পর্যটন নগরী কুয়াকাটায় নাশকতার পরিকল্পনায় গোপন বৈঠক চলাকালে বাংলাদেশ জামায়াত ইসলামীর ১১ সদস্য পুলিশের হাতে আটক হয়েছে। এ সময় পুলিশের সঙ্গে জামাত-শিবির সদস্যদের ধস্তাধস্তি হামলায় পুলিশের চার জন সদস্য আহত হয়।
পটুয়াখালীর কুয়াকাটায় আবাসিক হোটেল আল-হেরার তিনতলায় জামাত-শিবিরের বহিরাগত একটি গ্রুপের নাশকতার উদ্দেশ্যে গোপন বৈঠক চলাকালে পুলিশের অভিযানে ১১ জামাত শিবিরের সদস্যকে আটক হয়েছে। আটককৃতরা হলেন ফরিদুল হক (৫৬), মোজাম্মেল হক (৭৫), ফারুক হোসেন (৫৭), আজিজুর রহমান (৩৮), হান্নান (৫০), আরিফ হোসেন হাওলাদার (২৪), জাহিদুল ইসলাম (৪৬), রফিকুল ইসলাম (৫৪), এনামুল হক সরদার (৩৭), আব্দুল হালিম হাওলাদার (৬৪), হারুন-অর-রশীদ (৫৭)। এদের সকলের বাড়ি ঝালকাঠি জেলার বিভিন্ন গ্রামে।
আটকৃত জামায়াত-শিবির সদস্যদের কাছ থেকে লিফলেট, উগ্রবাদী জিহাদী বইসহ বিভিন্ন কাগজপত্র ও কয়েকটি মোবাইল সেট জব্দ করা হয়েছে। মহিপুর থানা পুলিশ শনিবার দুপুর দুইটায় এদের আটক করে। এসময় পুলিশের সঙ্গে জামাত-শিবিরের ধস্তাধস্তি হামলায় পুলিশের এসআই সহিদুল ইসলাম, কন্সটেবল মাসুম, হাসান ও ফরহাদ আহত হয়। তাদেরকে কুয়াকাটা হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। ধস্তাধস্তির সময় জামাত-শিবিরের আরও ৪০ সদস্য পালিয়ে গেছে। পুরুষ-মহিলাসহ অর্ধশতাধিক সদস্যের এ দলটি হোটেলটির তিন তলায় সকাল দশটা থেকে গোপন মিটিং করছিল। দুপুরে গোপনসুত্রে খবর পেয়ে হোটেলটিতে অভিযান চালায় পুলিশ। পুলিশের কলাপাড়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বিমল কৃষ্ণ মল্লিক এসব তথ্য নিশ্চিত করেন।
আবাসিক হোটেল আল-হেরার ম্যানেজার মারুফ ইসলাম জানায়, শুক্রবার দুপুরে ঝালকাঠি জেলা থেকে অর্ধশতাধিক লোকজন হোটেলটির ১০টি কক্ষ ভাড়া নেয়। এর মধ্যে নারী সদস্যরা দুই টি রুমে অবস্থান নেয়। তবে এদের কারও নাম হোটেলের রেজিস্টার্ডভুক্ত করা হয়নি। শনিবার গোপন বৈঠক চলাকালে পুলিশের অভিযানে তোলপাড় শুরু হয়। প্রায় দেড় ঘন্টা চেষ্টা করে জামাত-শিবিরের ১১ সদস্যকে আটক করে পুলিশ। মহিপুর থানার ওসি মো. ফেরদৌস আলম জানান, এ ঘটনায় একটি মামলার প্রস্তুতি চলছে।
কলাপাড়া সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বিমল কৃষ্ণ মল্লিক জানান, আটককৃতরা এখানে বসে ৫০/৬০ জন লোক নিয়ে বড় কর্মী সভা এবং নাশকতার উদ্দেশ্যে গোপন বৈঠক করছিলো। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়। আটকের সময় ৪ পুলিশ সদস্য আহত হয়েছে। এরা হলেন এসআই শহিদুল, কনেস্টবল মাসুম, কনেস্টবল হাসান ও কনেস্টবল ফরহাদ। এদের কুয়াকাটা হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
মন্তব্য করুন