নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় পি.আই. ওশান টেক্স নামের একটি তৈরি পোশাক কারখানার প্রবেশপথ বন্ধ করে দেওয়া, ৭৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি, মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ তুলেছেন প্রতিষ্ঠানটির মালিক মো. তৈয়ব মিয়া। এসব ঘটনার প্রতিকার এবং কারখানার স্বাভাবিক কার্যক্রম চালুর দাবিতে বুধবার রাজধানীর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) সাগর-রুনি মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলন করেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে তৈয়ব মিয়া বলেন, নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার দাপা ইদ্রাকপুর এলাকায় তাঁর শতভাগ রপ্তানিমুখী তৈরি পোশাক কারখানাটি অবস্থিত। ২০২২ সালের ১৯ এপ্রিল নিবন্ধিত সাফকবলা দলিলের মাধ্যমে তিনি ১৭ শতাংশ জমি কেনেন। জমিসংক্রান্ত দলিলে ১০ ফুট প্রশস্ত একটি এজমালি রাস্তার উল্লেখ রয়েছে, যা ব্যবহার করে প্রায় চার বছর ধরে কারখানার কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছিলেন তিনি।

তাঁর অভিযোগ, ২০২৬ সালের মার্চে এইচ এ এম মাহমুদুর রহমান নামের এক ব্যক্তি কারখানার সামনের সাত শতাংশ জমির মালিকানা দাবি করে তাঁর কাছে ৭৫ লাখ টাকা চাঁদা চান। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে কারখানার প্রবেশপথ বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়। পরে কারখানায় হামলা চালিয়ে শ্রমিক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বের করে দেওয়া হয়। একপর্যায়ে কারখানার চলাচলের রাস্তায় ৮ থেকে ১০ ফুট উঁচু দেয়াল নির্মাণ এবং ঢালাই করা রাস্তার ওপর ময়লা-আবর্জনা ও বয়লারের বর্জ্য ফেলে চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

তৈয়ব মিয়া বলেন, রাস্তা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় কারখানায় কাঁচামাল আনা-নেওয়া, পণ্য পরিবহন ও শ্রমিকদের যাতায়াত ব্যাহত হচ্ছে। উৎপাদন বন্ধ থাকায় আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি বিদেশি ক্রেতাদের অর্ডার ও রপ্তানি চুক্তিও বাতিল হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। এতে শতাধিক শ্রমিকের কর্মসংস্থান ও তাঁদের পরিবারের জীবিকা অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। ব্যবসায়িক কার্যক্রম বন্ধ থাকায় ব্যাংকঋণের কিস্তি পরিশোধেও জটিলতা তৈরি হয়েছে।

তিনি আরও জানান, ৭ এপ্রিল ২০২৬ তারিখের ঘটনা নিয়ে ফতুল্লা থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন, যার নম্বর ৬৩০। এ ছাড়া রাস্তার অধিকার প্রতিষ্ঠার দাবিতে দেওয়ানি আদালতে মামলা করেছেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন আদালতে তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক দেওয়ানি ও ফৌজদারি মামলাও করা হয়েছে। এসব মামলার প্রেক্ষাপট ও উদ্দেশ্য নিরপেক্ষভাবে তদন্তের দাবি জানান তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে তৈয়ব মিয়া জমির দলিল, নকশা ও সংশ্লিষ্ট রেকর্ড যাচাই করে এজমালি রাস্তার অধিকার নির্ধারণ, কারখানার প্রবেশপথ সচল করা, চাঁদা দাবি ও জালিয়াতির অভিযোগ তদন্ত এবং তাঁর প্রতিষ্ঠান ও শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

তিনি বলেন, দ্রুত কার্যকর প্রতিকার না পেলে কারখানা বন্ধ রাখা এবং বাংলাদেশে বিনিয়োগ গুটিয়ে নেওয়ার মতো কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হতে পারে। তবে তিনি কোনো সংঘাত চান না; বরং আইন অনুযায়ী নিজের অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং কারখানার উৎপাদন কার্যক্রম পুনরায় চালু করতে চান।