ভয়াবহ আকস্মিক বন্যা ও হড়পা বানে নেপালের উত্তরাঞ্চলীয় সীমান্তবর্তী জেলা রাসুয়া এবং সীমান্তের অপর পাশে তিব্বতের গিরং জেলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৭৯৪ জনে দাঁড়িয়েছে। নিহতদের মধ্যে ৭৭৮ জন নেপালের এবং ১৬ জন তিব্বতের নাগরিক।

এ ঘটনায় নিখোঁজ রয়েছেন ৩ হাজার ৪৮ জন। তাদের মধ্যে নেপালের ২ হাজার ৫০২ জন এবং তিব্বতের ৫৪৬ জন। নিখোঁজদের মধ্যে নেপালি ও তিব্বতি নাগরিকের পাশাপাশি ভারত, যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড ও দক্ষিণ কোরিয়াসহ ৩৫টি দেশের প্রায় ৮০০ বিদেশি নাগরিক রয়েছেন।

গত ২৬ আগস্ট বুধবার ভোতিকোশি ও এর শাখানদী লেহন্দে নদীর একটি ব্যারিয়ার লেক ভেঙে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যার সৃষ্টি হয়। তুষার, পাথর বা অন্যান্য প্রাকৃতিক বাধায় নদীর পানি আটকে যে জলাধার তৈরি হয়, সেটিই ব্যারিয়ার লেক নামে পরিচিত।

লেকটি ভেঙে যাওয়ার পর লাখ লাখ ঘনমিটার পানি এবং এর সঙ্গে আসা বিপুল পরিমাণ কাদা, পাথর ও জঞ্জালে নেপালের রাসুয়া ও তিব্বতের গিরং জেলার বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়।

এই বন্যায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে রাসুয়া। এ ছাড়া জেলার পার্শ্ববর্তী নুয়াকোট, ধাদিং ও চিৎওয়ানেও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

ভয়াবহ এই বিপর্যয়ের পর নেপাল ও তিব্বতের ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় উদ্ধার ও ত্রাণ তৎপরতা শুরু হয়েছে। তবে বৈরী আবহাওয়া ও দুর্গম পার্বত্য অঞ্চলের কারণে বারবার বাধাগ্রস্ত হচ্ছে উদ্ধারকাজ।

নেপালের এক সামরিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, দুর্গত এলাকায় আটকে পড়াদের উদ্ধার, মরদেহের অনুসন্ধান এবং ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনায় হেলিকপ্টার ব্যবহার করা হচ্ছে। নেপালের প্রতিরক্ষা বাহিনী প্রতি ঘণ্টায় গড়ে ১৫টি হেলিকপ্টার ট্রিপ পরিচালনা করছে। সে হিসাবে প্রতিদিন প্রায় ৫০০টি উদ্ধারকারী ট্রিপ পরিচালিত হচ্ছে।

এদিকে চীন জানিয়েছে, ভোতেকোশি নদীতে আরও একটি ব্যারিয়ার লেক তৈরি হয়েছে। যেকোনো সময় সেটি ভেঙে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এ বিষয়ে উদ্ধারকর্মীদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে নেপাল সরকার।

সূত্র: সিবিএস