আজ থেকে প্রায় দশ বছর আগে জাতীয় সংসদে দাঁড়িয়ে ভোলা -১ আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য আন্দালিব রহমান পার্থ বলেছিলেন, তারেক রহমান এদেশে রাজনীতি করবে কি করবে না সেটা নির্ধারণ হবে যেদিন তারেক রহমান এই দেশের মাটিতে পা রাখবেন সেদিন। অদ্ভুতভাবে আন্দালিব পার্থর সেই কথা অক্ষর অক্ষরে সত্যি হয়ে ফিরে এসেছে ১২ ফেব্রুয়ারীর নির্বাচনের ভূমিধস ফলাফলের মধ্য দিয়ে।

দীর্ঘ ১৮ বছর পর নানান চড়াই উৎরাই পেরিয়ে তারেক রহমান দেশে আসলেন এবং এদেশের জনগণ স্মরণকালের সুষ্ঠু একটি নির্বাচনে ভোটের মাধ্যমে তারেক রহমানকে দেশের রাজনীতিতে স্বতঃস্ফূর্তভাবে গ্রহন করলেন।

এদিকে দেশে পা রাখার পর তারেক রহমান তার প্রথম ভাষণে ঘোষণা দিলেন আই হ্যাভ এ প্ল্যান। যা ছিল বাংলাদেশের রাজনীতিতে, ভবিষ্যৎ বাংলাদেশ বিনির্মাণে এক অমোঘ বানী। যার প্রমাণ তিনি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেয়ার পর থেকে প্রতিনিয়ত রেখে চলেছেন।

অন্যদিকে তারেক রহমানের বলা আই হ্যাভ এ প্লান, কথাটির অন্তর্নিহিত ব্যাখ্যা না করে রহস্য রেখেছিলেন সময়ের হাতে। তখন তার বিরোধী পক্ষ এবং তাদের ছাত্রনেতারা কটাক্ষ ও বিদ্রুপে মেতে ওঠেন। তারা তার সেই স্লোগানকে নানান নেতিবাচক ভাষায় সোস্যাল মিডিয়ার ঝড় তোলেন।

অন্যদিকে দায়িত্ব নেয়ার পর থেকে তারেক রহমান তার প্লানের অংশ হিসেবে বিরোধীদের সব নেতিবাচক ধারনা ঊল্টে দিতে থাকেন। জয়ী হবার পরে তিনি দেশের ইতিহাসে এই প্রথম বিজয় উল্লাস বন্ধ করে বিজিত দলের নেতাদের বাসায় একে একে দেখা করতে ছুটে যান এবং দেশ গঠনে তাদের সহযোগিতা কামনা করেন। যা ছিল দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি বিরল ঘটনা।

এদিকে দীর্ঘ ১৭ বছর নির্বাসনের পর গত দুমাস হলদেশে ফিরেছেন তিনি। এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত ১৪ দিন দায়িত্ব সামলাচ্ছেন । প্রাথমিক এই সময়ে সাধারণ রাষ্ট্র প্রধানরা দেশী এবং বিদেশী রাষ্ট্রপ্রধান, সরকারি এবং বেসরকারি নানার প্রতিষ্ঠানের শুভেচ্ছা গ্রহণে ব্যস্ত সময় পার করেন। কিন্তু তারেক রহমান হাটলে পুরো উল্টো শ্রোতে। তিনি ও তার মন্ত্রিসভার সদস্যগণ প্রথম কর্ম দিবস থেকেই দেশের কাজে লেগে পরলেন কাল বিলম্ব না করে। রাষ্ট্রীয় ভার গ্রহণের প্রথম দিনই তিনি একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। যা ছিল দেশের ইতিহাসে একটি মাইল ফলক।

এদিকে প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণের প্রথম দিনের নেয়া তার সিদ্ধান্তের প্রভাব পরে সরাসরি জনজীবনে। দায়িত্ব নেয়ার পর প্রধানমন্ত্রীর প্রথম চ্যালেঞ্জ ছিল দেশের আইন-শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ, রমজানের ঊর্ধ্বমুখী বাজার নিয়ন্ত্রণ এবং নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ প্রবাহ সচল রাখা। এই চ্যালেঞ্জে জয়ী হওয়ার জন্য তারেক রহমান তার প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠকে নির্দেশ দেন। বিশেষ করে রমজানের বাজারে নিত্যপন্যের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে তার নির্দেশনা সরাসরি প্রভাব পড়ে বাজারে। ইফতারি এবং সেহরিতে নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের ক্ষেত্রে নেয়া হয় বিশেষ ব্যবস্থা। পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে সারা দেশব্যাপী কঠোর নির্দেশনা প্রদান করা হয়।

অন্যদিকে মন্ত্রিসভা গঠনের পর প্রথম বৈঠকে সব মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীদেরকে আগামী ৬ মাসের কাজের মূল্যায়নের উপর ভিত্তি করে ভবিষ্যতে মন্ত্রিত্ব চালিয়ে নেওয়ার বাধ্যবাধকতা জুড়ে দেন। সাথে আগামী ৬ মাসের প্রতিটি মন্ত্রণালয়ের কর্ম পরিকল্পনা জমা দেওয়ার নির্দেশ প্রদান করেন। ব্যর্থতায় নতুন যোগ্য কাউকে দায়িত্বে নেয়া হবে। যা দেশের মন্ত্রীদের সরাসরি জবাবদিহিতার আওতায় আনার নজিরবিহীন সিদ্ধান্ত বলে সচেতন মহল মনে করেন। এর মাধ্যমে তিনি জানিয়ে দিলেন এই সরকার দলীয় চিন্তা থেকে পরিচালিত হবেন না, বরং সরকার চলবে জনগণের সেবা নিশ্চিতের পরিকল্পনায়।

এদিকে সামাজিক সুরক্ষা জোরদারে ঈদের আগেই পূর্ব ঘোষিত ফ্যামিলি কার্ড প্রদানে একটি সমন্বিত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে তারেক রহমান। যা বাস্তবায়নের প্রথম ধাপ হিসেবে পরীক্ষামূলকভাবে দেশের ১৪ টি উপজেলায় কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

অন্যদিকে রাজধানীর উপর জনগণের চাপ কমাতে রাজধানীর আশপাশের জেলা গুলোর বাস, ট্রেন, লঞ্চ, উড়াল সেতু সহ সকল যাতায়াত ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজানোর পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। সাথে সাথে তরুণদের দেশ গঠনে কার্যকরী করে গড়ে তুলতে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ এবং সহায়তা প্রদানের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। ওয়াদা অনুযায়ী মওকুফ করেছেন কৃষি ঋণ।

এদিকে ক্ষমতার চূড়ান্ত পর্যায়ে থেকেও ব্যক্তি জীবনকে তিনি সাধারণের সাড়িতে নামিয়ে এনে এক নজিরবিহীন উদাহরণ সৃষ্টি করেছেন। যা ছিল অতীত বাংলাদেশে যেকোনো রাষ্ট্র প্রধানদের ক্ষেত্রে অকল্পনীয়। প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর থেকে তিনি তার প্রোটকল গাড়ির সংখ্যা ১৪ থেকে কমিয়ে চারে এনে রাষ্ট্রীয় খরচ কমানোর প্রকাশ্য উদাহরণ সৃষ্টি করেন। চলাচল করছেন তার ব্যক্তিগত গাড়িতে। গাড়ির চালক থেকে শুরু করে জ্বালানি খরচ তিনি নিজে বহন করছেন। প্রতিদিনের চলাচলে নেই কোন প্রটোকলের আধিক্য। জনগণের ভোগান্তি কমিয়ে প্রতিদিন তিনি সাধারনের মতো করেই ট্র্যাফিক জ্যাম ঠেলে যাতায়াত করছেন। যা প্রতিনিয়ত জনগণের আস্থা ও বিশ্বাসকে বাড়িয়ে চলেছেন দিনের পর দিন।

অন্যদিন ২১ শে পদক প্রদানের দিনে তিনি তার অফিস থেকে ওসমানী মিলনায়তনে পৌঁছান পায়ে হেঁটে। এই সকল কার্যক্রম ইতিবাচক বাংলাদেশ গড়ার ইঙ্গিত বহন করছেন বলে সাধারণ জনগণ মনে করেন।

এদিকে বিএনপি সংসদ সদস্যরা ট্যাক্স ফ্রী গাড়ি এবং সরকারি প্লট বরাদ্দ না নেয়ার সিদ্ধান্ত একটি ঐতিহাসিক ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে জাতীয় রাজনীতিতে। সরকারের এই রাষ্ট্রীয় ব্যয় সংকোচন নীতি পুরো প্রশাসনের জন্য একটি নির্দেশনা হিসেবেও কাজ করবে বলে সংশ্লিষ্ট মহল মনে করেন।

এরই মধ্যে সচিবালয়ে ঘটে যায় এক মনস্পর্শী ঘটনা। সচিবালয় কর্মরত এক সাধারণ কর্মচারী খন্দকার শামীমের বিদ্যালয় পড়ুয়া ছাত্র হঠাৎ অপর্হরিত হয়। অসহায় বাবা কাঁদতে কাঁদতে ঢুকে পারেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়। তারেক রহমান তখনই তার কাছ থেকে পুরো ঘটনা শুনে সমস্ত প্রোটোকল ভেঙে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দেন। সে সময় তিনি প্রটোকল অনুযায়ী আইজিপি অথবা পুলিশ কমিশনার কে ব্যাপারটি জানাতে পারতেন। কিন্তু তিনি প্রটোকল ভেঙে সরাসরি রমনা জোনের ডিসি কে ফোন দিয়ে ব্যাপারটি দ্রুত সুরাহা করার নির্দেশ দেন। নির্দেশ পাওয়ার এক ঘণ্টার মধ্যে শামীমের অপহৃত ছেলেকে উদ্ধার করে পুলিশ।

এই ঘটনায় সারা দেশ জুড়ে তিনি প্রশংসায় ভাসছেন। তার এহেন কর্মকাণ্ডে দেশের জনগণ খুব সহজেই দ্রুত সময়ের মধ্যে বুঝতে পারছেন তারেক রহমান প্রতিনিয়ত দেশের প্রচলিত প্রথা ভেঙে নতুন বাংলাদেশ বাস্তবায়নের পথে দৃঢ় পায়ে হেঁটে চলেছেন বলে মনে করছেন সাধারণ জনগণ।

কথায় আছে মর্নিং সো ইজ দা ডে। সে হিসেবে এবারের বিএনপি তথা তারেক রহমানের দায়িত্ব নেয়ার পর থেকে তার সচেতন ভাবে অতি সাধারনের কাতারে থেকে রাষ্ট্র পরিচালনার এহেন পথচলা দেখে এই দেশের মানুষ তথা দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলো আশাবাদী হতেই পারে একটি সমৃদ্ধ স্বনির্ভর বাংলাদেশ দেখার জন্য।