“বই পড়ি, মন গড়ি”—এই স্লোগানকে সামনে রেখে শ্রীমঙ্গল উপজেলায় শুরু হয়েছে ‘শ্রীমঙ্গল বইপড়া উৎসব-২০২৬’। গত ২১ জুলাই শুরু হওয়া এ উৎসবের অংশ হিসেবে উপজেলার মাধ্যমিক ও তদূর্ধ্ব ৩৮টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রায় ২৫ হাজার শিক্ষার্থীকে পাঠ্যবইয়ের বাইরে গল্প, উপন্যাস, প্রবন্ধ, কবিতাসহ বিভিন্ন ধরনের বই পড়ায় উৎসাহিত করতে এবার শিক্ষার্থীদের কাছেই যাচ্ছে উপজেলা প্রশাসন।

তিন ধাপে আয়োজিত এ উৎসবের প্রথম ধাপ ‘মুকুল পর্ব’ উপলক্ষে মঙ্গলবার (২ আগস্ট) শ্রীমঙ্গলের পাঁচটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে উদ্বুদ্ধকরণ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

এদিন শ্রীমঙ্গল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌরসভার প্রশাসক মো. জিয়াউর রহমান ভৈরবগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয়, সিরাজনগর জে.এস.এস.আর. মাদ্রাসা, শ্রীমঙ্গল আনোয়ারুল উলুম ফাজিল মাদ্রাসা, সেন্ট মার্থাস হাই স্কুল এবং ভূনবীর দশরথ স্কুল অ্যান্ড কলেজ পরিদর্শন করেন। তিনি প্রতিটি প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মতবিনিময় করে পাঠ্যবইয়ের পাশাপাশি সৃজনশীল ও মননশীল বই পড়ার গুরুত্ব তুলে ধরেন।

তিনি বলেন, “বইয়ের কোনো বিকল্প নেই। আমরা চাই উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে গিয়ে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বই পড়ার আনন্দ ভাগাভাগি করতে। আমাদের বিশ্বাস, বই পড়ার মাধ্যমে আগামী প্রজন্ম জ্ঞান, মূল্যবোধ ও সৃজনশীলতায় আরও সমৃদ্ধ হবে।”

এ সময় শ্রীমঙ্গল বইপড়া উৎসবের সমন্বয়ক ও শ্রীমঙ্গল আবৃত্তি উৎসবের নির্বাহী পরিচালক দেবাশীষ দাশ এবং উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা প্লাবন পাল উপস্থিত ছিলেন।

আয়োজকরা জানান, প্রথম ধাপ ‘মুকুল পর্বে’ শ্রেণিভিত্তিক নির্ধারিত ১৪টি বই শিক্ষার্থীরা বর্তমানে পাঠ করছে। আগামী ১৭ আগস্ট প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এসব বইয়ের ওপর শ্রেণিভিত্তিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতে প্রতিটি শ্রেণি থেকে সেরা ১০ জন শিক্ষার্থী দ্বিতীয় ধাপ ‘ফুল পর্বে’ অংশ নেওয়ার সুযোগ পাবে। দ্বিতীয় ধাপ শেষে প্রতিটি শ্রেণির সেরা তিনজন উপজেলা পর্যায়ের চূড়ান্ত ‘ফল পর্বে’ অংশগ্রহণ করবে। চূড়ান্ত ধাপে নতুন বইয়ের ওপর পরীক্ষার মাধ্যমে প্রতিটি শ্রেণির উপজেলার সেরা ১০ জন নির্বাচিত হবে।

আয়োজকরা আরও জানান, প্রতিযোগিতার প্রতিটি ধাপে শিক্ষার্থীরা নতুন নতুন বই পড়ার সুযোগ পাবে। পাশাপাশি এবার উন্মুক্ত বিভাগও যুক্ত করা হয়েছে। এর মাধ্যমে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বাইরে যেকোনো বয়সের বইপ্রেমী নিবন্ধনের মাধ্যমে বইপড়া উৎসবে অংশ নিতে পারবেন।
উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে অনুষ্ঠিত এ বইপড়া উৎসবে সমন্বয় সহযোগী হিসেবে রয়েছে শ্রীমঙ্গল আবৃত্তি উৎসব এবং পাঠ সহযোগী হিসেবে রয়েছে উত্তরণ।

মোবাইল ফোন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ক্রমবর্ধমান ব্যবহারের এই সময়ে উপজেলা প্রশাসনের এমন ব্যতিক্রমী উদ্যোগ শিক্ষার্থীদের মধ্যে বইপড়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে এবং জ্ঞানচর্চার প্রতি আগ্রহ বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে অভিভাবক ও শিক্ষকদের অভিমত।