শ্রীমঙ্গলে অবস্হিত বাংলাদেশ চা গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিটিআরআই) এর সেমিনার কক্ষে আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে ২০২২-২৩ অর্থবছরের বিটিআরআই এর দাপ্তরিক কর্মসম্পাদনে সর্বোত্তম নিষ্ঠা, সততা, দায়িত্বশীলতা ও দক্ষতার স্বীকৃতি স্বরূপ ‘জাতীয় শুদ্ধাচার পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠান ২০২৩ অনু্ষ্ঠিত হয়।

সরকারি কর্মকর্তা কর্মচারীদের শুদ্ধাচার চর্চায় উৎসাহ প্রদানের লক্ষ্যে ‘সোনার বাংলা গড়ার প্রত্যয়: জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশল’ শিরোনামে ‘শুদ্ধাচার পুরস্কার নীতিমালা ২০২১’ এর আলোকে এ পুরস্কার প্রদান করা হয়।

নীতিমালা অনুযায়ী গ্রেড দ্বিতীয় থেকে নবম গ্রেডের কর্মকর্তাদের মধ্যে থেকে পুরস্কার পেয়েছেন বিটিআরআই এর কীটতত্ত্ব বিভাগের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মোহাম্মদ শামীম আল মামুন।

এছাড়াও ১০তম গ্রেড থেকে ১৬তম গ্রেডের মধ্যে থেকে পুরস্কার পেয়েছেন বিটিআরআই এর অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর মোঃ আবুল হাসান ও বিটিআরআই এর গাড়িচালক মোঃ হুমায়ূন আহমেদ এবং ১৭তম গ্রেড থেকে ২০তম গ্রেডের মধ্যে থেকে এই পুরস্কার পেয়েছেন বিটিআরআই এর অফিস সহায়ক মোঃ আবেদ হোসেন।

নীতিমালা অনুযায়ী শুদ্ধাচার পুরস্কার পাওয়া কর্মকর্তা-কর্মচারীদের এক মাসের মূল বেতনের সমপরিমাণ অর্থ, ক্রেস্ট ও সনদ প্রদান করা হয়।
উক্ত অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ চা গবেষণা ইনস্টিটিউট এর পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) ড. মোঃ ইসমাইল হোসেন, বাংলাদেশ চা বোর্ডের প্রকল্প উন্নয়ন ইউনিট এর পরিচালক ড. এ.কে.এম. রফিকুল হকসহ বিটিআরআই এর সকল স্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।

ড. মোহাম্মদ শামীম আল মামুন ২০০১ খ্রি. বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, ময়মনসিংহ থেকে বিএসসিএজি (অনার্স) এবং ২০০৫ খ্রি. কীটতত্ত্ব বিষয়ে ১ম শ্রেণীতে এমএস ডিগ্রি অর্জন করেন। ২০০৭ সালে তিনি বাংলাদেশ চা গবেষণা ইনস্টিউউটে বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা (কীটতত্ত্ব) পদে যোগদান করেন। তিনি ২০১৩ সালে ঊর্ধবতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা (কীটতত্ত্ব) ও ২০২২ সালে প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা (কীটতত্ত্ব) পদে পদোন্নতি প্রাপ্ত হন।

তিনি ২০১০ সালে কলম্বো প্লান স্কলারশিপের আওতায় ভারতের তামিলনাডুস্থ কোথারী এগ্রিকালচারাল ম্যানেজমেন্ট সেন্টার হতে গ্রেড এ+ সহ ‘টি প্লান্টেশন ম্যানেজমেন্ট’ এ পোস্ট গ্রাজুয়েট ডিপ্লোমা (পিজিডি) ডিগ্রি অর্জন করেন। তিনি ২০১৬ সালে চীন সরকারের অর্থায়নে চীনের ফুজিয়ানের জ্যাংজু কলেজ অব সায়েন্স এন্ড টেকনোলজি থেকে ‘পলিউশন ফ্রি টি প্রোডাকশন টেকনোলজি’ এর উপর বিশেষ উচ্চতর প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত হন। তিনি ২০১৭ সালে সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফুড ইঞ্জিনিয়ারিং এন্ড টি টেকনোলজি বিভাগ হতে ‘বাংলাদেশে চায়ের লালমাকড় নিয়ন্ত্রনে সমন্বিত বালাই ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন’ শিরোনামে পিএইচডি ডিগ্রী অর্জন করেন। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে প্রসিদ্ধ বিভিন্ন জার্নালে তাঁর বহু প্রকাশনা আছে।

চা শিল্পের উন্নয়নে ‘দুটি পাতা একটি কুঁড়ি’ ও ‘সমতলের চা শিল্পথ মোবাইল অ্যাপ, ‘ক্যামেলিয়া খোলা আকাশ স্কুল’ ও ‘বঙ্গবন্ধু চা গ্যালারী’ তাঁর বিশেষায়িত উদ্ভাবন (ইনোভেশন)। তিনি দেশীয় ও আর্ন্তজাতিক বিভিন্ন পেশাজীবি সংস্থা ও সংগঠন যেমন- কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ, বাংলাদেশ কীটতত্ত্ব সমিতি, বাংলাদেশ আগাছা বিজ্ঞান সমিতি, আমেরিকান কীটতত্ত্ব সমিতি, ইরানের মাকড়তত্ত্ব সমিতি, বাংলাদেশ প্রাণীবিজ্ঞান সমিতি, বাংলাদেশ উদ্ভিদবিজ্ঞান সমিতি, বাংলাদেশীয় চা পেশাজীবি কল্যাণ সংস্থা, বাংলাদেশ এসোসিয়েশন ফর দ্যা এডভান্সমেন্ট সায়েন্স ও এশিয়ান কাউন্সিল অব সায়েন্স এডিটর এর অন্যতম সদস্য।

আধুনিক পেস্ট ব্যবস্থাপনায় চা শিল্পে তাঁর ভুমিকা অনস্বীকার্য। বাংলাদেশের চায়ের পোকামাকড় নিয়ন্ত্রনে টেকসই প্রযুক্তি উদ্ভাবন ও তা সরেজমিনে ব্যবহার করাই তাঁর প্রধান কর্মক্ষেত্র। তিনি পেস্ট ব্যবস্থাপনার ফলিত দিক ও প্রযুক্তিসমূহ বাগান পরিদর্শন, ওয়ার্কশপ, সেমিনার, সিম্পোজিয়ামের মাধ্যমে চা বাগানগুলোকে পৌছে দিয়ে থাকেন। যার সুফল চা বাগানগুলোও পাচ্ছে। তিনি বাগান মালিক, ব্যবস্থাপক, ক্ষুদ্র চা চাষি সকলের নিকট অতিপরিচিত ও সফল চা বিজ্ঞানী ও গবেষক হিসেবে সমাদৃত। ব্যক্তিজীবনে ড. শামীম আল মামুন একজন সৎ, সদালাপী, আন্তরিক, বন্ধুবৎসল ও সামাজিক মানুষ। তিনি বিবাহিত ও দুই কন্যা সন্তানের জনক।