বরগুনার তালতলীতে স্থানীয় প্রভাবশালী ফারুক মোল্লা দীর্ঘদিন ধরে আমখোলা খাল দখল করে মাছ চাষ করে আসছিলেন। এতে ঐ এলাকার ৫ শতাধিক কৃষকের প্রায় ৭০ একর জমি চাষাবাদ করতে পারছিলেন না। এই অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে উপজেলা প্রশাসন ঐ খালটি উদ্ধার করে দিয়েছে।
বৃহস্পতিবার(০৩ আগষ্ট) বিকালে উপজেলার কবিরাজ পাড়া এলাকার আমখোলা খালটি উদ্ধার করে সহকারী কমিশনার (ভূমি) অমিত দত্ত।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার সোনাকাটা ইউনিয়নের কবিরাজ পাড়া এলাকার স্থানীয় প্রভাবশালী ফারুক মোল্লা পেশিশক্তি দেখিয়ে দীর্ঘদিন ধরে আমখোলা নামক একটি সরকারী প্রবাহমান খাল দখল করে দুটি বাঁধ নির্মান করে মাছ চাষ করে আসছিলেন। এতে ঐ এলাকার ৫ শতাধিক কৃষকদের প্রায় ৭০ একর কৃষি জমি চাষাবাদ করতে পারতেন না।
এবিষয়ে বিষয়ে ভুক্তভোগী কৃষকদের পক্ষে নজরুল, কালাম ও হারুন উপজেলা নির্বাহী অফিসারের বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ করেন। অভিযোগটি তদন্ত করে সরকারী খাল হওয়াতে দখলকৃত খালটি উদ্ধার করে দেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) অমিত দত্ত। খালটি দখলমুক্ত হওয়ায় এবং খালের পানির স্বাভাবিক প্রবাহ ফিরে আসায় এলাকার কৃষকদের মুখে হাসি ফুটেছে। খালের পানির স্বাভাবিক প্রবাহ বৃদ্ধিতে ফসলের উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে এবং উৎপাদন সহজ হবে বলে আশা করছেন কৃষকরা।
এবিষয়ে নজরুল, কালাম ও হারুন উপজেলা প্রশাসনকে ধন্যবাদ দিয়ে বলেন, এই এলাকার কৃষকদের দীর্ঘদিনের আশা ছিলো দখল করা খালটি উদ্ধারের। সেই আশা পূরণ হয়েছে। এখন এই এলাকায় কোনো জমি অনাবাদি থাকবে না।
এবিষয়ে ফারুক মোল্লার মুঠো ফোনে একাধিক বার কল দিলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
সহকারী কমিশনার(ভূমি) অমিত দত্ত বলেন, সরকারী খাল হওয়াতে সেটি দখল মুক্ত করে দেওয়া হয়েছে। খালটি প্রভাবশালীরা দখল করে রেখেছিলেন। বাঁধের এক পাশে পানি জমে থাকতো এবং অন্য পাশে শুকনো থাকায় ঐ এলাকার কৃষকরা কৃষি জমি চাষাবাদ করতে পারতেন না। তাছাড়া তরমুজ চাষের সময় পানি সংকট থাকতো খালটি দখল মুক্ত হওয়ায় এখন আর ওই এলাকার কৃষি জমি অনাবাদি থাকবে না বলে আশা করি।
মন্তব্য করুন