নীরবে ছড়াচ্ছে হান্তাভাইরাস, শুরুটা সাধারণ..

প্রকাশ: ৭ মে ২০২৬ । ১৭:৫৯ | আপডেট: ৭ মে ২০২৬ । ১৭:৫৯

অনলাইন ডেস্ক

জ্বর, শরীর ব্যথা আর ক্লান্তি—ঋতু বদলের সময়ে এসব সমস্যা অনেকেই সাধারণ সর্দি-জ্বর ভেবে এড়িয়ে যান। কিন্তু চিকিৎসকদের সতর্কবার্তা, সব জ্বর সাধারণ নয়। বিশ্বজুড়ে নতুন আতঙ্ক হয়ে সামনে এসেছে হান্তা ভাইরাস। সম্প্রতি নেদারল্যান্ডসের একটি বিলাসবহুল জাহাজে এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে তিনজনের মৃত্যুর খবর সামনে এসেছে। এরপর থেকেই ভাইরাসটি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে বিভিন্ন দেশে।

হান্তাভাইরাস কী?

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হান্তাভাইরাস মূলত ইঁদুরের মল, মূত্র ও লালা থেকে ছড়ায়। নোংরা ঘর, গুদাম বা দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা জায়গা পরিষ্কার করার সময় ধুলোর সঙ্গে ভাইরাস বাতাসে মিশে মানুষের শরীরে ঢুকে যেতে পারে। অনেক সময় মানুষ বুঝতেই পারেন না কখন এই ভাইরাস শরীরে প্রবেশ করেছে।

কীভাবে শরীরে আক্রমণ করে? 

প্রথমদিকে হালকা জ্বর, মাথাব্যথা, শরীর ব্যথা, ক্লান্তি, বমিভাব বা পেটব্যথার মতো সাধারণ লক্ষণ দেখা দেয়। তাই অনেকেই এটিকে মৌসুমি জ্বর ভেবে ভুল করেন। কিন্তু কয়েক দিনের মধ্যেই পরিস্থিতি ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে। আক্রান্ত ব্যক্তির যেসব লক্ষণ দেখা দিতে পারে- জ্বর ও শরীর কাঁপুনি, মাথাব্যথা ও তীব্র শরীর ব্যথা, শ্বাসকষ্ট শুরু হয়, বুক ভারী লাগে, ক্লান্তি ও বমিভাব, ফুসফুসে পানি জমতে পারে। তখন দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি করা ছাড়া উপায় থাকে না।

কারা বেশি ঝুঁকিতে? 

সব হান্তাভাইরাস মানুষ থেকে মানুষে ছড়ায় না। তবে বর্তমানে যে ধরনের ভাইরাস নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে, সেটি খুব ঘনিষ্ঠ সংস্পর্শে একজন থেকে আরেকজনে ছড়াতে পারে বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। যাদের বাড়ি বা আশপাশে ইঁদুরের উপদ্রব বেশি, কৃষিকাজের সঙ্গে যুক্ত মানুষ, পাহাড়ি এলাকায় ভ্রমণকারী কিংবা পুরোনো ঘর পরিষ্কার করেন—তাদের ঝুঁকি বেশি বলে মনে করা হচ্ছে।

কেন এত ভয়ংকর?

ভাইরাসটি ফুসফুসে দ্রুত ক্ষতি করে
শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা অস্বাভাবিকভাবে প্রতিক্রিয়া দেখায়
রক্তনালি থেকে তরল বের হয়ে ফুসফুসে জমতে পারে
এতে শ্বাসযন্ত্র বিকল হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়
কীভাবে সতর্ক থাকবেন ও চিকিৎসকদের পরামর্শ

এখন পর্যন্ত এই ভাইরাসের নির্দিষ্ট কোনো টিকা বা বিশেষ ওষুধ নেই। তাই সতর্ক থাকাই সবচেয়ে বড় উপায়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নোংরা জায়গা পরিষ্কার করার সময় অবশ্যই মুখে মাস্ক ও হাতে দস্তানা ব্যবহার করতে হবে। ইঁদুরের মল বা মূত্র দেখা গেলে সরাসরি হাত না দিয়ে জীবাণুনাশক ব্যবহার করা উচিত। পাশাপাশি খাবার খোলা না রেখে ঘর পরিষ্কার রাখার পরামর্শও দিয়েছেন তারা।

চিকিৎসকদের সতর্কবার্তা, জ্বরের সঙ্গে শ্বাসকষ্ট বা অস্বাভাবিক দুর্বলতা দেখা দিলে দেরি না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

সূত্র: ইউকে হেলথ সিকিউরিটি এজেন্সি

উপদেষ্টা সম্পাদকঃ রোমান চৌধুরী।

প্রকাশকঃ  সানজিদা রেজিন মুন্নি।

সম্পাদকঃ কামরুজ্জামান বাঁধন।

নির্বাহী সম্পাদকঃ মোঃ জালাল উদ্দিন জুয়েল।

মোবাইলঃ ০১৭১১-৯৫৭২৬৩, ০১৭১২-৮৩১৪৪৭

মেইলঃ rhbnews247@gmail.com, CC: rhbnews.nd@gmail.com

ঢাকা অফিসঃ এ্যাড পার্ক, ওয়াজী কমপ্লেক্স (৯ম তলা), ৩১/সি, তোপখানা রোড, সেগুনবাগিচা, ঢাকা -১০০০.

error: Content is protected !!