পর্যটন কেন্দ্র কুয়াকাটা সৈকতকে ক্রমশই গ্রাস করছে ক্ষুধার্ত সাগর। দিনে দিনে বাড়ছে বালু ক্ষয়। বড় বড় ঢেউয়ের তোড়ে ভাঙ্গছে পাড়, ফলে ছোট হয়ে আসছে সৈকত। রূপসৌন্দর্য্য’র সৈকতটি তার নিজস্ব জৌলুসতা হারিয়েছে।

তথ্য সূত্রে জানা যায়, প্রতিবছর জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পানির চাপ বৃদ্ধি পায় সাগরে। অমাবস্যা ও পূর্নিমার জোয়ারে সাগর খুব উত্তাল হয়ে পড়ে ফলে বড় বড় ঢেউ আছড়ে পড়ে সৈকতে। ফলে বিলিন হয়ে গেছে বিখ্যাত নারিকেল বাগান, সারি সারি ঝাউবনসহ নানা স্থাপনা। বিখ্যাত ফয়েজ মেয়ার নারিকেল বাগান কেবলই এখন স্মৃতি। বালুক্ষয়ের শিকার হয়ে সীমানা প্রাচীরসহ পুরো বায়ো গ্যাস প্লান্ট ভবনটি এখন অদৃশ্য। বালুগর্ভে স্থান পেয়েছে ওই ভবনের ধ্বংসাবশেষ। জাতীয় উদ্যানটি ইতিমধ্যে চলে গেছে সাগরে। এছাড়াও জিও ব্যাগের সয়লাব রয়েছে পুরো সৈকতজুড়ে যা ভয়াবহ দুর্ঘটনা বয়ে আনতে পারে এমন আশঙ্কা প্রকাশ করেছে বেড়াতে আসা পর্যটকরা।

শুক্রবার সরেজমিনে সৈকত এলাকা ঘুরে দেখা যায়, বিগত ৫বছর ধরেই সৈকত সংকুচিত হচ্ছে। সা¤্প্রতিক সময়ে ঘটে যাওয়া ঘূর্ণিঝড় রেমেলের আঘাতে ১কি:মি: সৈকতের ক্ষয় হয়েছে। হাজার হাজার গাছ উপড়ে পড়ে আছে সৈকতে। জাতীয় উদ্যান চলে গেছে সমুদ্রে। বড় বড় জায়গাজুড়ে ফাটল ধরে বিলীন হয়ে যায় সাগরে। পাশাপাশি প্রাকৃতিক বনাঞ্চল লেম্বুর চর, ঝাউবন, শালবন, নারিকেল বাগান পড়েছে ধ্বংসের মুখে। এভাবে বালু ক্ষয় অব্যাহত থাকলে অতি কম সময়ের ব্যবধানে কুয়াকাটা বেড়িবাঁধের বাইরের সকল স্থাপনা সাগরের গর্ভে চলে যাবে তা নিশ্চিত করে বলা যায়। প্রচুর সম্ভাবনা থাকতেও কুয়াকাটা কেনো অবহেলায় পড়ে আছে তা রীতিমতো হতাশ করে কুয়াকাটা উন্নয়ন প্রেমিক ও পর্যটকদের। দ্রæত বালুক্ষয় রোধসহ কুয়াকাটার উন্নয়ন ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় বাস্তব পদক্ষেপ নিয়ে এগিয়ে আসবেন কর্তা ব্যক্তিরা এমনটাই আশা প্রকাশ করেছেন বিনিয়োগকারীসহ কুয়াকাটার সচেতন মহল।

স্থানীয় প্রবীন ব্যক্তি হাজী আ: মান্নান হাওলাদার বলেন, আমরা ছোট সময়ে সাগরে হেটে যেতে পারি নাই। সেই সাগর দেখা যায় রাস্তায় বসে। এখনি ভাঙা ঠেকাতে হবে না হয় সাগরের পেটে সব চলে যাবে।

স্থানীয় ব্যবসায়ী মো: ইসমাইল খলিফা জানান, সৈকতকে রক্ষা করা দরকার। আমি ৩ কি:মি: দক্ষিনে ব্যবসা করতাম আজ সাগর বিলীন হওয়ায় আমি এখন ব্যবসা করি চৌরাস্তায় বসে। হয়ত বছর দূয়েক পরে বেরিবাধের বাইরে কেউ থাকতে পারবেনা। প্রতিবছর পানি উন্নয়ন বোর্ড নামে মাত্র জিও ব্যাগ দিয়ে সৈকত রক্ষার চেষ্টা করে তাতে পরবর্তীতে পর্যটনকেন্দ্র হুমকির মধ্যে পড়বে।

ট্যুরিজম এন্ড সিভিল এভিয়েশনের পরিচালক ও পর্যটন ব্যবসায়ী মো. নাসির মজুমদার বলেন, ২০০৯ সালের শুরুতে আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় কুয়াকাটায় ইনভেস্ট শুরু করি। আমার দেখাদেখিও অনেকে ইনভেস্ট শুরু করেছিল। কিন্তু সৈকত ক্ষয়ে সবাই মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে। এত সম্ভাবনাময় স্থান হওয়া স্বত্বেও সৈকত রক্ষায় কোন পদক্ষেপ গ্রহন না করায় কুয়াকাটার মুখ থুবড়ে পড়েছে।

এবিষয়ে পাউবো, কলাপাড়া নির্বাহী প্রকৌশলী (চ:দা:), মো. রাকিব হোসেন জানান, বিগত ৫-৬ বছর ধরেই প্রাকৃতিক দূর্যোগ, জলবায়ু পরিবর্তনসহ নানা কারনেই সৈকত সংকুচিত হচ্ছে এবং শোরলাইন চলে যাচ্ছে। তাই সৈকতকে রক্ষা করার জন্য ইতিমধ্যে স্থায়ী বাধ গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সেজন্য ৭শত উনষাট কোটি টাকার একটা প্রজেক্ট হাতে নিয়েছে। এটি বাস্তবায়ন হলে ১২ কি:মি: সৈকত স্থায়ী রক্ষা হবে। বর্তমানে পরিকল্পনা মন্ত্রনালয়ের দপ্তরে ফাইল আছে। আশা করি খুব শীঘ্রই কাজটি শুরু হবে।