
ব্যস্ত শহরের এক কোণে একটি কাঁশবন। রয়েছে বিশাল পুকুর। পুকুরের চারপাশেও সাদা কাঁশফুলের সমারোহ। এ কাঁশবনের অপার সৌন্দর্য উপভোগ করতে শরতের বিকেলে উপচে পড়া ভিড় সেখানে। নানা বয়সের নারী-শিশু-পুরুষরা প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগে ছুটে আসছেন। পটুয়াখালী শহরের আবহাওয়া অফিসের পাশেই এই কাঁশবন।
শনিবার বিকেলে কাঁশবনটিতে গিয়ে দেখা গেছে বিভিন্ন বয়সের নারী-শিশু-পুরুষদের পদভারে মুখর। কেউ কাঁশফুলের সাথে ছবি তুলছেন। কেই পুকুরের পানির ধারে সেলফি তুলতে ব্যস্ত। আবার কেউ দলবেঁেধ হাটছেন। কেউ এসেছেন বদ্ধু-বান্ধবদের সাথে। আবার কেউ এসেছেন পরিবারের সদস্যদের নিয়ে।
পটুয়াখালী শহরের বেসরকারি চাকুরে মারিয়াম নিপু তার একমাত্র মেয়েকে নিয়ে এসেছেন কাঁশবনে। তিনি জানান, আমি খুবই অভিভুত। শহরের মধ্যে এরকম একটি কাঁশবন দেখে এবং আমার মেয়েকে দেখাতে পেরে আমি খুবই উৎফুল্ল। ব্যস্ততম শহরের এ কাঁবনে সকলেই এখানে সময় কাটাতে আসে। জায়গাটিা খুবই সুন্দর।
আব্দুল আলিম খান আকাশ নামের এক যুবক জানান, এ কাঁশবনে পটুয়াখালী ছাড়াও অন্যান্য এলাকার লোকজনও বেড়াতে আসেন। কিন্তু দুঃখের বিষয় হচ্ছে যারা এখানে ঘুরতে আসছেন তারা কাঁশফুলগুলো ছিড়ে নিচ্ছেন যা এখানকার সৌন্দর্য বিনষ্ট করছে।
ঘুরতে আসা অপর যুবক আলামিন জানান, এ জায়গাটা খুবই সুন্দর। আনেকেই আসেন এখানে। যে কেউ চাইলে শরতের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করতে আসতে পারেন।
বেসরকারি চাকুরে জীবন সাহা এসেছেন তার স্ত্রী ও একমাত্র শিশু কন্যাকে নিয়ে। তিনি জানান, শরতের কাঁশবনে এলেই একধরনের ধর্মীয় অনুভুতি আসে। পূজোর একটি আগমনি আবেশ পাওয়া যায়। এককথায় শরতের বিকেলটা উপলব্ধি করার জন্য এ জায়গাটা অত্যন্ত সমৃদ্ধ।
আরেক চাকুরিজীবিমোঃ লোকমান এসেছেন তার একমাত্র শিশুকন্যাকে নিয়ে। কিছু কাঁশফুল ছিড়ে মেয়ের হাতেও দিয়েছেন তিনি। লোকমান জানান, পরিবার নিয়ে ঘুরতে আসার জন্য এ জায়গাটি অত্যন্ত মনোরম।
স্থানীয়রা জানান, একসময় এটি পরিত্যক্ত এলাকা ছিল। একটি বড় হাজামজা দিঘী ছিল। বছর দু‘য়েক আগে পটুয়াখালী পৌর কর্তৃপক্ষ এ দিঘীটি পূনঃখনন করে। চারপাশে রঙ্গিন ইট দিয়ে হাঁটার জন্য পাকা রাস্তার তৈরি করে। পুকুরের একপাশ নির্মাণ করা হয়েছে সুদৃশ্য ঘাটলা। আগন্তুকদের বসার জন্য স্থাপন করা হয়েছে বেঞ্চি। এছাড়াও রয়েছে শৌচাগার। এখানে প্রতিদিন সকাল-বিকালে অনেক লোক হাঁটতে আসেন। তারওপর পুকুরের চারপাশ ও বিস্তীর্ন বালুমাঠে কাঁশফুল ফোটায় সৌন্দর্য পিপাসুদের ভিড় বেড়েছে। বিশেষ করে পড়ন্তে বিকেলে এখানে সব বয়সী নারী-শিশু-পুরুষদের মিলন মেলা ঘটে।
মন্তব্য করুন