ডেঙ্গু এখন মহামারিতে পরিনত হয়েছে। শহর থেকে গ্রামে ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ছে। উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্র হতে জেলা মেডিকেলে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর বেশিরভাগই রাজধানী থেকে আসা।

পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলাসহ জেলার সর্বত্রই প্রতিনিয়ত বেড়েই চলছে ডেঙ্গু আক্রন্ত রোগীর সংখ্যা। গ্রামে ডেঙ্গু মশা বা লাভা না থাকলেও রাজধানী শহর থেকে মানুষ ডেঙ্গু নিয়ে গ্রামে আসছে। এর এতেই গ্রামে ছড়িয়ে পড়ছে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী। আক্রান্তদের মধ্যে কেউ কেউ ঢাকায় কর্মরত, আবার কেউবা ব্যবসা বানিজ্যের জন্য ঢাকায় গিয়ে আক্রান্ত হয়ে গ্রামের বাড়িতে ফিরে এসে উপজেলা কিংবা জেলা শহরে চিকিৎসা নিচ্ছেন বলে জানান কলাপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা।

সূত্র জানায়, চলতি মাসে ৫০ জন জ্বর নিয়ে কলাপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রে রক্ত পরিক্ষা করেছেন। এদের মধ্যে ১৩ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে শিশুও রয়েছে। এদের মধ্যে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৮ জন। বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে ৫ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী।

গত ২৪ ঘন্টায় পটুয়াখালী জেলায় ৩৩ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে ৩ শিশু রয়েছে। আর গত ছয়মাসে আক্রান্ত হয়েছেন ৪৫৭ জন। এদের মধ্যে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৩৫২ জন। বর্তমানে জেলা সদর সহ বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন ১০৫ জন রোগী। আক্রান্ত রোগীদের সুস্থ করে তুলতে উন্নত চিকিৎসা সেবা দিচ্ছেন হাসপাতালের চিকিৎসক ও সেবিকারা। তবে এডিস মশার উৎপত্তিস্থল ধ্বংসে সাধারণ মানুষের সচেতনতা কিংবা এখন পর্যন্ত কোন অভিযানে নামেনি প্রশাসন।

কলাপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রে চিকিৎসা নিতে আসা ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী নাজমুল, মোঃ আল-আমিন জানান, তারা ঢাকায় অবস্থান্রত থাকাকালীন ডেঙ্গু আক্রান্ত হলেও উপজেলা সরকারি হাসপাতালে ভর্তি হয়ে এখন তারা প্রায় সুস্থ হয়ে উঠছেন। কুয়াকাটা থেকে চিকিৎসা নিতে আসা সাইফুল বলেন, বেশ কিছুদিন ধরে তার শরীরে জ্বর এসে আবার চলে যাচ্ছে। বিষয়টি সন্দেহ হলে কুয়াকাটা ২০ শয্যা বিশিষ্ট সরকারি হাসপাতালে পরিক্ষা করালে তার ডেঙ্গু শনাক্ত হলে উন্নত চিকিৎসা সেবাদানে উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রে রেফার করেন কর্মরত চিকিৎসক। হাসপাতালে তাদের গুরুত্ব সহকারে চিকিৎসা সেবা পাচ্ছেন তারা।

কলাপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা চিন্ময় হাওলাদার বলেন, ডেঙ্গুর প্রকোপ বেড়ে যাওয়ায় প্রতিনিয়ত জ্বর নিয়ে হাসপাতালে এসে রক্ত পরিক্ষা করছেন মানুষ। এদের মধ্যে যারা ডেঙ্গু আক্রান্ত তাদের যথাসাধ্য চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন রোগীরা। অনেকেই জেলা শহরে গিয়ে উন্নত চিকিৎসা নিচ্ছেন। আক্রান্ত রোগীদের অধিকাংশ শহর থেকে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে গ্রামের বাড়িতে ফিরে এসে উপজেলা কিংবা জেলা শহরে চিকিৎসা নিচ্ছেন।

পরিস্কার পরিচ্ছন্নতা ও সচেতনতাই পারে ডেঙ্গু প্রকোপ থেকে রক্ষা করতে। ভয়ের কোন কারণ নেই সময় মত সঠিক চিকিৎসা নিলে ডেঙ্গু আক্রান্ত হওয়া থেকে নিরাপদ থাকবে বলে মনে করেন চিকিৎসকরা।