২৩ বছর পর পটুয়াখালীতে জেলা..
প্রকাশ: ৩০ জুন ২০২৫ । ১৯:৩৬ | আপডেট: ৩০ জুন ২০২৫ । ১৯:৩৬
অপূর্ব সরকার, পটুয়াখালী করেসপন্ডেন্ট :-
পটুয়াখালীতে দীর্ঘ ২৩ বছর পর অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) জেলা শাখার বহুল প্রত্যাশিত সম্মেলন। আগামী ২ জুলাই সকালে ব্যায়ামাগার মাঠে এ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। এরই মধ্যে সম্মেলন ঘিরে জেলায় বইছে উৎসবের হাওয়া, শহরজুড়ে পোস্টারিং, ব্যানার, মিছিল-মিটিং এবং সামাজিক মাধ্যমে প্রচারনায় মুখর নেতাকর্মীরা। সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে ভার্চুয়ালি যুক্ত থাকবেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
সোমবার (৩০ জুন) জেলা বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে সম্মেলন ঘিরে যে উৎসাহ-উদ্দীপনার ঝড় বইছে তার সূচনা হয় ২৪ জুন কেন্দ্রীয় বিএনপির পাঠানো এক চিঠির মাধ্যমে। সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর স্বাক্ষরিত চিঠিতে ২ জুলাই পটুয়াখালী জেলা বিএনপির সম্মেলনের সময় ও স্থান নির্ধারণ করা হয়। চিঠিটি পাঠানো হয় আহ্বায়ক আব্দুর রশিদ চুন্নু মিয়া এবং সদস্য সচিব স্নেহাংশু সরকার কুট্টি বরাবরে।
জেলা বিএনপির সর্বশেষ সম্মেলন হয়েছিল ২০০২ সালের ১৫ এপ্রিল। সে সময় সভাপতি হন আলতাফ হোসেন চৌধুরী এবং সাধারণ সম্পাদক স্নেহাংশু সরকার কুট্টি। এরপর ২০১৩ সালে পূর্ণাঙ্গ কমিটি অনুমোদন পায় এবং ২০২০ সালের নভেম্বর পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করে। এরপর ৩১ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটি দায়িত্ব পালন করছে। ফলে দীর্ঘদিন পর এ সম্মেলনকে কেন্দ্র করে নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
দলীয় সূত্র জানায়, জেলার ৮ উপজেলা, ৫ পৌরসভা ও আহ্বায়ক ইউনিটসহ ১৪টি ইউনিটের ১৩৭৯ জন কাউন্সিলর তাদের ভোটের মাধ্যমে জেলা বিএনপির নতুন নেতৃত্ব নির্বাচন করবেন। সম্মেলনের সভাপতি থাকবেন জেলা বিএনপির আহ্বায়ক আব্দুর রশিদ চুন্নু মিয়া।
প্রধান অতিথি হিসেবে ভার্চুয়ালি বক্তব্য রাখবেন তারেক রহমান। প্রধান বক্তা থাকবেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল আউয়াল মিন্টু।
বিশেষ অতিথি হিসেবে থাকবেন কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান ও সাবেক মন্ত্রী আলতাফ হোসেন চৌধুরী, কেন্দ্রীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আকন কুদ্দুসুর রহমান, মাহাবুল হক নান্নু, প্রশিক্ষণ বিষয়ক সম্পাদক এবিএম মোশারফ হোসেন ও সদস্য মো. হাসান মামুন।
তবে সম্মেলনের আগে থেকেই জেলা বিএনপিতে দুটি শিবিরের তৎপরতা চোখে পড়ছে। একদিকে রয়েছেন কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি ও সাবেক মন্ত্রী আলতাফ হোসেন চৌধুরী এবং তার অনুসারীরা, অন্যদিকে বর্তমান আহ্বায়ক কমিটির সদস্য সচিব স্নেহাংশু সরকার কুট্টি ও তার সমর্থকরা। এই দুই পক্ষই নিজ নিজ পছন্দের প্রার্থীকে বিজয়ী করতে প্রচার-প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছে। শহর থেকে গ্রাম পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়েছে ব্যানার, পোস্টার, ডিজিটাল ফ্লেক্স এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারণা।
সভাপতি পদে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় রয়েছেন আহ্বায়ক আব্দুর রশিদ চুন্নু মিয়া, সদস্য সচিব স্নেহাংশু সরকার কুট্টি এবং সদস্য মাকসুদ আহমেদ বায়েজীদ পান্না। পান্নাকে সাবেক মন্ত্রী আলতাফ হোসেন চৌধুরীর ঘনিষ্ঠ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
সাধারণ সম্পাদক পদের জন্য আলোচনায় রয়েছেন অ্যাডভোকেট মো. মজিবুর রহমান টোটন, দেলোয়ার হোসেন নান্নু, জেলা যুবদলের সাবেক সভাপতি মনিরুল ইসলাম লিটন, ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি বশির আহমেদ মৃধা এবং যুবদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক তৌফিক আলী খান কবির।
সভাপতি পদপ্রার্থী মাকসুদ আহমেদ বায়েজীদ পান্না বলেন, “আমি দলের একজন পরিশ্রমী ও পরীক্ষিত কর্মী। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান, বেগম খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের আদর্শে আমি বিশ্বাসী। তাই বিশ্বাস করি কাউন্সিলররা আমাকে ভোট দিয়ে সভাপতি নির্বাচিত করবেন।”
অন্যদিকে সদস্য সচিব স্নেহাংশু সরকার কুট্টি বলেন, “২ জুলাইয়ের সম্মেলনের জন্য কেন্দ্র থেকে চিঠি পাওয়ার পর আমরা সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নিচ্ছি। নেতৃত্বে প্রতিযোগিতা থাকতে পারে, কিন্তু তা বিভাজন নয়।”
কোন পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন—এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “দলের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত। আমি মাঠের কর্মী হিসেবে কাজ করেছি, নেতাকর্মীদের সিদ্ধান্তই আমার পথ নির্ধারণ করবে।”
দীর্ঘ ২৩ বছর পর এই সম্মেলনকে কেন্দ্র করে পটুয়াখালীতে বিএনপির রাজনীতিতে প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে এসেছে। নেতা-কর্মীদের সক্রিয় অংশগ্রহণ এবং নেতৃত্ব নির্বাচনের অপেক্ষায় দিন গুনছে জেলা বিএনপি।
উপদেষ্টা সম্পাদকঃ রোমান চৌধুরী।
প্রকাশকঃ সানজিদা রেজিন মুন্নি।
সম্পাদকঃ কামরুজ্জামান বাঁধন।
নির্বাহী সম্পাদকঃ মোঃ জালাল উদ্দিন জুয়েল।
মোবাইলঃ ০১৭১১-৯৫৭২৬৩, ০১৭১২-৮৩১৪৪৭
মেইলঃ rhbnews247@gmail.com, CC: rhbnews.nd@gmail.com
ঢাকা অফিসঃ এ্যাড পার্ক, ওয়াজী কমপ্লেক্স (৯ম তলা), ৩১/সি, তোপখানা রোড, সেগুনবাগিচা, ঢাকা -১০০০.