বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপের প্রভাবে পটুয়াখালীতে গত ২৪ ঘণ্টায় রেকর্ড পরিমাণ বৃষ্টিপাত হয়েছে। বৃহস্পতিবার বিকেল ৩টা পর্যন্ত ১১৬ দশমিক ৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করেছে আবহাওয়া অফিস। টানা বর্ষণে জেলা শহরের বহু সড়ক তলিয়ে গেছে, ভেঙে পড়েছে স্বাভাবিক জনজীবন।
অমাবস্যার প্রভাবে নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় জেলার গলাচিপা, রাঙ্গাবালী ও কলাপাড়া উপজেলার অন্তত ৩৫টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। সবচেয়ে বিপর্যস্ত অবস্থায় রয়েছে কলাপাড়া উপজেলার কুয়াকাটা সমুদ্রসৈকত এলাকা।
কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রবিউল ইসলাম জানান, কুয়াকাটা পৌরসভার বাস্তবায়নাধীন সমুদ্রপাড়ের সড়কের প্রায় ১ হাজার ৩০০ মিটার অংশের এক-তৃতীয়াংশ বর্ষণ ও জোয়ারের চাপে ধসে গেছে। তিনি বলেন, “সাড়ে চার কোটি টাকা ব্যয়ে তৎকালীন পৌর মেয়রের নিজস্ব উদ্যোগে সড়কটি অপরিকল্পিতভাবে নির্মাণ করা হয়েছিল।”
ঘটনাটি তদন্তে পাঁচ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে এবং সাত দিনের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানান ইউএনও।
এদিকে টানা বৃষ্টিতে কলাপাড়া উপজেলার অন্তত ১০টি গ্রাম পানিতে ডুবে গেছে। জেলার অন্যান্য উপজেলাতেও দেখা দিয়েছে জলাবদ্ধতা। বহু পরিবারের ঘরে পানি ঢুকে পড়েছে, চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন স্থানীয়রা।
পটুয়াখালী আবহাওয়া অফিসের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. রাহাত জানান, “গত ২৪ ঘণ্টায় যে পরিমাণ বৃষ্টিপাত হয়েছে, তা এই মৌসুমে অস্বাভাবিক। বৃষ্টির মাত্রা আরও কিছু সময় থাকতে পারে।”
জেলা প্রশাসন জানায়, দুর্যোগ মোকাবেলায় প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় ত্রাণ ও সহায়তা কার্যক্রম চালু রাখা হয়েছে।
স্থানীয়রা বলছেন, গত কয়েক বছরের মধ্যে এমন টানা ও ভারী বর্ষণ খুব কমই দেখা গেছে। অপরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থা ও দুর্বল অবকাঠামো পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
বৃষ্টিপাত ও প্লাবনের কারণে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও ব্যবসা-বাণিজ্যেও নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
মন্তব্য করুন