দেশের স্বাস্থ্য খাতে পর্যায়ক্রমে মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ৫ শতাংশ বরাদ্দ এবং আগামী কয়েক বছরের মধ্যে সরকারি স্বাস্থ্যব্যবস্থায় ২৫ হাজার মিডওয়াইফ নিয়োগের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।
রোববার (১১ অক্টোবর) জার্মানির বার্লিনে ‘মিডওয়াইফারি ত্বরান্বিতকরণ ও স্বাস্থ্যনিরাপত্তায় দক্ষিণ-দক্ষিণ অংশীদারত্ব: সংকট থেকে সহনশীলতার পথে’ শীর্ষক মন্ত্রী পর্যায়ের গোলটেবিল বৈঠকে তিনি এ প্রতিশ্রুতির কথা জানান।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, মা ও নবজাতকের নিরাপদ ও মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে মিডওয়াইফরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। গর্ভকালীন সেবা, নিরাপদ প্রসব, জরুরি চিকিৎসার জন্য রেফারেল এবং প্রসব-পরবর্তী সেবার মান উন্নয়নে তাদের অবদান রয়েছে। মিডওয়াইফদের পেছনে বিনিয়োগকে ব্যয় নয়, বরং মাতৃ ও নবজাতকের মৃত্যু কমানো এবং সামগ্রিক স্বাস্থ্য ব্যয় হ্রাসের কার্যকর বিনিয়োগ হিসেবে বিবেচনা করে সরকার।
তিনি জানান, মিডওয়াইফারি শিক্ষার মানোন্নয়নে দেশের ৬২টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অবকাঠামো আধুনিকায়ন করা হচ্ছে। পাশাপাশি হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ, সিমুলেশনভিত্তিক শিক্ষা ও প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষাব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
স্বাস্থ্যকর্মীর সংকট মোকাবিলায় আঞ্চলিক সহযোগিতার ওপর গুরুত্ব দিয়ে সাখাওয়াত হোসেন বলেন, বাংলাদেশ, নেপাল ও পাকিস্তানের মধ্যে জ্ঞান ও শিক্ষক বিনিময় এবং যৌথ প্রশিক্ষণ কার্যক্রম জোরদার করা হচ্ছে। মাতৃস্বাস্থ্য ও প্রজননস্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণে উন্নয়ন সহযোগীদের, বিশেষ করে জাতিসংঘ জনসংখ্যা তহবিলের (ইউএনএফপিএ) অবদানেরও প্রশংসা করেন তিনি।
জলবায়ু পরিবর্তনজনিত দুর্যোগ এবং কক্সবাজারে রোহিঙ্গাদের মানবিক সহায়তা কার্যক্রমে মিডওয়াইফদের ভূমিকার কথা তুলে ধরে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, সংকটকালেও জীবনরক্ষাকারী মাতৃস্বাস্থ্যসেবা অব্যাহত রাখতে তারা সম্মুখসারিতে কাজ করছেন। নারী, শিশু ও দেশের ভবিষ্যৎ অর্থনীতির সুরক্ষায় মিডওয়াইফদের দক্ষতা বৃদ্ধি এবং এ খাতে বিনিয়োগ অব্যাহত রাখতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
মন্তব্য করুন