বিশ্বজুড়ে শান্তি, উন্নয়ন ও মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার নিয়ে আজ ২৪ অক্টোবর পালিত হচ্ছে জাতিসংঘ দিবস। ১৯৪৫ সালের এই দিনে জাতিসংঘ সনদ কার্যকর হওয়ার মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করে সংস্থাটি। এ বছর জাতিসংঘ প্রতিষ্ঠার ৮১ বছর পূর্ণ হলো।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ধ্বংসযজ্ঞের পর বিশ্বে শান্তি প্রতিষ্ঠা এবং ভবিষ্যতে আরেকটি বিশ্বযুদ্ধ প্রতিরোধের লক্ষ্য নিয়ে জাতিসংঘ গঠিত হয়। ১৯৪৫ সালের ২৫ এপ্রিল থেকে ২৬ জুন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের সান ফ্রান্সিসকোতে ৫০টি দেশের প্রতিনিধিরা আন্তর্জাতিক সংস্থাটি গঠনের বিষয়ে আলোচনা করেন এবং জাতিসংঘ সনদ প্রণয়ন ও স্বাক্ষর করেন।
চীন, ফ্রান্স, সোভিয়েত ইউনিয়ন, যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রসহ প্রয়োজনীয় সংখ্যক দেশ সনদটি অনুমোদন করার পর ১৯৪৫ সালের ২৪ অক্টোবর জাতিসংঘ আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যক্রম শুরু করে।
বর্তমানে জাতিসংঘের সদস্যরাষ্ট্র ১৯৩টি। আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তা রক্ষা, মানবাধিকার প্রতিষ্ঠা, দারিদ্র্য ও ক্ষুধা দূরীকরণ, যুদ্ধ ও দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং আন্তর্জাতিক আইন সমুন্নত রাখতে সংস্থাটি কাজ করছে। পাশাপাশি টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জন ও জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় সদস্যদেশগুলোর মধ্যে সহযোগিতা বাড়াতেও ভূমিকা রাখছে।
জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস দিবসটি উপলক্ষে দেওয়া বার্তায় বলেছেন, মানবতার ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে শান্তি, উন্নয়ন ও মানবাধিকার প্রতিষ্ঠায় সম্মিলিতভাবে কাজ করার সক্ষমতার ওপর। সংঘাতের পরিবর্তে সংলাপ, মুখোমুখি অবস্থানের পরিবর্তে সহযোগিতা এবং ভয়ের পরিবর্তে সংহতিকে গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, বর্তমান বিশ্ব সংঘাত, জলবায়ু সংকট, ক্রমবর্ধমান বৈষম্য এবং দ্রুত পরিবর্তনশীল প্রযুক্তির নানা চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় জাতিসংঘ সনদ ও আন্তর্জাতিক আইন মেনে চলার পাশাপাশি সংস্থাটিকে আরও শক্তিশালী করা প্রয়োজন।
প্রতি বছর জাতিসংঘ দিবস বিশ্বদেশগুলোর মধ্যে ঐক্য ও সহযোগিতার গুরুত্ব তুলে ধরে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিদের একত্র হয়ে অভিন্ন সমস্যা নিয়ে আলোচনা এবং মানবজাতির কল্যাণে যৌথ সমাধান খুঁজে নেওয়ার লক্ষ্যকে সামনে রেখে দিবসটি পালিত হয়।
সূত্র: জাতিসংঘের ওয়েবসাইট
মন্তব্য করুন