পটুয়াখালীর সদর উপজেলার মাদারবুনিয়া ইউনিয়নের একটি বেসরকারি এতিমখানায় সরকারি অনুদানের অর্থ লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। নীতিমালা উপেক্ষা করে অপ্রয়োজনীয় বরাদ্দ এনে এবং শিশুদের প্রকৃত সংখ্যা গোপন রেখে এই দুর্নীতির আশ্রয় নেওয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে।

পটুয়াখালী সদর উপজেলার মাদারবুনিয়া ইউনিয়নের উত্তর চারাবুনিয়া ফারুকীয় হাফেজিয়া শিশু সদন নামে একটি বেসরকারি এতিমখানায় এতিম ও দুঃস্থ শিশুদের জন্য সরকারি বরাদ্দের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী যথাযথ আবাসন ও শিশু সংখ্যার ভিত্তিতে বরাদ্দ নির্ধারণ করার কথা থাকলেও, এখানে বাস্তবে প্রয়োজনীয় শিশু না থাকা সত্ত্বেও অতিরিক্ত বরাদ্দ এনে টাকা উত্তোলন করা হচ্ছে।

২০২৪-২৫ অর্থ বছরে ৮৫ জন এতিম ও দুঃস্থ শিশুর নামে দুই হাজার টাকা হারে মোট ২০ লাখ ৪০ হাজার টাকার ক্যাপিটেশন গ্রান্ট বরাদ্দ আনা হয়। এর মধ্যে প্রথম ছয় মাসেই ১০ লাখ ২০ হাজার টাকা উত্তোলন করা হয়েছে। কিন্তু গত ১৯ এপ্রিল সরেজমিন পরিদর্শনে গিয়ে দেখা যায়, মাত্র ১৬ জন শিশু প্রতিষ্ঠানটিতে অবস্থান করছে, যার মধ্যে প্রকৃত এতিম মাত্র তিনজন।

নীতিমালায় উল্লেখ রয়েছে, এতিম শিশুদের জন্য বিনামূল্যে আবাসন, খাবার, চিকিৎসা ও পোশাকের ব্যবস্থা করতে হবে। কিন্তু এখানকার শিশুদের কাছ থেকে মাসে এক হাজার থেকে দেড় হাজার টাকা পর্যন্ত আদায় করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন শিশুরা নিজেরাই। এমনকি স্থানীয় কয়েকজন অভিভাবকও এই অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষক হাফেজ আবুল হাসান জানান, মোট ৬০ জন শিক্ষার্থী রয়েছে দাবি করা হলেও উপস্থিত পাওয়া গেছে অনেক কম। শিক্ষক সংখ্যা ৮ জন বলা হলেও উপস্থিত ছিলেন মাত্র ৩ জন।

স্থানীয় দোকানদার ও জামেয়া আশরাফিয়া মাদানিয়া মাদ্রাসার অধ্যক্ষসহ একাধিক সূত্র জানায়, বছরে দুবার সরকারি বিল উত্তোলনের সময় আশেপাশের মাদ্রাসা থেকে শিক্ষার্থী ও শিক্ষক ভাড়া করে এনে সংখ্যা বাড়িয়ে দেখানো হয়।

এই অনিয়ম সম্পর্কে জানতে চাইলে প্রতিষ্ঠাতা মো. ফারুক হোসাইন নিজেকে বিএনপির সাবেক নেতা পরিচয় দিয়ে বলেন, “আমার প্রতিষ্ঠানের ক্ষতি হয় এমন কিছু করবেন না।”

এ বিষয়ে সদর উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. জহিরুল ইসলাম জানান, “আমি দুই মাস আগে দায়িত্ব নিয়েছি। সরেজমিন পরিদর্শনে গিয়ে উপস্থিতি কম থাকায় বরাদ্দ ৭০ জন থেকে কমিয়ে ৫০ জন করার সুপারিশ করেছিলাম। তবে কিভাবে বরাদ্দ ৮৫ জনে বৃদ্ধি পেয়েছে তা জানা নেই। তদন্তে অনিয়মের প্রমাণ মিললে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”