পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জে সপ্তম শ্রেণীতে পড়ুয়া এক স্কুল ছাত্রীর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। ঘটনাটি ঘটেছে শুক্রবার (২৭ জুন) দিবাগত রাত সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার ঘটকের আন্দুয়া গ্রামে। স্কুল ছাত্রী সাজিয়াতুজ জোহরা মুগ্ধা (১৩) ঘটকের আন্দুয়া গ্রামের মোঃ শাহাজাদা ফকিরের কন্যা ও সে ঘটকের আন্দুয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণীর ছাত্রী ছিলেন। লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পটুয়াখালী মর্গে প্রেরন করেছে ‎মির্জাগঞ্জ থানা পুলিশ।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, স্কুল ছাত্রী সাজিয়াতুজ জোহরার মা মারা গেছেন ৭-৮ বছর আগে, পিতা মোঃ শাহাজাদা ফকির দীর্ঘদিন প্রবাসে (বিদেশে) আছেন। পিতা-মাতার অবর্তমানে স্কুল ছাত্রী তাঁর দাদি রোকেয়া বেগমের কাছে থেকে পড়াশোনা করতো। ঘটনার দিন রাতে পড়ার সময়ে পাশে বসে দাদী প্রতিবেশী এক মহিলার সাথে কথা বলছিলেন , এসময়ে পড়াশোনায় সমস্যা হচ্ছে জানিয়ে অন্যত্র গিয়ে কথা বলতে বললে এ নিয়ে দাদীর সাথে মুগ্ধার কথা কাটাকাটি হয়। এরপর দাদী পার্শ্ববর্তী ঘরে চলে যায় এবং কিছুক্ষণ পর ফিরে এসে ঘরের দরজা খুলতে গেলে সাজিয়াতুজ জোহরার কোন সাড়া শব্দ না পেয়ে বাড়ির লোকজন ডেকে নিয়ে ঘরের টিনের বেড়া কেটে ভিতরে প্রবেশ করে সিলিং ফ্যানের সাথে গলায় ফাঁস লাগানো ঝুলন্ত অবস্থায় তাকে দেখতে পেয়ে থানা পুলিশকে খবর দেয়। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পটুয়াখালী মর্গে প্রেরন করেন।
‎মির্জাগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ শামিম হাওলাদার জানান,স্কুল ছাত্রী মুগ্ধার মা ৭-৮ বছর পূর্বে মারা গেছেন, পিতা মালয়েশিয়া প্রবাসী দীর্ঘদিন,(বর্তমানে মালয়েশিয়া জেল হাজতে আছেন) এ কারনে দাদি রোকেয়া বেগমের কাছে থাকতো মুগ্ধা। দাদির সাথে পড়াশোনা নিয়ে কথা কাটাকাটি হয়েছে এবং দাদীর উপর অভিমান করে গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করেছে বলে পারিবারিক সূত্র জানিয়েছে। এ বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত শুরু করা হয়েছে। লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পটুয়াখালী পাঠানো হয়েছে। ময়না তদন্ত রিপোর্ট পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।