গাছে গাছে আমের মুকুল ছড়াচ্ছে সুবাসিত পাগল করা ঘ্রাণ। মৌমাছিরা ঘুরে বেড়াচ্ছে গুনগুন শব্দে। এসে গেছে ঋতুরাজ বসন্ত। ছোট-বড় আমগাছে ফুটেছে নতুন মুকুল। ছড়িয়ে পড়েছে মুকুলের পাগল করা ঘ্রাণ।
যে ঘ্রাণ মানুষের মন ও প্রাণকে বিমোহিত করে। করে আন্দোলিত।

শ্রীমঙ্গলের সাইটুলা, ডেঙ্গারবন, পারেরটং, উত্তরসুর এলাকা ঘুরে গাছে গাছে দেখা গেছে আমের মুকুল। আমের মুকুলের সৌন্দর্য ও এর মৌ মৌ গন্ধ পাগল করে সকল মানুষকেই। চারদিকে ছড়িয়ে পড়েছে এ মুকুলের ঘ্রাণ। আমের মুকুলের সোনালী রঙের দৃষ্টিনন্দন দৃশ্য মানুষের মনকে করে আকৃষ্ট। আমের সোনালী মুকুলের ভারে নুয়ে পড়েছে আম গাছের প্রতিটি গাছের ডাল।

উপজেলার সাইটুলা গ্রামের অনার্সের ছাত্র উজ্জ্বল কুর্মী বলেন, আমাদের এলাকাতে কম-বেশি প্রতিটি বাড়িতেই আমগাছ রয়েছে। এসব গাছে এসেছে মুকুল। তবে এসব গাছের ফলন নির্ভর করবে আবহাওয়ার ওপর। আবহাওয়া ভাল থাকলে ফলন ভাল হবে।

বাংলাদেশের জাতীয় বৃক্ষ হলো আমগাছ। আর ফলের রাজা হলো আম। আমকে ফলের রাজা হিসেবে অভিহিত করার অনেকগুলো কারন রয়েছে। আমের অতুলনীয় স্বাদ, প্রাচুর্যতা, পুষ্টিমান, বৈচিত্র্যতা ইত্যাদি কারনে আমকে ফলের রাজা হিসেবে বিবেচনা করা হয়। বাংলাদেশে প্রায় প্রতিটি জেলাতেই আম উৎপাদিত হয়ে থাকে। স্বাদে, গন্ধে ও পুষ্টিতে আম অতুলনীয়। আমের ইংরেজি নাম ম্যাংগো আর বৈজ্ঞানিক নাম ম্যাংগিফেরা ইন্ডিকা।

আমে প্রচুর পরিমানে ভিটামিন এ এবং সি, খনিজ পদার্থ ও ক্যালরী রয়েছে। দৃষ্টিশক্তি ভালো ও ত্বক মসৃন রাখতে ভিটামিন এ অধিক প্রয়োজনীয়। আমের কচি পাতার রস দাঁতের ব্যথা উপশম করে। আমের শুকনো মুকুল পাতলা পায়খানা, পুরনো আমাশয় ও প্রস্রাবের জ্বালা-যন্ত্রনা নিরাময় করে এবং কোষ্ঠকাঠিন্য দুর করে।