চলতি মৌসুমে অনুকুল আবহওয়ায় গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে বোরো ধানের ভালো ফলন হয়েছে।| বর্ষার আগে আগাম জাতের বোরো ধান কাটা মাড়াইয়ের কাজ শুরু হয়েছে । বৈশাখের শুরুতেই আগাম ধান কাটতে পাড়ায় অনেকটা সস্তিতে কৃষক। রোগবলাাই ও চিটা কম হওয়ায় উৎপাদিত ধানের ভালো ফলনে খুশি কৃষক। বোরো ধান কাটার পর জমি ফেলে না রেখে আউষ ধান, পাট চাষে কৃষকদের পরামর্শ কৃষি বিভাগের।

জেলায় গোবিন্দগঞ্জ উপজেলায় চলতি বছর ৩১ হাজার ১শ’ ২০ হেক্টর জমিতে ইরি-বোরো ধানের চাষ নির্ধারন করা হয়েছে। এর মধ্যে ৪৫ হাজার ৭০ হেক্টর জমিতে হাইব্রিড,উচ্চ ফলনশীল বা উফশী জাত ৮৩ হাজার ৫শ’২০ এবং ৪শ’৩০ হেক্টর জমিতে স্থানীয় ধান চাষ করা হয়। অনুকুল আবহওয়ায় চলতি বছর বোরো ধানের ভালো ফলন আশা করছেন কৃষক। ব্রি ধান ৬৮,৭৪,৮১,৮৮,৮৯,৯২,৯৬,১০০,১০৮ ও বিনা ধান-৭, ১০,১৪,১৯,২৪,২৫ মত আগম জাতের ধান পাকায় এরই মধ্যে বোরো ধান কাটা মাড়াইয়ের কাজ শুরু হয়েছে। চিটা কম হওয়ায় ধানের ভালো ফলন পেয়ে খুশি কৃষক।

উপজেলার ফুলবাড়ী ইউনিয়নের নাচাইকোচায় গ্রামের জোবায়ের ইসলাম রঞ্জু প্রায় ১৫ বছর ধরে আগাম জাতের বোরো ধানের চাষ করে আসছে। এবারো তিনি তার ১৪ বিঘা জমিতে আগাম বিনা ধান-১৪ জাতের ধান চাষ করেন। চাষী বলছেন অনুকুল আবহওয়ায় বিগত সময়ের চেয়ে এ বছর পোকা ও রোগ বালাইয়ের প্রকপ কম তাই বোরো ধানের অধিক ফলন হয়েছে। এখন পর্যন্ত বড় ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগ না থাকায় কোন ক্ষতি ছাড়ায় নির্বিঘ্নে উৎপাদিত বোরো ধান কাটা মাড়াই করে ঘরে তুলছেন ।

কার্তিকের প্রথম সপ্তাহে বীজ তলা তৈরী করেন এবং চারার বয়স ৩২ থেকে ৩৩ দিন হলে জমিতে বোরো ধানের চারা রোপন করেন এখন বৈশাখের শুরুতে পাকা ধান কাটছেন বলে জানিয়েছেন। বিঘা প্রতি ২৪ থেকে ২৬ মণ পর্যন্ত বোরো ধানের ফলন আশা করছেন এ কৃষক।

রঞ্জু বলেন এক সময় এলাকার মধ্যে তিনি একাই আগাম জাতের বোরো ধান চাষ করতেন এখন তাকে অনুসরন করে এলাকার অনেক কৃষক আগাম ধানের চাষ করছেন।

রাখাল বুরুজ ইউনিয়নের ছোট অভিরামপুর গ্রামের কৃষক আনিছুর রহমান জানান এবছর আগাম ধান ভালো ফলন হয়েছে। আগাম জাতের ধানে পোকা ও রোগ বালাইয়ের প্রকপ অনেক কম,অপেক্ষাকৃত নীচু জমিতে এ ধরনের ধানের আবাদ বেশ লাভজনক।

আগাম বোরো ধানে চারা বীজতলা, রোপন, সার, কিটনাশক, নিরানী এবং ধান কাটা মাড়াইসহ মোট খরচ প্রায় ৯ থেকে ১০ হাজার টাকা| বিঘা প্রতি ২৪ থেকে ২৬ মণ পর্যন্ত ধান পাওয়া যায় এবং বাজারে গো-খাদ্য হিসাবে খরের চাহিদা থাকায় খর ভালো দামে বিক্রি করা যায়।

দরবস্ত ইউনিয়নের কালিতলা দূর্গাপুর গ্রামের বেলাল হোসেন জানান আগাম জাতের বোরো ধানের চাষ কেমন হয়েছে তা দেখতে তিনি ফুলবাড়ী ইউনিয়নের নাচাইকোচায় গ্রামে এসেছে। আগাম বোরো ধানের ফলন খুব ভালো হয়েছে। প্রাকৃতিক দুর্যোগ আসার আগে ধান কেটে ঘরে তুলছেন।

বেলাল আরো বলেন যেহেতু নিচু জমি তাই বর্ষায় ডুবে থাকা জমিতে দেশি মাছের চাষ করেও লাভবান হবেন। এবছর হাট বাজার গুলোতে প্রতিমণ ধান ১ হাজার থেকে ১১শ” টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

রাখালবুরুজ ইউনিয়নের লোনতলা গ্রামের কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অবসরপ্রাপ্ত উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা আব্দুর রশিদ জানান জোবায়ের ইসলাম রঞ্জু দীর্ঘ দিন ধরে আগাম ধানের চাষ করে আসছেন। এবারো তিনি ১৪ থেকে ১৫ বিঘা জমিতে আগাম বোরো চাষ করেছেন। এধরনের আগাম চাষ আবাদ করলেও তিনি স্থানীয় কৃষি বিভাগের সহযোগিতা পরামর্শ পাননি। রঞ্জুর সঙ্গে বন্ধের সুবাদে তিনি মাঝে মাঝে ক্ষেত পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিয়ে থাকেন বলে জানান তিনি|

গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা কৃষি অফিসার মোঃ মেহেদী হাসান জানান আবহাওয়া অনুকুল থাকায় বোরো আবাদে এবারে ধানে ভালো ফলন পাওয়া যাবে। এতে করে বোরো আবাদে লাভবান হবেন কৃষক। বোরো চাষের পর ফাকা হওয়া জমি যাতে ফেলে না রাখে সেজন্য কৃষকদের আউষ ও সবজি,পাট চাষে কৃষকদের পরামর্শ দিচ্ছেন উপজেলার কৃষি বিভাগ।

বোরো মৌসুমে সরকার ধানের ন্যায্য মুল্য নিশ্চিত করতে খাদ্য গুদাম গুলো সরাসরি কৃষক পর্যায়ে ধান সংগ্রহে কোন কৃষক যাতে হয়রানির শিকার না হয় এমন দাবি বোরো চাষীদের।