খেলার গতি বাড়ানো, সময়ক্ষেপণ কমানো এবং নিয়মের অস্পষ্টতা দূর করতে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে আজ থেকে ১০টি নতুন নিয়ম কার্যকর হয়েছে। মেরিলিবোন ক্রিকেট ক্লাবের (এমসিসি) ক্রিকেট আইনের হালনাগাদ সংশোধনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে পুরুষ ও নারী ক্রিকেটের সব সংস্করণের প্লেয়িং কন্ডিশনে এসব পরিবর্তন এনেছে আইসিসি।

১ অক্টোবর বা এরপর শুরু হওয়া সব আন্তর্জাতিক দ্বিপাক্ষিক সিরিজ ও টুর্নামেন্টে নতুন নিয়ম কার্যকর হবে। তবে এর আগে শুরু হওয়া চলমান সিরিজগুলো পুরোনো নিয়মেই শেষ হবে।

নতুন ১০ নিয়মের উল্লেখযোগ্য পরিবর্তনগুলো হলো—

১. ব্যাটারের সময়ক্ষেপণে ৫ রান জরিমানা: নির্ধারিত সময়ে পরের বল মোকাবিলার জন্য প্রস্তুত না হলে প্রথমে মৌখিক ও দ্বিতীয়বার চূড়ান্ত সতর্কতা দেওয়া হবে। তৃতীয়বার থেকে প্রতিবার ফিল্ডিং দল ৫টি পেনাল্টি রান পাবে।

২. নারী ও জুনিয়রদের বলের নির্দিষ্ট মাপ: নারী ও জুনিয়র ক্রিকেটের জন্য বলের ওজন ও আকারের নির্দিষ্ট সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে।

৩. ওভারথ্রোর সংজ্ঞা স্পষ্ট: রান আটকানো বা রানআউটের উদ্দেশ্যে স্টাম্প লক্ষ্য করে ছোড়া বলই ওভারথ্রো হিসেবে গণ্য হবে। সাধারণ ফিল্ডিংয়ের সময় হাত ফসকে বল চলে গেলে তা ওভারথ্রো নয়।

৪. বল ‘সেটলড’ হয়েছে কি না, সিদ্ধান্ত দেবেন আম্পায়ার: বল পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে এসেছে কি না, তা নির্ধারণের চূড়ান্ত ক্ষমতা আম্পায়ারের। বল অবশ্যই বোলার বা উইকেটকিপারের হাতেই থাকতে হবে—এমন বাধ্যবাধকতা থাকছে না।

৫. রানআউট ও স্টাম্পিংয়ে বলের নিয়ন্ত্রণ জরুরি: শুধু বল হাতে লেগে স্টাম্প ভাঙলেই রানআউট বা স্টাম্পিং হবে না; ফিল্ডারের বলের ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ থাকতে হবে।

৬. দিনের টেস্টে গোলাপি বল: আলোকস্বল্পতায় সময় নষ্ট ঠেকাতে দুই দলের সম্মতিতে দিনের টেস্টে গোলাপি বল ব্যবহারের সুযোগ থাকছে। ম্যাচ শুরুর আগেই এ সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

৭. দিনের শেষ ওভার সম্পূর্ণ করতে হবে: শেষ ওভারে উইকেট পড়লেও আলো ও পরিবেশ অনুকূলে থাকলে বাকি বলগুলো সম্পন্ন করা হবে।

৮. টি-টোয়েন্টিতে ১৫ মিনিটের ইনিংস বিরতি: আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে ইনিংস বিরতি ১৫ মিনিট নির্ধারণ করা হয়েছে। বৃষ্টি বা অন্য কারণে সময় নষ্ট হলে তা কমিয়ে সর্বনিম্ন ১০ মিনিট করা যাবে।

৯. ড্রিংকস বিরতিতে কোচ মাঠে যেতে পারবেন: ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টিতে নির্ধারিত ড্রিংকস বিরতির সময় প্রধান কোচ বা তার মনোনীত প্রতিনিধি মাঠে ঢুকে খেলোয়াড়দের কৌশলগত পরামর্শ দিতে পারবেন।

১০. ওয়াইডের নিয়ম স্থায়ী: বোলার বল ছাড়ার মুহূর্তে ব্যাটারের পায়ের অবস্থানকে রেফারেন্স পয়েন্ট ধরে ওয়াইড নির্ধারণ করা হবে। এরপর ব্যাটার অফসাইডে সরে গেলেও সেই পরিবর্তনের কারণে অতিরিক্ত ওয়াইড দেওয়া হবে না।