বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট গভীর নিম্নচাপটি শক্তি বাড়িয়ে ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হয়েছে। নতুন সৃষ্ট এ ঘূর্ণিঝড় মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) ভোরে ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূলে আঘাত হানতে পারে।

রোববার (১ নভেম্বর) এক বিজ্ঞপ্তিতে এ পূর্বাভাস দিয়েছে ভারতের আবহাওয়া বিভাগ (আইএমডি)।

নতুন ঘূর্ণিঝড়টির নাম দেওয়া হয়েছে ‘মুরাসু’। এটি একটি তামিল শব্দ, যার অর্থ ‘ঢোল’। নামটি প্রস্তাব করেছে ভারত।

আইএমডির তথ্য অনুযায়ী, দক্ষিণ-পশ্চিম ও এর সংলগ্ন মধ্য-পশ্চিম বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত গভীর নিম্নচাপটি শক্তি সঞ্চয় করে ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিয়েছে। কয়েক দিন আগে ঘূর্ণিঝড় অর্ণবের আঘাতে অন্ধ্রপ্রদেশের বিভিন্ন এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর নতুন এ ঝড় নিয়ে রাজ্যটির উপকূলে আবারও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

আইএমডির মহাপরিচালক মৃত্যুঞ্জয় মহাপাত্র জানিয়েছেন, ঘূর্ণিঝড়টি আরও শক্তিশালী হয়ে প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নেওয়ার সামান্য আশঙ্কা রয়েছে। তবে আপাতত ঘূর্ণিঝড় হিসেবেই অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূলে আঘাত হানার পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।

পূর্বাভাস অনুযায়ী, মঙ্গলবার ভোরে ঝড়টি অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূলে আঘাত হানতে পারে। এ সময় বাতাসের গতিবেগ ঘণ্টায় ৮০ থেকে ৯০ কিলোমিটার থাকতে পারে। দমকা হাওয়ার গতিবেগ ঘণ্টায় ১০০ কিলোমিটার পর্যন্ত উঠতে পারে।

ঘূর্ণিঝড় মুরাসুর প্রভাবে ভারতের কয়েকটি রাজ্যে ভারী বৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে। ২ নভেম্বর অন্ধ্রপ্রদেশের উপকূলীয় এলাকা ও পুদুচেরির ইয়ানামে বিচ্ছিন্নভাবে অতি ভারী বৃষ্টি হতে পারে। ৩ নভেম্বর এসব এলাকায় ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া অন্ধ্রপ্রদেশের রায়ালসীমা অঞ্চলে ২ ও ৩ নভেম্বর অতি ভারী বৃষ্টি এবং ওড়িশার উপকূলীয় এলাকায় ৩ ও ৪ নভেম্বর ভারী বৃষ্টির সতর্কতা রয়েছে।

আইএমডি জানিয়েছে, ১ নভেম্বর সন্ধ্যা থেকে অন্ধ্রপ্রদেশ, উত্তর তামিলনাড়ু ও পুদুচেরি উপকূলে ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে। এ সময় বাতাসের গতিবেগ ঘণ্টায় ৬০ কিলোমিটার পর্যন্ত হতে পারে। ২ নভেম্বর বিকেলে অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূলে বাতাসের গতিবেগ ঘণ্টায় ৬৫ থেকে ৭৫ কিলোমিটার এবং দমকা হাওয়ার গতিবেগ ৮৫ কিলোমিটার পর্যন্ত হতে পারে। পরে ২ নভেম্বর সন্ধ্যা থেকে ৩ নভেম্বর সকাল পর্যন্ত বাতাসের গতিবেগ ঘণ্টায় ৮০ থেকে ৯০ কিলোমিটার এবং দমকা হাওয়ার গতিবেগ ১০০ কিলোমিটার পর্যন্ত উঠতে পারে।

অন্যদিকে, দক্ষিণ ওড়িশা উপকূলে ২ নভেম্বর সন্ধ্যা থেকে ঝোড়ো হাওয়া শুরু হতে পারে। ৩ নভেম্বর ভোর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত বাতাসের গতিবেগ ঘণ্টায় ৫০ থেকে ৬০ কিলোমিটার থাকতে পারে। দমকা হাওয়ার গতিবেগ ঘণ্টায় ৭০ কিলোমিটার পর্যন্ত উঠতে পারে। ৪ নভেম্বর থেকে পরিস্থিতির উন্নতি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

এদিকে, ঘূর্ণিঝড় মুরাসুর প্রভাব বাংলাদেশেও পড়তে পারে। এর প্রভাবে আগামী কয়েক দিন দেশের আট বিভাগ—রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ, ঢাকা, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেটের দু-এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর।