ঝালকাঠির সুগন্ধা ও বিষখালী নদীতে কাঙ্ক্ষিত ইলিশ না পাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন জেলেরা। দিনভর নদীতে জাল ফেলেও অনেক সময় নৌকার জ্বালানি, বরফ, খাবার ও জালের খরচই উঠছে না। এর মধ্যে এনজিও ঋণের কিস্তি ও মহাজনের দাদনের চাপ বাড়ছে।

ঝালকাঠি সদর, নলছিটি, রাজাপুর ও কাঠালিয়া উপজেলার বিভিন্ন এলাকার জেলেদের সঙ্গে কথা বলে এমন চিত্র পাওয়া গেছে। ইলিশের মৌসুম সামনে রেখে নৌকা ও জাল মেরামত এবং নতুন জাল কেনার জন্য অনেকেই ঋণ নিয়েছিলেন। ভালো মাছ পাওয়ার আশায় থাকলেও চলতি মৌসুমে সেই প্রত্যাশা পূরণ হয়নি।

দেউরি গ্রামের জেলে নুরু মিয়া বলেন, দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা থাকলেও এবার সুগন্ধা ও বিষখালী নদীতে আগের মতো ইলিশ পাচ্ছেন না। অনেক দিন মাছ বিক্রির টাকায় নৌকার তেলের খরচও উঠছে না। সামনে নিষেধাজ্ঞা শুরু হলে সংসার ও ঋণের কিস্তি কীভাবে চলবে, তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন তিনি।

জেলেরা জানান, জুন থেকে অক্টোবর পর্যন্ত ইলিশ আহরণের সময়টিই তাঁদের বছরের প্রধান আয়ের মৌসুম। এ সময়ের আয়ের ওপর অনেক পরিবারের খাবার, সন্তানদের পড়াশোনা ও চিকিৎসা খরচ নির্ভর করে। এবার মাছ কম থাকায় সেই আয়ও কমে গেছে।

জেলা মৎস্য কর্মকর্তার কার্যালয় জানায়, চলতি মৌসুমের জুন থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত জেলায় ইলিশ আহরণ নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রায় পৌঁছায়নি। জেলা মৎস্য কর্মকর্তা এনামুল হক বলেন, অন্যান্য জেলার নদ-নদীতে তুলনামূলক বেশি ইলিশ ধরা পড়লেও সুগন্ধা ও বিষখালীতে ইলিশের উপস্থিতি কম। পানিদূষণ ও নদীতে পলি জমার কারণে এমনটি হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

নিষেধাজ্ঞা শুরু হলে মাছ ধরার আয় পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাবে। তবে ঋণের কিস্তি ও দাদনের টাকা পরিশোধের চাপ থাকবে। তাই নিষেধাজ্ঞার আগে নদীতে বড় ইলিশের ঝাঁক পাওয়ার আশায় দিন গুনছেন ঝালকাঠির জেলেরা।