প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, পরিবার ও কমিউনিটি থেকে স্বাস্থ্যসেবার সূচনা করে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবাকে দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থার মূল ভিত্তি হিসেবে গড়ে তুলতে চায় সরকার। ‘প্রতিকারের চেয়ে প্রতিরোধই উত্তম’ নীতিতে স্বাস্থ্যব্যবস্থার রূপান্তর ঘটানো হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে ‘প্রতিশ্রুতি থেকে কার্যকর পদক্ষেপ’ শীর্ষক উচ্চপর্যায়ের এক সাইড ইভেন্টে উদ্বোধনী বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সুইডেন ও ইউএনএফপিএ-এর অংশীদারত্বে বাংলাদেশ এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

প্রধানমন্ত্রী জানান, সরকার আরও এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের পরিকল্পনা করেছে, যার ৮০ শতাংশই নারী। পাশাপাশি ২০৩০ সালের মধ্যে দেশে পেশাদার মিডওয়াইফের সংখ্যা ২৫ হাজারে উন্নীত করার লক্ষ্য রয়েছে। বর্তমানে দেশে ১১ হাজারের বেশি লাইসেন্সপ্রাপ্ত মিডওয়াইফ রয়েছেন।

তিনি বলেন, মিডওয়াইফরা গর্ভকালীন সেবা, নিরাপদ প্রসব, জটিলতা শনাক্তকরণ, মা ও নবজাতকের সেবা এবং প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে উচ্চতর স্বাস্থ্যকেন্দ্রে রেফার করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন। ইউএনএফপিএ-এর সহযোগিতায় ২২ জেলায় মিডওয়াইফ-নেতৃত্বাধীন সেবা সম্প্রসারণ করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

নারীর স্বাস্থ্যসেবা শুধু গর্ভধারণ ও সন্তান প্রসবের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে জীবনের প্রতিটি পর্যায়ে নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেন তারেক রহমান। কিশোরীদের স্বাস্থ্য, প্রজননস্বাস্থ্য, পরিবার পরিকল্পনা এবং জরায়ুমুখ ও স্তন ক্যান্সার প্রতিরোধ ও প্রাথমিক শনাক্তকরণের কথাও তুলে ধরেন তিনি।

সমন্বিত ডিজিটাল স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রত্যেক নাগরিকের জন্য হেলথ কার্ড চালু করা হবে, যা ডিজিটাল স্বাস্থ্য রেকর্ড ও ইলেকট্রনিক রেফারেল ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত থাকবে।

তিনি বলেন, প্রত্যেক নারী যেন নিজ বাসস্থানের কাছাকাছি দক্ষ পেশাদার মিডওয়াইফের সেবা পান—এটাই বাংলাদেশের লক্ষ্য। এ জন্য দেশব্যাপী মিডওয়াইফ নিয়োগ, কমিউনিটিভিত্তিক স্বাস্থ্যসেবা ও রেফারেল ব্যবস্থা শক্তিশালী করার ওপর জোর দেন তিনি।