নেপাল-তিব্বতে বন্যা-ভূমিধসে মৃত ১,২২৫, নিখোঁজ..
প্রকাশ: ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ । ১৪:০৬ | আপডেট: ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ । ১৪:০৬
ষ্টাফ করেসপন্ডেন্ট:-
নেপাল ও চীনের তিব্বত স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চলে ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১ হাজার ২২৫ জনে দাঁড়িয়েছে। দুই অঞ্চল মিলিয়ে এখনো নিখোঁজ রয়েছেন অন্তত ৪ হাজার ৭৫৭ জন।
নেপালের জাতীয় দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, দেশটিতে এখন পর্যন্ত অন্তত ১ হাজার ২০৪ জন নিহত হয়েছেন। নিখোঁজ রয়েছেন প্রায় ৪ হাজার ২১৬ জন। ভয়াবহ এই দুর্যোগে নেপালের বিভিন্ন জেলার প্রায় ১৬ লাখ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে রসুয়া ও নুয়াকোট জেলা।
জলবিদ্যুৎ প্রকল্পগুলোর সুড়ঙ্গে আটকে পড়া কর্মীদের উদ্ধারে প্রতিকূল আবহাওয়ার মধ্যেও অভিযান চালিয়ে যাচ্ছেন উদ্ধারকারীরা। ভারত, দক্ষিণ কোরিয়া ও চীনের বিশেষজ্ঞদের সহায়তায় বিভিন্ন সুড়ঙ্গে তল্লাশি চালানো হচ্ছে। প্রায় ৯০০ কর্মী জলবিদ্যুৎ প্রকল্প এলাকায় নিখোঁজ রয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
অন্যদিকে, চীনের তিব্বত স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চলের গিরং সীমান্তবন্দরে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ২১ জনে পৌঁছেছে। চায়না ডেইলির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বুধবার দুপুর পর্যন্ত সেখানে ৫৪১ জন নিখোঁজ ছিলেন। নিখোঁজদের সন্ধানে ২ হাজার ৩০০-এর বেশি উদ্ধারকর্মী মোতায়েন করা হয়েছে।
গত ২৬ আগস্ট নেপাল-তিব্বত সীমান্তের কাছে লাংটাং লিরুং অঞ্চলে হিমবাহ, বরফ ও শিলার বিশাল অংশ ধসে ভয়াবহ ধ্বংসপ্রবাহের সৃষ্টি হয়। বরফ, পাথর ও কাদামিশ্রিত সেই স্রোত লেন্দে খোলা ও ত্রিশূলী নদী ধরে প্রায় ১০০ কিলোমিটার পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ে। এতে সীমান্তবর্তী জনপদগুলোতে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের সৃষ্টি হয়।
নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ এই দুর্যোগকে হিমালয় অঞ্চলে বাড়তে থাকা জলবায়ু ঝুঁকির সতর্কবার্তা হিসেবে উল্লেখ করেছেন। বিষয়টি আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আরও জোরালোভাবে তুলে ধরার আহ্বানও জানিয়েছেন তিনি।
হিমবাহ ও শিলাধসের সময় সৃষ্ট কম্পনকে প্রথমে ৪ দশমিক ৪ মাত্রার ভূমিকম্প হিসেবে নথিভুক্ত করেছিল যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস)। পরে আরও তথ্য বিশ্লেষণ করে সংস্থাটি জানায়, এটি কোনো ভূমিকম্প ছিল না। হিমবাহ ধস ও ধ্বংসপ্রবাহ থেকেই ওই ভূকম্পীয় সংকেত তৈরি হয়েছিল। পরবর্তী বিশ্লেষণে ওই কম্পনের শক্তি ৫ দশমিক ২ মাত্রার ভূমিকম্পের সমতুল্য বলে জানানো হয়।
এদিকে বন্যায় নেপালের ক্ষয়ক্ষতির চিত্রও ক্রমেই স্পষ্ট হচ্ছে। সরকারি প্রাথমিক হিসাবে, ৪১টি কংক্রিটের সেতু পুরোপুরি ধ্বংস হয়েছে এবং আরও চারটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। শুধু নুয়াকোট জেলাতেই ১ হাজার ২৬৭টি বাড়ি পুরোপুরি ধ্বংস হয়েছে। আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে আরও ১ হাজার ২৫৩টি বাড়ি।
সর্বশেষ হিসাবে, নেপালে প্রায় ৭ হাজার ৫০০ বাড়ি সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়েছে অথবা কাদা ও ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়েছে। দেশটির দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের ধারণা, ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনের জন্য নিরাপদ স্থানে প্রায় ২০ হাজার নতুন বাড়ি নির্মাণের প্রয়োজন হতে পারে।
উদ্ধার ও তল্লাশি অভিযানের পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়, পুনর্বাসন এবং স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনতে কাজ করে যাচ্ছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
উপদেষ্টা সম্পাদকঃ রোমান চৌধুরী।
প্রকাশকঃ সানজিদা রেজিন মুন্নি।
সম্পাদকঃ কামরুজ্জামান বাঁধন।
নির্বাহী সম্পাদকঃ মোঃ জালাল উদ্দিন জুয়েল।
মোবাইলঃ ০১৭১১-৯৫৭২৬৩, ০১৭১২-৮৩১৪৪৭
মেইলঃ rhbnews247@gmail.com, CC: rhbnews.nd@gmail.com
ঢাকা অফিসঃ এ্যাড পার্ক, ওয়াজী কমপ্লেক্স (৯ম তলা), ৩১/সি, তোপখানা রোড, সেগুনবাগিচা, ঢাকা -১০০০.