পাঁচ অগ্রাধিকার খাতে জাপানি বিনিয়োগ..

প্রকাশ: 28 October 2026 । 18:16 | আপডেট: 28 October 2026 । 18:17

ষ্টাফ করেসপন্ডেন্ট:-

টোকিওতে বাংলাদেশ-জাপান অর্থনৈতিক ফোরামে জাপানি কোম্পানিগুলোকে বাংলাদেশের পাঁচটি অগ্রাধিকার খাতে বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। খাতগুলো হলো—মোটরযান উৎপাদন, জ্বালানি, প্রযুক্তি ও মহাকাশ সহযোগিতা, রেল ও লজিস্টিকস এবং কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ ও উৎপাদন।

বুধবার (২৮ অক্টোবর) স্থানীয় সময় বিকেলে টোকিওর জেট্রো হলে আয়োজিত বাংলাদেশ-জাপান অর্থনৈতিক ফোরাম সংলাপে মূল বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, পারস্পরিক স্বার্থ ও সুবিধার ভিত্তিতে দুই দেশের ভবিষ্যৎ সহযোগিতা ও ব্যবসায়িক সুযোগ সম্প্রসারণে এসব খাত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। বর্তমানে বাংলাদেশে প্রায় ৩৫০টি জাপানি কোম্পানি কার্যক্রম পরিচালনা করছে। তবে দেশটিতে জাপানের প্রত্যক্ষ বিনিয়োগের পরিমাণ এখনো ৫০ কোটি মার্কিন ডলারের কম।

তিনি জানান, সর্বশেষ অর্থবছরে জাপানে বাংলাদেশের রপ্তানি আয় ছিল ১৩৬ কোটি মার্কিন ডলার। একই সময়ে জাপান থেকে বাংলাদেশ ২১৬ কোটি মার্কিন ডলারের পণ্য আমদানি করেছে। উন্নয়ন সহযোগিতার পাশাপাশি বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণের মাধ্যমে দুই দেশের সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

তারেক রহমান বলেন, চলতি বছর বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি (ইপিএ) স্বাক্ষরিত হয়েছে। বাংলাদেশের সঙ্গে কোনো দেশের এটিই প্রথম এ ধরনের চুক্তি। এর আওতায় বাংলাদেশের ৭ হাজার ৩৭৯টি পণ্য জাপানের বাজারে শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার পাবে। অন্যদিকে, ইস্পাত, মোটরযানের যন্ত্রাংশ ও ইলেকট্রনিক উপাদানসহ জাপানি পণ্য বাংলাদেশে অগ্রাধিকারমূলক বাজার সুবিধা পাবে।

মোটরযান উৎপাদন খাতে বিনিয়োগের সম্ভাবনা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, চলতি মাসের শুরুতে টয়োটা বাংলাদেশে যানবাহন উৎপাদন কারখানা স্থাপনের কাজ শুরুর পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে। ২০২৯ সালের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ উৎপাদন শুরুর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এ উদ্যোগে সরকারের পক্ষ থেকে সম্ভাব্য সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দেন তিনি।

জ্বালানি খাতে এলএনজি অবকাঠামো, দক্ষ গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন ও নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিনিয়োগের আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। এ ছাড়া প্রযুক্তি ও মহাকাশ সহযোগিতার আওতায় বাংলাদেশ-জাপান প্রযুক্তি পার্ক প্রতিষ্ঠা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ক্লাউড কম্পিউটিং, রোবোটিকস, ইলেকট্রনিকস উৎপাদন এবং স্যাটেলাইট প্রকৌশলে যৌথ উদ্যোগের সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেন তিনি।

রেল ও লজিস্টিকস খাতে ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট, রাজশাহী, খুলনা ও বরিশালসহ প্রধান শহরগুলোকে সংযুক্ত করে দেশব্যাপী উড়ালপথে উচ্চগতির রেল নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথা জানান তারেক রহমান। এ জন্য রেল নেটওয়ার্কের মাস্টারপ্ল্যান, যাত্রী ও পণ্য পরিবহনের চাহিদা বিশ্লেষণ এবং সম্ভাব্যতা সমীক্ষায় জাপানি প্রতিষ্ঠানগুলোর কারিগরি ও বিনিয়োগ সহায়তা চান তিনি।

কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ ও উৎপাদনশিল্পে বিনিয়োগের সুযোগ তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে উৎপাদিত বিভিন্ন ফসল, ফলমূল ও শাকসবজি প্রক্রিয়াজাতকরণে জাপানি কোম্পানিগুলো বিনিয়োগ করতে পারে। পাশাপাশি আড়াইহাজারে অবস্থিত বাংলাদেশ বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলেও বিনিয়োগের আহ্বান জানান তিনি। সুমিতোমো করপোরেশন জাপানি মানদণ্ড অনুসরণ করে এ অর্থনৈতিক অঞ্চলটি গড়ে তুলছে।

জাপানি বিনিয়োগকারীদের উদ্বেগের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, নির্ভরযোগ্য জ্বালানি সরবরাহ, দক্ষ অবকাঠামো এবং শুল্ক ও করব্যবস্থায় পূর্বানুমানযোগ্যতা নিশ্চিত করা জরুরি। বিনিয়োগকারীদের আস্থা অর্জনে এসব সমস্যা সমাধানে সরকার কাজ করছে বলেও জানান তিনি।

বাংলাদেশের বিনিয়োগ সম্ভাবনা তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, ১৮ কোটিরও বেশি মানুষের বাজার, তরুণ শ্রমশক্তি এবং ক্রমবর্ধমান মধ্যবিত্ত শ্রেণি দেশের বড় সম্পদ। পাশাপাশি জাপানে উচ্চশিক্ষা ও দক্ষতা অর্জনে বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের সুযোগ বাড়ানো এবং তরুণদের জাপানি ভাষায় দক্ষ করে তোলার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

দুই দেশের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৯৭২ সালের ফেব্রুয়ারিতে বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেওয়া প্রথম দেশগুলোর মধ্যে জাপান ছিল অন্যতম। পাঁচ দশকেরও বেশি সময় ধরে দেশটি বাংলাদেশের বৃহত্তম উন্নয়ন সহযোগী হিসেবে ভূমিকা পালন করছে। এখন উন্নয়ন সহযোগিতার গণ্ডি পেরিয়ে শিল্পায়ন, কর্মসংস্থান ও বিনিয়োগে দীর্ঘমেয়াদি অংশীদারত্ব গড়ে তোলার সময় এসেছে।

বাংলাদেশ দূতাবাসের সহযোগিতায় জাপান বৈদেশিক বাণিজ্য সংস্থা (জেট্রো) এবং জাপান-বাংলাদেশ বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা কমিটির (জেবিসিসিইসি) যৌথ আয়োজনে এ সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়। এতে দুই দেশের ব্যবসায়ী নেতারা অংশ নেন। অনুষ্ঠানে জেট্রোর প্রেসিডেন্ট সুসুমু কাতাওকা ও জাপানের অর্থনীতি, বাণিজ্য ও শিল্পবিষয়ক সংসদীয় উপমন্ত্রী শিনজি ওয়াকায়ামা বক্তব্য দেন।

এ সময় সমঝোতা স্মারক বিনিময় এবং বিনিয়োগ ও সহযোগিতামূলক প্রকল্পের ঘোষণা দেওয়া হয়। বাংলাদেশের অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, ইনভেস্ট বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন এবং প্রধানমন্ত্রীর ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদও অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন।

উপদেষ্টা সম্পাদকঃ রোমান চৌধুরী।

প্রকাশকঃ  সানজিদা রেজিন মুন্নি।

সম্পাদকঃ কামরুজ্জামান বাঁধন।

নির্বাহী সম্পাদকঃ মোঃ জালাল উদ্দিন জুয়েল।

মোবাইলঃ ০১৭১১-৯৫৭২৬৩, ০১৭১২-৮৩১৪৪৭

মেইলঃ rhbnews247@gmail.com, CC: rhbnews.nd@gmail.com

ঢাকা অফিসঃ এ্যাড পার্ক, ওয়াজী কমপ্লেক্স (৯ম তলা), ৩১/সি, তোপখানা রোড, সেগুনবাগিচা, ঢাকা -১০০০.

error: Content is protected !!