পুষ্টিগুণসমৃদ্ধ ও লাভজনক অর্থকরী ফসল হিসেবে পরিচিত চীনা বাদামের আবাদ এবার শ্রীমঙ্গলে আশাব্যঞ্জক অবস্থানে পৌঁছেছে। উপজেলার মাটি ও আবহাওয়া চীনা বাদাম চাষের জন্য উপযোগী হওয়ায় চলতি মৌসুমে ৩ হেক্টর জমিতে এ ফসলের চাষাবাদ হয়েছে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উদ্যোগে স্থাপন করা হয়েছে ৫টি প্রদর্শনী প্লট। কৃষি বিভাগ আশা করছে, এ মৌসুমে চীনা বাদামের খুব ভালো ফলন হবে এবং আগামীতে কৃষকদের আগ্রহ আরও বাড়বে।

শ্রীমঙ্গল উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা উজ্জ্বল সূত্রধর জানান, আধুনিক প্রযুক্তির সম্প্রসারণ এবং আবাদ বৃদ্ধি করার লক্ষ্যে কৃষকদের মাঝে প্রণোদনা সহায়তা প্রদান ও প্রদর্শনী প্লট স্থাপন করা হয়েছে। তিনি বলেন, ‘চীনা বাদাম একটি লাভজনক অর্থকরী ফসল। তুলনামূলক কম খরচে এর চাষাবাদ করা যায় এবং বাজারমূল্যও ভালো থাকায় কৃষকরা আর্থিকভাবে লাভবান হওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘শ্রীমঙ্গলের মাটি ও আবহাওয়া চীনা বাদাম চাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী। তাই কৃষকদের এ ফসল আবাদে উৎসাহিত করা হচ্ছে। মাঠ পর্যায়ে নিয়মিত কারিগরি পরামর্শ প্রদান করা হচ্ছে এবং প্রদর্শনী প্লটের মাধ্যমে আধুনিক চাষাবাদ পদ্ধতি হাতে-কলমে দেখানো হচ্ছে।’

কৃষি সম্প্রসারণ অফিস সূত্রে জানা যায়, চীনা বাদাম অত্যন্ত পুষ্টিকর একটি শস্য। এতে রয়েছে প্রোটিন, ফাইবার, স্বাস্থ্যকর ফ্যাট, ভিটামিন-ই ও ক্যালসিয়ামসহ নানা পুষ্টি উপাদান। এটি হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে, ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে, রক্তের শর্করা নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করতে এবং স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধিতে কার্যকর ভূমিকা রাখে।

উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা রনি দেব রায় জানান, রবি মৌসুমে পানির অভাবে উঁচু বা মাঝারি উঁচু জমিতে ফসল আবাদ একটি বড় চ্যালেঞ্জ। তবে মাটির গঠন ও পানির উৎস বিবেচনায় উপজেলার সাতগাঁও ইউনিয়নের আমরাইলছড়ায় রবি প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় চীনা বাদাম চাষের উদ্যোগ নেওয়া হয়।

তিনি বলেন, ‘কৃষক সাধন দাসের ৩৩ শতক জমিতে কৃষি অফিসের সহায়তায় চীনা বাদামের চাষ করা হয়েছে। তাকে বীজ ও সার প্রদান করা হয়েছে। শুরুতে কৃষকের পূর্ব অভিজ্ঞতা না থাকলেও মাঠ পর্যায়ে সার্বক্ষণিক পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে আশপাশের কৃষকরাও এ ফসল দেখে উৎসাহিত হয়েছেন এবং আগামী মৌসুমে বাদাম চাষে আগ্রহ প্রকাশ করছেন।’

উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা সুমা পাল জানান, এবার উপজেলার আমরাইলছড়া, সাতগাঁও, শ্রীমঙ্গল সদর, ভূনবীর, সিন্দুরখান, আশীদ্রোন ও কালাপুর এলাকায় চীনা বাদামের আবাদ হয়েছে। প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় কৃষকদের বীজ ও সার বিতরণ করা হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘এবার শ্রীমঙ্গলে ৩ হেক্টর জমিতে চীনা বাদামের চাষ হয়েছে। ৫টি প্রদর্শনী প্লট স্থাপন করা হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে খুব ভালো ফলন পাওয়া যাবে বলে আশা করছি।’

কৃষি সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, কম খরচে অধিক লাভ এবং পুষ্টিগুণের কারণে শ্রীমঙ্গলে চীনা বাদামের আবাদ দিন দিন জনপ্রিয় হয়ে উঠবে। এর মাধ্যমে কৃষকদের আয় বৃদ্ধির পাশাপাশি পুষ্টি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে এ ফসল।