ব্রাজিলকে হারিয়ে ইতিহাসে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে উঠেছিল নরওয়ে। তবে শেষ আটের লড়াইয়ে তাদের রূপকথার যাত্রা থামিয়ে দিল ইংল্যান্ড। জুড বেলিংহামের জোড়া গোলে ২-১ ব্যবধানে জয় তুলে নিয়ে সেমিফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে থ্রি লায়ন্সরা।
মায়ামির হার্ড রক স্টেডিয়ামে রোববার (১২ জুলাই) অনুষ্ঠিত ম্যাচে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেললেও প্রথম গোলের দেখা পায় নরওয়ে। ৩৬তম মিনিটে আন্দ্রেয়াস শেলদেরুপের গোলে এগিয়ে যায় স্ক্যান্ডিনেভিয়ান দলটি। তবে সেই লিড বেশিক্ষণ ধরে রাখতে পারেনি তারা। প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে দুর্দান্ত একক নৈপুণ্যে গোল করে ইংল্যান্ডকে সমতায় ফেরান বেলিংহাম।
নির্ধারিত ৯০ মিনিটে ১-১ সমতায় শেষ হওয়ায় ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে। অতিরিক্ত সময়ের তৃতীয় মিনিটেই (৯৩তম মিনিট) মরগান রজার্সের শট নরওয়ের গোলরক্ষক অরইয়ান নিলান্ডের হাত ফসকে বেরিয়ে গেলে ফিরতি বলে জালে ঠেলে দেন বেলিংহাম। সেটিই হয়ে ওঠে ইংল্যান্ডের জয়সূচক গোল।
ম্যাচজুড়ে বলের দখলে শেষ পর্যন্ত ৫২ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ ছিল নরওয়ের। তারা ১৩টি শট নিলেও ইংল্যান্ড ১৪টি শটের মধ্যে ৮টিই লক্ষ্যে রাখতে সক্ষম হয়।
নরওয়ের হয়ে আর্লিং হালান্ড ছিলেন একেবারেই নিষ্প্রভ। গোল তো পানইনি, বরং তার অপ্রয়োজনীয় ফাউলের কারণেই ৫৬তম মিনিটে টরবিয়র্ন হেগেমের করা একটি গোল ভিডিও রিভিউয়ে বাতিল হয়। এছাড়া প্রথমার্ধে হালান্ডের শক্তিশালী হেডও দারুণ দক্ষতায় ঠেকিয়ে দেন ইংল্যান্ডের গোলরক্ষক জর্ডান পিকফোর্ড।
চলতি বিশ্বকাপে এটি ছিল বেলিংহামের দ্বিতীয় জোড়া গোলের ম্যাচ। এর আগে শেষ ষোলোতে মেক্সিকোর বিপক্ষেও দুটি গোল করেছিলেন তিনি। এই জোড়া গোলে টুর্নামেন্টে তার গোলসংখ্যা দাঁড়িয়েছে ছয়ে, যা তাকে জাতীয় দল সতীর্থ হ্যারি কেইনের সঙ্গে যৌথভাবে তৃতীয় স্থানে রেখেছে। গোলদাতার তালিকায় যৌথভাবে শীর্ষে রয়েছেন ফ্রান্সের কিলিয়ান এমবাপে ও আর্জেন্টিনার লিওনেল মেসি, দুজনেরই গোল আটটি। সাত গোল নিয়ে তাদের ঠিক পেছনেই রয়েছেন হালান্ড।
শেষ দিকে নরওয়ে মরিয়া হয়ে সমতায় ফেরার চেষ্টা চালালেও ইংল্যান্ডের রক্ষণ ভাঙতে পারেনি। ফলে ২-১ ব্যবধানের জয় নিয়ে সেমিফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করে ইংলিশরা।
মন্তব্য করুন