পটুয়াখালীর কুয়াকাটায় একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা, ভাঙচুর ও নগদ টাকা লুটের অভিযোগে স্থানীয় এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় লিখিত অভিযোগ দায়েরের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওকে কেন্দ্র করে অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত মাকসুদ আকনকে আটক করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদেরও আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ১৯ ফেব্রুয়ারি সকাল আনুমানিক ১০টা ২০ মিনিটে কুয়াকাটার ‘তানিসা আচার ঘর’ নামের একটি দোকানে এ হামলার ঘটনা ঘটে। অভিযোগে বলা হয়েছে, অভিযুক্তরা আরও তিন থেকে চারজন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকে সঙ্গে নিয়ে দোকানে প্রবেশ করে ম্যানেজার মো. হাসানকে বাইরে ডেকে নেয়। এ সময় কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে তাকে এলোপাতাড়ি মারধর করা হয়। এতে তিনি শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতপ্রাপ্ত হন।
পরবর্তীতে হামলাকারীরা দোকানের ভেতরে ঢুকে মালামাল ভাঙচুর করে এবং ক্যাশবাক্সে থাকা প্রায় ২২ হাজার টাকা নিয়ে যায় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। ম্যানেজারের চিৎকারে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এলে অভিযুক্তরা প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে দ্রুত সটকে পড়ে।
ঘটনার পর ব্যবসায়ী মো. মনির হাওলাদার (৪০) মহিপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগে মো. মাকসুদ আকন (৩০), মো. শাহীন মুসুল্লী (২৮), মো. রহিম (৩০)সহ অজ্ঞাতনামা তিন থেকে চারজনকে আসামি করা হয়েছে।
এদিকে ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হলে পুলিশ নড়েচড়ে বসে। অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত মাকসুদ আকন (৩০)কে গ্রেপ্তার করা হয়। বৃহস্পতিবার রাতে পটুয়াখালী জেলা পুলিশের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সাজেদুল ইসলাম গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, গ্রেপ্তার ব্যক্তিকে আদালতের মাধ্যমে পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়ায় সোপর্দ করা হবে এবং অন্য জড়িতদেরও দ্রুত আইনের আওতায় আনার চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
অন্যদিকে, অভিযুক্ত মাকসুদ আকন কুয়াকাটা পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য হওয়ায় সংগঠনটি তাকে দলের সব পর্যায়ের পদ থেকে বহিষ্কার করেছে। বৃহস্পতিবার বিকেলে পটুয়াখালী জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের দপ্তর সম্পাদক আতিকুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় ব্যবসায়ীরা দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
মন্তব্য করুন