দেশে গ্যাস সংকট, সিলিন্ডারের অভাব, দাম বৃদ্ধি এবং নিরাপত্তার ঝুঁকির কারণে শহুরে পরিবারগুলোতে বৈদ্যুতিক চুলার ব্যবহার বেড়েছে বহুগুণ। জনপ্রিয় হয়ে উঠছে ‘ইন্ডাকশন চুলা’। এটি কেবল আধুনিকই নয়, বরং রান্নার খরচ এবং সময়ের দিক থেকেও অনেক বেশি সাশ্রয়ী।

ইন্ডাকশন চুলা কী এবং কীভাবে কাজ করে:-

ইন্ডাকশন চুলা মূলত ইলেকট্রোম্যাগনেটিক শক্তির মাধ্যমে কাজ করে। এর ভেতরে থাকা কয়েল থেকে চৌম্বকীয় আবেশ তৈরি হয়, যা সরাসরি রান্নার পাত্রটিকে গরম করে। এতে চুলা নিজে গরম হয় না, বরং কেবল পাত্রটি উত্তপ্ত হয়।

ইন্ডাকশন চুলার সুবিধাসমূহ:-

সাশ্রয়ী: গ্যাসের তুলনায় ইন্ডাকশন চুলায় রান্না খরচ অনেক কম। এটি প্রায় ৯০% তাপ সরাসরি পাত্রে সরবরাহ করে, যেখানে গ্যাসে মাত্র ৩৫-৫০% তাপ কাজে লাগে।

দ্রুত রান্না: এই চুলায় পানি ফুটতে বা রান্না হতে গ্যাসের তুলনায় অর্ধেক সময় লাগে।

নিরাপত্তা: এতে আগুনের শিখা নেই, ফলে ঘর গরম হয় না এবং পুড়ে যাওয়ার ঝুঁকি কম। পাত্র সরিয়ে নিলে চুলা স্বয়ংক্রিয়ভাবে বন্ধ হয়ে যায়।

পরিচ্ছন্নতা: এর উপরের অংশ কাঁচের (সিরামিক) হওয়ায় রান্না শেষে সহজেই মুছে পরিষ্কার করা যায়।

অটো টাইমার: রান্নার সময় সেট করে দেওয়া যায়, ফলে নির্দিষ্ট সময় পর চুলা একা একাই বন্ধ হয়ে যাবে।

কিছু অসুবিধা:-

নির্দিষ্ট পাত্র: সব ধরনের হাড়ি-পাতিল এতে ব্যবহার করা যায় না। যে পাত্রের নিচে চুম্বক লাগে (যেমন: স্টেইনলেস স্টিল বা কাস্ট আয়রন), কেবল সেগুলোই এতে চলবে। অ্যালুমিনিয়াম বা মাটির পাত্র এতে কাজ করবে না।

বিদ্যুৎ বিভ্রাট: লোডশেডিং হলে রান্না বন্ধ হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে।

প্রাথমিক খরচ: ভালো মানের একটি চুলার দাম সাধারণ গ্যাসের চুলার চেয়ে কিছুটা বেশি হতে পারে।
বাংলাদেশের বাজারে জনপ্রিয় ব্র্যান্ড ও দামের তালিকা (২০২৬)

বাংলাদেশে বর্তমানে ওয়ালটন, ভিশন এবং মিয়াকোর মতো ব্র্যান্ডগুলো গ্রাহকদের পছন্দের শীর্ষে রয়েছে।

কেনার আগে যা মাথায় রাখবেন:-

১. ওয়াট চেক করুন: অন্তত ২০০০ ওয়াটের চুলা কেনা ভালো, এতে রান্না দ্রুত হয়।
২. ইনভার্টার প্রযুক্তি: বিদ্যুৎ সাশ্রয় করতে ‘ইনভার্টার টেকনোলজি’ সমৃদ্ধ চুলা বেছে নিন।
৩. ওয়ারেন্টি: দীর্ঘস্থায়ী ব্যবহারের জন্য অন্তত ১-২ বছরের অফিসিয়াল ওয়ারেন্টি আছে এমন ব্র্যান্ড কিনুন।বিশেষজ্ঞদের মতে,

সচেতনভাবে ব্যবহার করলে একটি মাঝারি পরিবারের জন্য ইন্ডাকশন চুলা মাসে অন্তত ৫০০ থেকে ৭০০ টাকা সাশ্রয় করতে পারে।