগী ভর্তির রেকর্ড করা হচ্ছে। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন কয়েকজন রোগীর স্বজন জানান, গত কয়েকদিনের প্রচণ্ড গরমে শিশুরা হঠাৎ করেই বমি ও পাতলা পায়খানায় আক্রান্ত হচ্ছে। তবে হাসপাতালে আসার পর চিকিৎসকদের দ্রুত পদক্ষেপ এবং পর্যাপ্ত স্যালাইন ও ওষুধের কারণে বড় কোনো দুর্ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি।
হাকিমপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ইমার্জেন্সি মেডিকেল অফিসার ডা. খন্দকার নাঈমুর রহমান জানান, ঋতু পরিবর্তনের এই সময়ে অতিরিক্ত গরমের কারণে মূলত ডায়রিয়ার ঘটনা বৃদ্ধি পেয়েছে। তিনি বলেন, তীব্র গরমে শরীর দ্রুত পানিশূন্য হয়ে পড়ে। এই সময়ে সুস্থ থাকতে বাইরের খোলা খাবার, বাসি খাবার ও পচা পানীয় পরিহার করা জরুরি। নিরাপদ পানির ব্যবহার এবং ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতাই এই রোগ থেকে বাঁচার প্রধান উপায়।
উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে তারা সজাগ রয়েছেন। গরমের এই সময়ে সাধারণ মানুষকে অধিক সচেতন হওয়ার এবং অসুস্থ বোধ করলে দেরি না করে নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে আসার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
মন্তব্য করুন