গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে একটি মোটরসাইকেল ও ৫৬৫ পিচ ইয়াবাসহ কুখ্যাত মাদক ব্যবসায়ী মিন্টু মিয়া (৩০)কে গ্রেফতার করেছে র্যাপিড একশন ব্যাটালিয়ান র্যাব।
আজ শনিবার সকালে র্যাব-১৩ কোম্পানির সিনিয়র সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) অধিনায়কের পক্ষে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বিপ্লব কুমার গোস্বামী স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
গ্রেফতার মাদক কারবারি মিন্টু মিয়া পলাশবাড়ী পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ড রাইগ্রামের মৃত দুলু মিয়ার ছেলে।
প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ১৫ মে শুক্রবার দিবাগত রাত পৌনে ২টার দিকে সিপিসি-৩, র্যাব-১৩, গাইবান্ধা ক্যাম্পের একটি অভিযানিক দল গোপন সংবাদে অভিযান পরিচালনা করে। এসময় পলাশবাড়ীর রাইগ্রামের কাঁচা রাস্তার ওপর একটি পালসার মোটরসাইকেল তল্লাশি করা হয়। এতে ৫৬৫ পিস ইয়াবাসহ, দুটি পুরাতন অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোন ও নগদ ২ হাজার টাকা জব্দসহ মাদক কারবারি মিন্টু মিয়াকে গ্রেফতার করা হয়।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বিপ্লব কুমার গোস্বামী আরো বলেন, পরবর্তী কার্যক্রমের জন্য গ্রেফতার মিন্টু মিয়াকে এবং জব্দ করা আলামতসমূহ সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
এছাড়াও মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি বাস্তবায়নে র্যাব-১৩ এর গোয়েন্দা তৎপরতা এবং চলমান অভিযান অব্যাহত থাকবে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আটককৃত মিন্টু রাইগ্রামসহ আশেপাশের এলাকায় মাদকের ব্যবসা পরিচালনা করে আসছিল। অভিযোগ রয়েছে, বর্তমানে রাইগ্রামের পুরো মাদক সাম্রাজ্যের মূল নিয়ন্ত্রক এই মিন্টু। গত কয়েক মাস আগে তার এই মাদক ব্যবসার বিরুদ্ধে এলাকাবাসী সোচ্চার ও প্রতিবাদী হলে, মিন্টু তাদের ধারালো অস্ত্র উঁচিয়ে ভয়ভীতি ও প্রাণনাশের হুমকি প্রদর্শন করে।
এদিকে কুখ্যাত এই মাদক কারবারির গ্রেফতারের খবরে এলাকার সাধারণ মানুষের মাঝে স্বস্তি ফিরে এসেছে। তারা দ্রুত এই সফল অভিযানের জন্য পুলিশ প্রশাসন ও র্যাবকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন।
তবে স্থানীয়দের দাবি, এলাকায় এখনো বেশ কয়েকজন মাদক কারবারি সক্রিয় রয়েছে, যাদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা জরুরি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক রাইগ্রামের এক বাসিন্দা জানান, আগে মাদকের কেনাবেচা শুধু রাইগ্রামের ভেতরেই সীমাবদ্ধ ছিল, কিন্তু এখন তা চারদিকে ছড়িয়ে পড়েছে। অন্য এক বাসিন্দা অভিযোগ করে বলেন, “বর্তমানে জুনদহ এলাকায় দিনদুপুরেই মাদক কেনাবেচা চলছে। আর এই চক্রের মূল হোতা কসাই এমদাদুল।”
অতিসত্বর কসাই এমদাদুলসহ সিন্ডিকেটের বাকি সদস্যদের গ্রেফতার করে পলাশবাড়ীকে মাদকমুক্ত করার জোর দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী এলাকাবাসী।
মন্তব্য করুন