নদী ও সাগরবেষ্টিত পটুয়াখালী জেলার চরাঞ্চলে এখন তরমুজের মৌসুম। রমজানকে সামনে রেখে আগাম ও মাঝারি জাতের তরমুজ চাষে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকরা। জেলা কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, এ মৌসুমে তরমুজ বিক্রি থেকে প্রায় ২০০ কোটি টাকার লেনদেনের আশা করা হচ্ছে।

জেলার বিস্তীর্ণ চরাঞ্চলে এবার তরমুজের আবাদ উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। কোথাও পাকা ফল তোলার প্রস্তুতি, কোথাও নতুন ফলের গুটি, আবার অনেক ক্ষেতে হলুদ ফুলে ভরে উঠেছে লতা। রমজানের প্রথম সপ্তাহে বাজার ধরতে এখন থেকেই দিন-রাত পরিশ্রম করছেন চাষিরা।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের জেলা কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, গত মৌসুমে প্রায় ২৭ হাজার ৩৫০ হেক্টর জমিতে তরমুজ আবাদ হয়েছিল। চলতি মৌসুমে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৩৪ হাজার ৪৮০ হেক্টরে। উৎপাদন, পরিবহন, বীজ ও সংশ্লিষ্ট খাত মিলিয়ে প্রায় ৩০০ কোটি টাকার অর্থনৈতিক কার্যক্রম হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বাউফল উপজেলা, গলাচিপা উপজেলা, দশমিনা উপজেলা, রাঙ্গাবালী উপজেলা ও পটুয়াখালী সদর উপজেলাসহ বিভিন্ন এলাকায় তরমুজের আবাদ বেশি হয়েছে। নদীবেষ্টিত অঞ্চল হওয়ায় এবং নিয়মিত পলি জমার কারণে এখানকার দোআঁশ ও বেলে দোআঁশ মাটি তরমুজ চাষের জন্য উপযোগী। ফলে তুলনামূলক কম সার ব্যবহার করেও ভালো ফলন পাওয়া যাচ্ছে।

পটুয়াখালী সদরের লোহালিয়া নদীর চরের চাষি মো. জামাল জানান, প্রায় ৯ কানি জমিতে তরমুজ আবাদ করেছেন তিনি। সাড়ে ৪ লাখ টাকা বিনিয়োগ করে ১৪ থেকে ১৫ লাখ টাকা বিক্রির আশা করছেন। আগাম জাতের ফলন ভালো হওয়ায় রমজানে ভালো বাজারদর পাওয়ার প্রত্যাশা তার।

রাঙ্গাবালীর বড়বাইশদিয়া ইউনিয়নের আলমগীর হোসেন বলেন, তরমুজই এখন তাদের প্রধান আয়ের উৎস। প্রায় ৪ লাখ টাকা খরচ করে ১০ থেকে ১২ লাখ টাকা বিক্রির আশা করছেন তিনি। তবে ন্যায্যমূল্য ও নিরাপদ পরিবহন ব্যবস্থার দাবি জানিয়েছেন চাষিরা।

চাষিরা বলছেন, ধানের তুলনায় তরমুজে লাভ বেশি হওয়ায় অনেকেই বিকল্প ফসল হিসেবে এটি বেছে নিচ্ছেন। আধুনিক পদ্ধতিতে চাষ করায় ফলনও বাড়ছে। একেকটি তরমুজের ওজন ১৫ থেকে ২০ কেজি পর্যন্ত হচ্ছে বলে তারা জানান।

জেলা কৃষি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, কুয়াশাজনিত পাতা পচা রোগ ও অতিরিক্ত তাপমাত্রাজনিত ক্ষতি প্রতিরোধে মাঠপর্যায়ে নিয়মিত পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে চলতি মৌসুমে তরমুজ চাষ উপকূলের কৃষি অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে আশা করা হচ্ছে।