প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশের সব পোশাক কারখানা চালু রাখা এবং জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। একই সঙ্গে আগামী ডিসেম্বরকে কেন্দ্র করে কোনো ধরনের অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির অপচেষ্টা রাজনৈতিকভাবে মোকাবিলার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।
গতকাল সন্ধ্যায় সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত এক জরুরি বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী এসব নির্দেশনা দেন। বৈঠক শেষে শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।
বৈঠকে পোশাকশিল্পে চলমান শ্রমিক অসন্তোষ, বিক্ষোভ, সংঘর্ষ ও কারখানা ভাঙচুরের ঘটনা নিয়ে আলোচনা হয়। ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা করার দাবিতে গতকাল সকাল থেকে মিরপুর, গাজীপুর, আশুলিয়া ও সাভারে শ্রমিকরা বিক্ষোভ করেন। এর মধ্যে সরকার মজুরি বোর্ড গঠন করলেও বিভিন্ন স্থানে উত্তেজনা অব্যাহত থাকে। একপর্যায়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে প্রায় ৫২৯টি কারখানা বন্ধ হয়ে যায়।
শ্রমমন্ত্রী জানান, প্রধানমন্ত্রী কলকারখানা ও শিল্পপ্রতিষ্ঠানের স্বাভাবিক কার্যক্রম বজায় রাখা এবং জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সবাইকে সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়েছেন।
অন্যদিকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ অভিযোগ করেন, পোশাকশিল্পে অস্থিরতা সৃষ্টির পেছনে সীমান্তের ওপার থেকে ইন্ধন দেওয়া হচ্ছে। তাঁর দাবি, শ্রমিকদের ব্যবহার করে দেশের রপ্তানি বাণিজ্য ও উৎপাদন ব্যাহত করার চেষ্টা চলছে। এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, শ্রমিকদের স্বার্থ রক্ষায় সরকার মজুরি বোর্ড গঠন করেছে। শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়নে প্রধানমন্ত্রী সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়েছেন। একই সঙ্গে কারখানার মালিকদের উৎপাদন ও রপ্তানি কার্যক্রম সচল রাখতে এবং শ্রমিকদের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের আহ্বান জানান তিনি।
মন্তব্য করুন