গাইবান্ধায় লাভজনক হওয়ায় বাড়ছে বাণিজ্যিক..

প্রকাশ: 21 October 2026 । 17:58 | আপডেট: 21 October 2026 । 17:58

ফারুক হোসেন, ষ্টাফ করেসপন্ডেন্ট, গাইবান্ধা:-

গাইবান্ধার পলাশবাড়ী ও সাদুল্লাপুর উপজেলায় লাভজনক হওয়ায় দিন দিন সম্প্রসারিত হচ্ছে বাণিজ্যিক শিম চাষ। বিঘার পর বিঘা জমিতে মাচা পদ্ধতিতে শীতকালীন শিমের আবাদ করছেন কৃষকরা। বাজারে আগাম শিমের দাম ভালো পেলেও রোগবালাইয়ের আক্রমণে ফলন নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন তারা। কৃষকদের অভিযোগ, ক্ষেতের রোগবালাই দমনে বিভিন্ন ওষুধ প্রয়োগ করেও সুফল মিলছে না। এ অবস্থায় কৃষি বিভাগের প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও সহযোগিতা না পাওয়ার অভিযোগও করেছেন তারা।

একসময় গাইবান্ধার কৃষকরা পারিবারিক চাহিদা মেটাতে বসতবাড়ির আশপাশে সীমিত পরিসরে শিম চাষ করতেন। তবে এ ফসলে লাভের সম্ভাবনা থাকায় গত কয়েক বছরে জেলাটিতে বাণিজ্যিকভাবে শিম চাষের বিস্তার ঘটেছে। চলতি রবি মৌসুমেও কৃষকরা জমিতে মাচা তৈরি করে শীতকালীন শিমের আবাদ করেছেন। পলাশবাড়ী ও সাদুল্লাপুর উপজেলায় এ চাষের পরিমাণ তুলনামূলক বেশি।

তবে পলাশবাড়ী উপজেলার বাঁশকাটা এলাকায় আগাম জাতের শিমখেতে রোগবালাইয়ের আক্রমণ দেখা দিয়েছে। কৃষকরা জানান, ভাদ্র মাসের শুরুতে জমিতে শিমের বীজ বপন করেন তারা। আশ্বিন মাসের মাঝামাঝি সময়ে গাছে ফুল ও ফল আসতে শুরু করে। এরপর সীমিত পরিসরে শিম সংগ্রহ ও বিক্রি শুরু হয়। কিন্তু চলতি মৌসুমে প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে আগাম শিমখেতে রোগবালাইয়ের প্রকোপ বেড়েছে। বিভিন্ন ধরনের ওষুধ স্প্রে করেও কাঙ্ক্ষিত ফল না পাওয়ায় হতাশ হয়ে পড়েছেন তারা।

বাঁশকাটা গ্রামের এক শিমচাষি জানান, বর্তমানে বাজারে আগাম শিম প্রতি কেজি ১০০ থেকে ১২০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। প্রতি মণ শিমের দাম পাওয়া যাচ্ছে ৪ হাজার থেকে ৪ হাজার ৮০০ টাকা। বাজারে ভালো দাম থাকলেও রোগবালাইয়ের কারণে ক্ষেতের উৎপাদন কমে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন তিনি। এতে শিম চাষে প্রত্যাশিত লাভ পাওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

পলাশবাড়ী উপজেলা অতিরিক্ত কৃষি কর্মকর্তা হেনা নাসরিন বলেন, শীতকালীন সবজি হিসেবে বাজারে শিমের চাহিদা থাকায় কৃষক পর্যায়ে বাণিজ্যিকভাবে এ ফসলের আবাদ বাড়ছে। এতে কৃষকদের আর্থিকভাবে লাভবান হওয়ার সুযোগ রয়েছে। শিম চাষে উন্নত জাত নির্বাচন, রোগবালাই দমন ও আধুনিক আবাদ পদ্ধতিসহ বিভিন্ন বিষয়ে কৃষকদের প্রযুক্তিগত পরামর্শ ও সহযোগিতা দেওয়ার কথা জানান তিনি।

কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে গাইবান্ধা জেলায় এখন পর্যন্ত ৬৭ হেক্টর জমিতে শিমের আবাদ হয়েছে। এ থেকে ৭৩৭ মেট্রিক টন শিম উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

কৃষকদের দাবি, শিমের ভালো ফলন নিশ্চিত করতে এবং সম্ভাব্য আর্থিক ক্ষতি এড়াতে রোগবালাই শনাক্তকরণ ও দমনে সময়মতো কৃষি বিভাগের পরামর্শ ও প্রয়োজনীয় সহযোগিতা নিশ্চিত করতে হবে। এতে বাণিজ্যিক শিম চাষের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার পাশাপাশি কৃষকদের লাভবান হওয়ার সম্ভাবনাও বাড়বে।

উপদেষ্টা সম্পাদকঃ রোমান চৌধুরী।

প্রকাশকঃ  সানজিদা রেজিন মুন্নি।

সম্পাদকঃ কামরুজ্জামান বাঁধন।

নির্বাহী সম্পাদকঃ মোঃ জালাল উদ্দিন জুয়েল।

মোবাইলঃ ০১৭১১-৯৫৭২৬৩, ০১৭১২-৮৩১৪৪৭

মেইলঃ rhbnews247@gmail.com, CC: rhbnews.nd@gmail.com

ঢাকা অফিসঃ এ্যাড পার্ক, ওয়াজী কমপ্লেক্স (৯ম তলা), ৩১/সি, তোপখানা রোড, সেগুনবাগিচা, ঢাকা -১০০০.

error: Content is protected !!