রাজশাহীর তানোর উপজেলার কলমা ইউনিয়নের গঙ্গারামপুর গ্রাম থেকে অসুস্থ ছোট বোন মাজেদাকে রাজশাহী মহানগরীর একটি ক্লিনিকে দেখতে এসে অনিয়ন্ত্রিত অটোরিক্সা চাপায় রোকেয়া ওরফে বাদলি (৪৫) নামের এক বড় বোনের মৃত্যু হয়েছে। নিহত ওই নারী বংপুর গ্রামের মৃত লালবর আলীর মেয়ে ও গঙ্গারামপুর গ্রামের আব্দুল জব্বারের স্ত্রী। গতকাল মঙ্গলবার (১৯ আগস্ট) সন্ধ্যায় রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। পরে নিহতের লাশ হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করা হয়।

বংপুর গ্রামের মৃত রোকেয়া আত্মীয় দেলোয়ার হোসেন জানান, গত কয়েকদিন আগে রোকেয়ার ছোট বোন মাজেদা রাজশাহীর বেসরকারী ক্লিনিক ডলফিনে ভর্তি হয়েছিলেন। সেখানে তার অস্ত্রাপাচার হয়েছে। অসুস্থ বোনকে দেখতে মঙ্গলবার সকালে বাড়ি থেকে বের হন রোকেয়া। এরপর রাজশাহীর সেই ক্লিনিকে পৌঁছে বোনকে দেখে ক্লিনিক থেকে দুপুর আড়াইটার দিকে খাবার আনার জন্য রাস্তার অপর প্রান্তে যাচ্ছিলেন। ওই সময় বেপরোয়া গতির একটি অটোরিক্সা তাকে চাপা দিয়ে পালিয়ে যায়। এতে তিনি গুরুতর আহত হলে তার সাথে থাকা ফজলুর নামের ব্যক্তি তাকে স্থানীয়দের সহায়তায় রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সন্ধ্যার আগে তার মৃত্যু হয়।

দেলোয়ার আরো জানান, নিহতের পরিবারে আর কেউ রইলনা। তার বাবা-মা মারা গেছে আগেই। একমাত্র ভাই ও অসুস্থ বোনও অসহায়। ওই পরিবারটি আগে থেকেই অসহায় অবস্থায় দিনযাপন করছিলেন। তিনি প্রশাসনের মাধ্যমে অটো চাপা দিয়ে রোকেয়া হত্যাকারীর বিচার দাবি করেন। রোকেয়ার সাথে থাকা তার দূর সম্পর্কের চাচা ফজলুর রহমান বলেন, চোখের সামনেই তার দুর্ঘটনায় আহত হওয়া দেখেছি। ইচ্ছা থাকা সত্বেও অটোরিক্সা চালককে ধরতে পারিনি। সে পালিয়ে চলে গেছে। খুব দুঃখজনক হয়ে থেকে গেল।

রামেক হাসপাতালের মুখপাত্র ডা. শংকর কুমার বিশ্বাস বলেন, সড়ক দুর্ঘটনায় এক নারী মারা গেছে। লাশ মর্গে রয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

উল্লেখ্য, রাজশাহী মহানগরীতে প্রয়োজনের তুলনায় অনেক বেশি অটোরিক্সা চলাচল করে। প্রশিক্ষণহীন এসব চালকরা নিয়ম-কানুন না মেনেই অনিয়ন্ত্রিত ও বেপরোয়া গতিতে অটোরিক্সা চালায়। এতে প্রায় দুর্ঘটনা ঘটে। গণমাধ্যমে একাধিক সংবাদ প্রকাশ হলেও দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।