জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়সহ শিক্ষা খাতের প্রতিষ্ঠানগুলোকে নিজেদের উদ্যোগ ও দায়িত্ব নিয়ে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি বলেন, শুধু মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন বা সহযোগিতার ওপর নির্ভর করলে কোনো প্রতিষ্ঠান এগিয়ে যেতে পারবে না।

মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষাবৃত্তি ও ভাইস চ্যান্সেলর অ্যাওয়ার্ড অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, প্রতিষ্ঠানগুলোর নেতৃত্ব নিজেদেরই দিতে হবে। কী প্রয়োজন এবং কীভাবে তা করা যায়, সে বিষয়ে উদ্যোগ নিয়ে মন্ত্রণালয়ের কাছে প্রস্তাব দিতে হবে। ‘শুধু মন্ত্রণালয়ের ঘাড়ে বন্দুক রেখে গুলি করা আর চলবে না। ট্রিগার আমিও টানতে জানি। কাজ আমিও করতে জানি,’ বলেন তিনি।

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন উদ্যোগের প্রসঙ্গ তুলে মন্ত্রী বলেন, প্রতিষ্ঠানটির অধীনে প্রায় ২ হাজার ৩০৭টি কলেজ রয়েছে। এসব কলেজে কী পড়ানো হচ্ছে, শিক্ষক-শিক্ষার্থীর উপস্থিতি কেমন এবং শ্রেণিকক্ষে তাদের পারস্পরিক যোগাযোগ কেমন—এসব বিষয়ে কার্যকর নজরদারি প্রয়োজন।

তিনি বলেন, শ্রেণিকক্ষে সিসিটিভি ক্যামেরার মাধ্যমে পাঠদান ও উপস্থিতি পর্যবেক্ষণের ব্যবস্থা গড়ে তোলার চেষ্টা করছে সরকার। একই সঙ্গে অনার্স ও মাস্টার্স চালু থাকা কলেজগুলোতে শিক্ষার্থী-শিক্ষকের অনুপাতও পর্যালোচনা করতে হবে। এক বা দুজন শিক্ষার্থী থাকা সত্ত্বেও কোনো কোনো বিষয়ে অনার্স চালু রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

শিক্ষামন্ত্রী আরও বলেন, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের জন্য এবারের বাজেটে ১ লাখ ৩৬ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রয়েছে। এই অর্থ যথাযথভাবে ব্যয় করতে হবে। প্রতিটি টাকা ও পয়সার সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করার কোনো বিকল্প নেই।

অনুষ্ঠানে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এস এম আমানুল্লাহর সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি ছিলেন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেক। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক মো. লুৎফর রহমান, প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ, ট্রেজারার অধ্যাপক ড. মো. নাজমুল হোসাইনসহ অন্যরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।