‘সবার আগে বাংলাদেশ’ — জাতীয়..
প্রকাশ: 7 November 2026 । 20:08 | আপডেট: 7 November 2026 । 20:13
ষ্টাফ করেসপন্ডেন্ট:-
ভবিষ্যতে কেউ যেন দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও জনগণের অধিকার হরণ করে বাংলাদেশকে তাঁবেদার রাষ্ট্রে পরিণত করতে না পারে, সে অঙ্গীকার নিয়ে জাতীয় ঐক্য সুদৃঢ় করার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
তিনি বলেন, জাতীয় ঐক্য প্রতিষ্ঠায় সিপাহী-জনতার বিপ্লবের চেতনা মনে-প্রাণে ধারণ করতে হবে। বাংলাদেশের মানুষ জাতীয় স্বার্থ ও স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে কখনো আপস করেনি। সবকিছুর ঊর্ধ্বে তাদের কাছে বাংলাদেশ।
শনিবার (৭ নভেম্বর) ঐতিহাসিক জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে রাজধানীর বনানীর আর্মি স্টেডিয়ামে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর দেশপ্রেমিক সিপাহী-জনতা ঐক্যবদ্ধভাবে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ববিরোধী ষড়যন্ত্র রুখে দিয়েছিল। ওই বছরের নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহে ষড়যন্ত্র চরম আকার ধারণ করে। এরই ধারাবাহিকতায় ৩ নভেম্বর দিবাগত রাতে তৎকালীন সেনাপ্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল জিয়াউর রহমানকে সপরিবারে গৃহবন্দি করা হয়। স্বাধীনতার ঘোষককে বন্দি রেখে দেশের স্বার্থবিরোধী যে ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছিল, সিপাহী-জনতা ঐক্যবদ্ধভাবে তা প্রতিহত করে।

তিনি আরও বলেন, যারা বাংলাদেশকে তাঁবেদার রাষ্ট্রে পরিণত করতে এবং জনগণের গণতান্ত্রিক ও রাজনৈতিক অধিকার হরণ করে একদলীয় শাসন প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছিল, ৭ নভেম্বরের বিপ্লবের মাধ্যমে তাদের পরাজয় ঘটে। তবে পরাজিত অপশক্তির ষড়যন্ত্র পরবর্তী সময়েও অব্যাহত ছিল। পিলখানায় সেনা হত্যাকাণ্ডের মাধ্যমে সশস্ত্র বাহিনীর মর্যাদা ক্ষুণ্ন করা হয় এবং জনগণের অধিকার কেড়ে নিয়ে ফ্যাসিবাদী শাসন প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল।
তারেক রহমান বলেন, হাজারো মানুষের আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে সেই অপশক্তির পরাজয় ঘটে। ১৯৭১ সালের যুদ্ধ ছিল স্বাধীনতা অর্জনের লড়াই, আর ২০২৪ সালের আন্দোলন ছিল দেশ ও জনগণের স্বাধীনতা রক্ষার লড়াই। ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর এবং ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট দেশের মানুষ ঐক্যবদ্ধ হয়ে স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ববিরোধী ষড়যন্ত্র প্রতিহত করেছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাসে ৭ নভেম্বর ছিল দেশের ভবিষ্যৎ পথরেখা নির্ধারণের দিন। বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের ভিত্তি সুদৃঢ় করার ক্ষেত্রে এ দিনের গুরুত্ব রয়েছে। দল, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে সব নাগরিকের পরিচয় বাংলাদেশি। এই পরিচয়ই জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করেছে।

তরুণ প্রজন্মের উদ্দেশে তিনি বলেন, একটি জাতির ইতিহাস কেবল অতীতের স্মৃতিচারণ নয়; সঠিক ইতিহাস আত্মপরিচয়, আত্মমর্যাদা ও সম্মিলিত ভবিষ্যৎ নির্মাণের প্রেরণা। নতুন প্রজন্ম ৭ নভেম্বরের প্রেরণায় উদ্বুদ্ধ হয়ে ঐক্যবদ্ধ থাকলে বাংলাদেশ আর পথ হারাবে না। তরুণদের সম্ভাবনা বিকাশের উপযুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করতে সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ বলেও জানান তিনি।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, স্বাধীনতা অর্জনের গৌরব সমুন্নত রেখে একটি নিরাপদ, সমৃদ্ধ, মানবিক ও মর্যাদাপূর্ণ বাংলাদেশ গড়ে তোলা প্রতিটি প্রজন্মের দায়িত্ব।
দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ৭ নভেম্বরের ঐতিহাসিক দিনে দেশপ্রেমিক ও গণতন্ত্রকামী মানুষের উচ্চারণ হোক—‘দিল্লি নয়, পিন্ডি নয়, নয় অন্য কেউ, সবার আগে বাংলাদেশ’।
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান, উপদেষ্টা, জাতীয় সংসদ সদস্য, বিভিন্ন কূটনৈতিক মিশনের প্রতিনিধি, তিন বাহিনীর প্রধান, সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তা, শিক্ষার্থী, তরুণ, বিএনসিসি ও স্কাউটস সদস্যসহ আমন্ত্রিত অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন।
উপদেষ্টা সম্পাদকঃ রোমান চৌধুরী।
প্রকাশকঃ সানজিদা রেজিন মুন্নি।
সম্পাদকঃ কামরুজ্জামান বাঁধন।
ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ মোঃ জাহাঙ্গীর আলম।
মোবাইলঃ ০১৭১১-৯৫৭২৬৩, ০১৭১২-৮৩১৪৪৭
মেইলঃ rhbnews247@gmail.com, CC: rhbnews.nd@gmail.com
ঢাকা অফিসঃ ২০৩/এ পশ্চিম নাখালপাড়া, তেজগাঁও , ঢাকা -১২১৫.