মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলায় কৃষিকে আরও টেকসই ও নিরাপদ করার লক্ষ্যে বায়োপেস্টিসাইড ব্যবহারের ওপর দিনব্যাপী কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

রবিবার উপজেলা কৃষি অফিসের হলরুমে আয়োজিত এই কর্মশালায় কৃষক, কৃষাণী এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সক্রিয় অংশগ্রহণ ছিল লক্ষণীয়।

বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ব্র্যাক সিড অ্যান্ড এগ্রো এন্টারপ্রাইজের উদ্যোগে আয়োজিত এই কর্মশালায় রাসায়নিক কীটনাশকের বিকল্প হিসেবে বায়োপেস্টিসাইডের কার্যকারিতা ও উপযোগিতা তুলে ধরা হয়। বিশেষজ্ঞরা তাদের বক্তব্যে জানান, অতিরিক্ত রাসায়নিক ব্যবহারের ফলে মাটি, পানি ও মানবস্বাস্থ্যের ওপর যে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে, তা থেকে উত্তরণের অন্যতম উপায় হতে পারে বায়োপেস্টিসাইডের বিস্তৃত প্রয়োগ।

আলোচনায় উঠে আসে, বায়োপেস্টিসাইড ব্যবহারে ফসলের গুণগত মান অক্ষুণ্ণ থাকে, উৎপাদন ব্যয় কমে এবং কৃষি জমির দীর্ঘমেয়াদি উর্বরতা বজায় থাকে। একই সঙ্গে এটি পরিবেশের জন্য কম ক্ষতিকর হওয়ায় জীববৈচিত্র্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

কর্মশালায় প্রধান অতিথি ও বক্তারা কৃষকদের উদ্দেশ্যে বলেন, আধুনিক কৃষির চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় প্রযুক্তিনির্ভর ও পরিবেশবান্ধব পদ্ধতি গ্রহণের বিকল্প নেই। তারা মাঠপর্যায়ে বায়োপেস্টিসাইড ব্যবহারের সঠিক পদ্ধতি ও সময় সম্পর্কে দিকনির্দেশনা প্রদান করেন।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা কৃষি অফিসার জয়ন্ত কুমার রায়, কৃষি সম্প্রসারণ অফিসার সন্দীপনা সরকার, ব্র্যাক সিড অ্যান্ড এগ্রো এন্টারপ্রাইজের রিজিওনাল ম্যানেজার মোঃ আনিছুর রহমানসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। কর্মশালার সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন কৃষিবিদ আবুল কাশেম শাহরিয়ার।

দিনব্যাপী এ কর্মশালায় উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে আগত প্রায় ৭০ জন মডেল কৃষক ও কৃষাণী অংশ নেন। তারা বাস্তব অভিজ্ঞতার আলোকে বায়োপেস্টিসাইড প্রয়োগ পদ্ধতি সম্পর্কে হাতে-কলমে ধারণা লাভ করেন, যা মাঠপর্যায়ে প্রয়োগে সহায়ক হবে বলে মনে করছেন অংশগ্রহণকারীরা।

আয়োজকরা জানান, এই ধরনের উদ্যোগ অব্যাহত থাকলে কৃষকদের মধ্যে নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনের সচেতনতা বাড়বে এবং ধীরে ধীরে পরিবেশবান্ধব কৃষি ব্যবস্থার প্রসার ঘটবে।