কন্যাশিশুর শিক্ষা, নিরাপত্তা, মর্যাদা ও ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে সরকার সুস্পষ্ট নীতি ও কর্মপরিকল্পনা নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, অর্থনৈতিক সীমাবদ্ধতা, নিরাপত্তাহীনতা কিংবা বৈষম্যের কারণে কোনো মেয়ের স্বপ্ন যেন থেমে না যায়, তা নিশ্চিত করতে চায় সরকার।
জাতীয় কন্যাশিশু দিবস ২০২৬ উপলক্ষে রোববার (১১ অক্টোবর) দেওয়া এক বাণীতে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। সোমবার (১২ অক্টোবর) দিবসটি পালিত হবে। এবারের প্রতিপাদ্য ‘শিশু বিয়ে আর নয়, কন্যা করবে বিশ্বজয়’।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রতিটি কন্যাশিশুর নিরাপদে বেড়ে ওঠা এবং স্বাধীনভাবে স্বপ্ন ও সম্ভাবনা বিকাশের সুযোগ নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। আজকের কন্যাশিশুরাই আগামী দিনের বাংলাদেশের নির্মাতা। তাদের মেধা, সৃজনশীলতা ও স্বপ্ন বিকাশের সুযোগ দেওয়া গেলে জ্ঞানভিত্তিক, মানবিক ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব।
তিনি বলেন, কন্যাশিশুর অধিকার ও মর্যাদা রক্ষায় সবাইকে আরও দৃঢ় অঙ্গীকার করতে হবে। বাল্যবিবাহ ও সব ধরনের বৈষম্যের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। এ জন্য শিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণের পাশাপাশি কন্যাশিশুদের জ্ঞান, দক্ষতা ও আত্মবিশ্বাসে সমৃদ্ধ করে গড়ে তোলা জরুরি।
তারেক রহমান বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী মরহুমা বেগম খালেদা জিয়া নারীদের দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত বিনা বেতনে শিক্ষার সুযোগ করে দিয়েছিলেন। একই ধারাবাহিকতায় বর্তমান সরকার নারীদের স্নাতকোত্তর পর্যন্ত বিনা বেতনে পড়ালেখার সুযোগ অবারিত করেছে।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, সরকার এমন একটি রাষ্ট্র ও সমাজ গড়ে তুলতে কাজ করছে, যেখানে কন্যাসন্তানের জন্ম পরিবারের জন্য আশীর্বাদ হয়ে উঠবে এবং কোনো মেয়ের লেখাপড়া বন্ধ হবে না। প্রতিটি মেয়ে যেন নিজের পছন্দ ও সামর্থ্য অনুযায়ী এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ পায়, তা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
নারীর রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নের সঙ্গে কন্যাশিশুর নিরাপদে বেড়ে ওঠার গভীর সম্পর্ক রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করতে প্রতিটি পরিবারের নারীপ্রধানের নামে ফ্যামিলি কার্ড ইস্যু করা হচ্ছে। পাশাপাশি কন্যাশিশু ও নারীর শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পুষ্টি ও সামাজিক সুরক্ষায় বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়নের কাজ শুরু হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, এসব উদ্যোগ কন্যাশিশুর শিক্ষা, দক্ষতা ও আত্মনির্ভরতার পথ সুগম করবে। তিনি বলেন, প্রতিটি মেয়ে যেন নির্ভয়ে চলতে, শিখতে, কথা বলতে ও মত প্রকাশ করতে পারে, সে জন্য নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা প্রয়োজন। বাস্তব ও ডিজিটাল—উভয় পরিসরে তাদের নিরাপত্তা, মর্যাদা ও অধিকার রক্ষায় পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রকে সম্মিলিতভাবে দায়িত্ব পালন করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, কন্যাশিশুর নিরাপদে বেড়ে ওঠার ক্ষেত্রে সরকারের পাশাপাশি সমাজ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও পরিবারের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কন্যাশিশুর স্বপ্নকে শক্তিতে, শিক্ষাকে সক্ষমতায় এবং সম্ভাবনাকে সাফল্যে রূপ দেওয়ার মধ্য দিয়েই আগামী দিনের বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব।
বাণীর শেষে প্রধানমন্ত্রী জাতীয় কন্যাশিশু দিবস উপলক্ষে দেশের সব কন্যাশিশু, তাদের অভিভাবক ও দেশবাসীকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান।
মন্তব্য করুন