গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে রোপা আমন ধানের জমিতে মাজরা পোকার আক্রমণ দেখা দিয়েছে। কীটনাশক প্রয়োগ করেও পোকা নিয়ন্ত্রণে না আসায় একদিকে উৎপাদন খরচ বাড়ছে, অন্যদিকে ফলন নিয়ে অনিশ্চয়তায় পড়েছেন কৃষকরা।
উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের প্রায় সর্বত্রই মাজরা পোকার আক্রমণ দেখা দিয়েছে। ধানগাছের গোড়ায় আক্রমণ করায় অনেক গাছ শুকিয়ে সাদা হয়ে যাচ্ছে। এতে ব্যাহত হচ্ছে ধানের স্বাভাবিক বৃদ্ধি। কৃষকদের অভিযোগ, বারবার কীটনাশক স্প্রে করেও কার্যকর ফল পাওয়া যাচ্ছে না।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে গোবিন্দগঞ্জে ৩১ হাজার ৭০০ হেক্টর জমিতে আমন ধানের আবাদ হয়েছে। উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১ লাখ ২০ হাজার ৯০০ মেট্রিক টন। মৌসুমের শুরুতেই পোকার আক্রমণে লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
নারায়নপুর গ্রামের কৃষক আব্দুল মালেক বলেন, ধান রোপণের পর থেকে নিয়মিত পরিচর্যা করলেও মাজরা পোকার আক্রমণে অনেক গাছ মারা যাচ্ছে। কয়েকবার কীটনাশক প্রয়োগ করেও ফল না পাওয়ায় খরচ বাড়ছে।
পোগইল গ্রামের কৃষক সাইদুর রহমান বলেন, ধানের গোড়ায় পোকা ঢুকে গাছ সাদা করে দিচ্ছে। এতে জমি নষ্ট হওয়ার উপক্রম হয়েছে। ফলন কমে গেলে ঋণ পরিশোধ করাও কঠিন হয়ে পড়বে।
কামারদহ ইউনিয়নের বার্ণাচন্দ্র শিখর গ্রামের কৃষক নজরুল ইসলাম বলেন, আমন ধানই তাদের কৃষির প্রধান ভরসা। মৌসুমের শুরুতেই পোকার আক্রমণে তারা উদ্বিগ্ন। সরকারি দিকনির্দেশনা ও সহযোগিতা প্রয়োজন বলেও জানান তিনি।
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা আজিজা আকতার সেবু বলেন, এখনো আতঙ্কিত হওয়ার কারণ নেই। কৃষকরা কৃষি বিভাগের পরামর্শ অনুযায়ী ব্যবস্থা নিলে মাজরা পোকার আক্রমণ নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ইমরুল কায়েছের নেতৃত্বে উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা মাঠপর্যায়ে কৃষকদের সঙ্গে কাজ করছেন।
মন্তব্য করুন