পঞ্চগড়ে আবারও দেখা মিলছে কাঞ্চনজঙ্ঘার..
প্রকাশ: ১১ আগস্ট ২০২৬ । ১৮:৪৯ | আপডেট: ১১ আগস্ট ২০২৬ । ১৮:৪৯
ষ্টাফ করেসপন্ডেন্ট:-
পঞ্চগড়ে আবারও দেখা দিতে শুরু করেছে কাঞ্চনজঙ্ঘার মনোমুগ্ধকর দৃশ্য। অনুকূল আবহাওয়া আর মেঘমুক্ত আকাশে সীমান্তবর্তী এই জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে খালি চোখেই দেখা গেছে বরফাচ্ছাদিত এ পর্বতচূড়া।
আগস্টের শুরুতেই আজ মঙ্গলবার সকাল দশটার দিকে হালকা অপূর্ব কাঞ্চনজঙ্ঘার দৃশ্য স্থানীয়দের মধ্যে উচ্ছ্বাস সৃষ্টি করেছে। অনেকেই এই দৃশ্যের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দিচ্ছে।
এই অপূর্ব কাঞ্চনজঙ্ঘা ভোরের আলো কিংবা বিকেলের শেষ সূর্যের রশ্মি যখন বরফে ঢাকা পর্বতের গায়ে পড়ে, তখন বদলে যায় কাঞ্চনজঙ্ঘার রূপ। সূর্যের অবস্থান ও আলোর তারতম্যে কখনো সাদা, কখনো গোলাপি, আবার কখনো লালচে আভায় দেখা যায় পর্বতচূড়া। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ধীরে ধীরে ঝাপসা হয়ে যায় সেই অপূর্ব দৃশ্য।
স্থানীয় বাসিন্দা মশিউর রহমান বলেন, আজ সকালে মাঠে কাজ করছিলাম। হঠাৎ আকাশের দিকে তাকিয়ে দেখি কাঞ্চনজঙ্ঘা। এত পরিষ্কার দৃশ্য খুব কমই দেখা যায়। দেখে সত্যিই দারুণ লাগছে। রাবিক আল হাসান বলেন, এবার আগস্টে শুরু থেকেই কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখা যাচ্ছে। শীতের আগে এভাবে পর্বত দেখা গেলে পর্যটকের সংখ্যাও বাড়বে। আশা করছি, এ মৌসুমে আগের বছরের তুলনায় ব্যবসা ভালো হবে।
কাঞ্চনজঙ্ঘার পাশাপাশি পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ার রয়েছে আরও নানা প্রাকৃতিক আকর্ষণ। তেঁতুলিয়া ডাকবাংলো এলাকা থেকে সন্ধ্যার পর ভারতের দার্জিলিং ও শিলিগুড়ির পাহাড়ি এলাকার আলোও দেখা যায়। দিনে কাঞ্চনজঙ্ঘার বরফঢাকা চূড়া আর সন্ধ্যায় দূর পাহাড়ের আলোর মায়াবী দৃশ্য প্রকৃতিপ্রেমীদের কাছে যা বাড়তি আকর্ষণ তৈরি করে।
বাংলাবান্ধা স্থলবন্দর থেকে নেপালের দূরত্ব প্রায় ৬১ কিলোমিটার, ভুটান ৬৪ কিলোমিটার, দার্জিলিং ৫৮ কিলোমিটার এবং শিলিগুড়ি প্রায় ৮০ কিলোমিটার। ভারত, নেপাল ও ভুটানের কাছাকাছি অবস্থানের কারণে পঞ্চগড়ের সীমান্তবর্তী এলাকাগুলো দেশের পর্যটকদের কাছেও দিন দিন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে।
যেভাবে যাবেন কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখতেঃ ঢাকার কমলাপুর থেকে আন্তনগর একতা, দ্রুতযান ও পঞ্চগড় এক্সপ্রেস ট্রেনে পঞ্চগড় যাওয়া যায়। ট্রেনভেদে জনপ্রতি ভাড়া প্রায় ৬৯৫ থেকে ১ হাজার ৬০০ টাকা। এছাড়া ঢাকার গাবতলী থেকে দূরপাল্লার বাসেও পঞ্চগড় যাওয়া যায়। এসি ও নন-এসি বাসভেদে ভাড়া প্রায় ৮৫০ থেকে ২ হাজার ৫০ টাকা পর্যন্ত।
পঞ্চগড় শহরে পৌঁছে বাস টার্মিনাল কিংবা রেলস্টেশন থেকে লোকাল বাস, অটোরিকশা বা প্রাইভেট কারে তেঁতুলিয়া, মহানন্দা নদীর পাড়, ডাকবাংলো ও বাংলাবান্ধাসহ বিভিন্ন দর্শনীয় স্থানে যাওয়া যায়।
তবে কাঞ্চনজঙ্ঘার দেখা পেতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় পরিষ্কার আকাশ। আকাশ মেঘমুক্ত থাকলে ভোর কিংবা বিকেলের দিকে দূর দিগন্তে চোখ রাখলেই মিলতে পারে বরফে ঢাকা সেই অপরূপ পর্বতশৃঙ্গের দেখা।
উপদেষ্টা সম্পাদকঃ রোমান চৌধুরী।
প্রকাশকঃ সানজিদা রেজিন মুন্নি।
সম্পাদকঃ কামরুজ্জামান বাঁধন।
নির্বাহী সম্পাদকঃ মোঃ জালাল উদ্দিন জুয়েল।
মোবাইলঃ ০১৭১১-৯৫৭২৬৩, ০১৭১২-৮৩১৪৪৭
মেইলঃ rhbnews247@gmail.com, CC: rhbnews.nd@gmail.com
ঢাকা অফিসঃ এ্যাড পার্ক, ওয়াজী কমপ্লেক্স (৯ম তলা), ৩১/সি, তোপখানা রোড, সেগুনবাগিচা, ঢাকা -১০০০.