যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ এবং এফবিআই সম্ভাব্য আর্থিক অনিয়মের অভিযোগে আর্জেন্টাইন ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এএফএ) এবং এর সভাপতি ক্লাউদিও তাপিয়ার বিরুদ্ধে প্রাথমিক তদন্ত শুরু করেছে। বিশ্বকাপ চলাকালে মার্কিন ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে স্থানান্তরিত শত শত মিলিয়ন ডলার অর্থপাচার বা জালিয়াতির আওতায় পড়ে কি না, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। খবর গোল ডটকম’র।

লা নাসিওন এবং টেরা–এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ফেডারেল প্রসিকিউটর ও এফবিআই এজেন্টরা যুক্তরাষ্ট্রে আর্জেন্টিনা ফুটবল ফেডারেশনের আর্থিক কার্যক্রম নিয়ে সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু করেছেন।

তদন্তের মূল বিষয় হলো, সভাপতি ক্লাউদিও তাপিয়ার নেতৃত্বাধীন এএফএ কীভাবে তাদের আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক চুক্তিগুলো পরিচালনা করেছে। তদন্তকারীরা খতিয়ে দেখছেন, এএফএ এবং ট্যুরপ্রডএন্টার এলএলসি- এমন কোনো কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিল কি না, যা যুক্তরাষ্ট্রের আইনে অর্থপাচার বা ব্যাংক জালিয়াতি হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।

তদন্তকারীরা বর্তমানে এসব আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক লেনদেনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ৩০০ মিলিয়ন ডলারেরও বেশি অর্থের প্রবাহ বিভিন্ন ব্যাংকিং প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে খতিয়ে দেখছে।

এদিকে আর্জেন্টিনা বিশ্বকাপের শেষ ষোলোতে মিশরকে ৩-২ গোলে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিত করার পর মাঠের বাইরের আইনি তদন্ত আরও জোরালো হয়ে ওঠে। সম্প্রতি তদন্তকারীরা মিয়ামিতে ব্যবসায়ী গিয়ের্মো তোফোনির সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সে প্রায় তিন ঘণ্টার বৈঠক করেছেন। পাশাপাশি, ক্লাউদিও তাপিয়া ও পাবলো তোভিগিনোর দায়িত্বকাল সম্পর্কে প্রত্যক্ষ জ্ঞান রয়েছে-এমন সাক্ষীদেরও খুঁজছেন তারা।

তদন্তকারী দল সিটিব্যাংক, ব্যাংক অব আমেরিকা এবং জেপি মরগান–এর হিসাবের মাধ্যমে পরিচালিত লেনদেনগুলো পরীক্ষা করছে। আর্জেন্টিনায় কঠোর বৈদেশিক মুদ্রা নিয়ন্ত্রণ কার্যকর থাকা অবস্থায় সংঘটিত এসব আর্থিক কার্যক্রম যুক্তরাষ্ট্রের কোনো ফেডারেল আইন লঙ্ঘন করেছে কি না, তা যাচাই করা হচ্ছে।

ক্রমবর্ধমান আইনি চাপের মুখে এএফএ যুক্তরাষ্ট্রে তাদের প্রতিনিধিদের সক্রিয় করতে শুরু করেছে। উত্তর আমেরিকায় এএফএর প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালনকারী তোমাস রেগালাদো সম্প্রতি মিয়ামিতে ফুটবল ও দুর্নীতি বিষয়ক এক ফোরামে আর্জেন্টাইন ফৌজদারি আইনজীবী মারিয়ানো লিসার্দোর সঙ্গে অংশ নেন।

যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ ও এফবিআই পরিচালিত এই প্রাথমিক তদন্ত সম্পর্কে রেগালাদো দৃঢ়ভাবে নির্দোষ বলে ধরে নেয়ার নীতি সম্মানের সঙ্গে মেনে চলার আহ্বান জানান। তিনি স্পষ্টভাবে বলেন,শুধু তদন্তমূলক পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে বলেই কারও দায় বা অপরাধ প্রমাণিত হয় না।

এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করা হয়নি। প্রসিকিউটররা এখনও যাচাই করছেন, ফৌজদারি মামলা করার মতো পর্যাপ্ত প্রমাণ রয়েছে কি না।