গণপতি হত্যা: দুই আসামির মধ্যে..

প্রকাশ: ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ । ১৫:৩৩ | আপডেট: ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ । ১৫:৩৩

ষ্টাফ করেসপন্ডেন্ট:-

রংপুর নগরীর কামালকাছনা মাছুয়াপাড়ায় অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীসহ একই পরিবারের চারজনকে হত্যার আগে ও পরে গ্রেপ্তার দুই আসামির মধ্যে ৮০ বার ফোনালাপ হয়েছে বলে জানিয়েছে মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। কলের ধরন বিশ্লেষণ করে হত্যাকাণ্ডটি পূর্বপরিকল্পিত হতে পারে বলে ধারণা করছে পুলিশ।

সোমবার (৩১ আগস্ট) রাতে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিবি) সনাতন চক্রবর্তী এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

তিনি জানান, হত্যাকাণ্ডের আগের ১২ ঘণ্টায় সিদ্ধার্থ দাস তার দুটি মোবাইল নম্বর থেকে মুগ্ধ দাসের একটি নম্বরে ৩০ বার কল করেন। সবগুলো কলই সিদ্ধার্থের দিক থেকে করা হয়েছিল। অধিকাংশ কলের স্থায়িত্ব ছিল ১৩, ১৫ ও ১৭ সেকেন্ডের মতো। ২০ আগস্টের মধ্যে তাদের সর্বোচ্চ একটি ফোনালাপের স্থায়িত্ব ছিল ৯৬ সেকেন্ড।

ডিবি জানায়, ২২ আগস্ট সন্ধ্যা ৮টা থেকে আগের ৮০ ঘণ্টার কলের তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়েছে। এ সময় দুই আসামির সঙ্গে বাইরের আরও কয়েকজনের যোগাযোগের তথ্য পাওয়া গেছে। তবে তদন্তের স্বার্থে তাদের পরিচয় বা যোগাযোগের বিস্তারিত জানায়নি পুলিশ।

সনাতন চক্রবর্তী বলেন, দুই আসামির যোগাযোগের ধরন বিশ্লেষণ করে এখন পর্যন্ত মনে হচ্ছে, ঘটনাটি আকস্মিক নয়; এর পেছনে পূর্বপরিকল্পনা থাকতে পারে। তবে তদন্তে এখন পর্যন্ত হত্যাকাণ্ডে সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ দাসের সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া গেছে।

ডোপ টেস্টে মাদক মেলেনি

এদিকে গ্রেপ্তার দুই আসামির ডোপ টেস্টে শরীরে কোনো ধরনের মাদকের উপস্থিতি পাওয়া যায়নি। এতে হত্যাকাণ্ডের কারণ নিয়ে নতুন প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।

গ্রেপ্তারের পর পুলিশ জানিয়েছিল, ইয়াবা সেবনের উদ্দেশ্যে সিদ্ধার্থ ও মুগ্ধ গণপতি চক্রবর্তীর বাড়ির ছাদে গিয়েছিলেন। এ সময় গণপতি তাদের দেখে বাধা দিলে হত্যাকাণ্ড ঘটে। আসামিরা হত্যাকাণ্ডের আগে ও পরে মোট নয়টি ইয়াবা সেবনের কথাও জানিয়েছিলেন বলে পুলিশ সূত্রে জানা যায়।

তবে মামলার তদন্তের অংশ হিসেবে আদালতের নির্দেশে রোববার রংপুর কেন্দ্রীয় কারাগারে গিয়ে দুই আসামির প্রস্রাবের নমুনা সংগ্রহ করা হয়। পরে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পরীক্ষা করা হলে তাদের শরীরে মাদকের উপস্থিতি পাওয়া যায়নি বলে জানান ডিবির উপ-পুলিশ কমিশনার।

বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রস্রাব পরীক্ষায় সাধারণত নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে মাদকের উপস্থিতি শনাক্ত করা যায়। গ্রেপ্তারের নয় দিন পর নমুনা সংগ্রহ করায় পরীক্ষায় মাদকের উপস্থিতি শনাক্ত না হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

দুই দিনের জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদ

দুই আসামিকে আরও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তিন দিনের রিমান্ড আবেদন করেছিল পুলিশ। তবে তারা ইতোমধ্যে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেওয়ায় এবং নতুন তদন্ত কর্মকর্তা নিয়োগের বিষয়টি বিবেচনায় থাকায় আদালত তিন দিনের পরিবর্তে দুই দিন জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দেন।

রংপুরের চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক মো. রফিকুল ইসলাম প্রতিদিন তিন ঘণ্টা করে দুই দিন আসামিদের জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদের নির্দেশ দেন।

গত ২২ আগস্ট রংপুর নগরীর মাছুয়াপাড়া এলাকায় নিজ বাড়ি থেকে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী, তার স্ত্রী, মেয়ে ও ছেলের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ দাসকে গ্রেপ্তার করা হয়। তারা আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।

ঘটনার পর নিহত গণপতি চক্রবর্তীর বড় ভাই গোপীনাথ চক্রবর্তী বাদী হয়ে নগরীর কোতোয়ালি থানায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে হত্যা মামলা করেন। পরে মামলাটি কোতোয়ালি থানা থেকে মহানগর ডিবিতে হস্তান্তর করা হয়। তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয় ডিবির পরিদর্শক জিন্নাত আলীকে।

উপদেষ্টা সম্পাদকঃ রোমান চৌধুরী।

প্রকাশকঃ  সানজিদা রেজিন মুন্নি।

সম্পাদকঃ কামরুজ্জামান বাঁধন।

নির্বাহী সম্পাদকঃ মোঃ জালাল উদ্দিন জুয়েল।

মোবাইলঃ ০১৭১১-৯৫৭২৬৩, ০১৭১২-৮৩১৪৪৭

মেইলঃ rhbnews247@gmail.com, CC: rhbnews.nd@gmail.com

ঢাকা অফিসঃ এ্যাড পার্ক, ওয়াজী কমপ্লেক্স (৯ম তলা), ৩১/সি, তোপখানা রোড, সেগুনবাগিচা, ঢাকা -১০০০.

error: Content is protected !!