শ্রীমঙ্গলে চা-বাগান লেক-কে ঘিরে পর্যটন..

প্রকাশ: ১৯ আগস্ট ২০২৫ । ১২:৫৩ | আপডেট: ১৯ আগস্ট ২০২৫ । ১২:৫৩

আতাউর রহমান কাজল “ ব্যুরো চীফ, সিলেট”

মৌলভীবাজার জেলার শ্রীমঙ্গলকে বলা হয় বাংলাদেশের চায়ের রাজধানী। দেশের সবচেয়ে বেশি চা উৎপাদন হয় এই উপজেলায়। তবে শুধু চা উৎপাদন নয়, শ্রীমঙ্গল ধীরে ধীরে হয়ে উঠছে দেশের অন্যতম আকর্ষণীয় পর্যটন কেন্দ্র। এখানে অবস্থিত চা বাগান, দৃষ্টিনন্দন প্রাকৃতিক দৃশ্য, পাহাড়, লেক ও চা শ্রমিকদের বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতি প্রতি বছর বিপুল সংখ্যক পর্যটককে টেনে আনে।

শ্রীমঙ্গলের প্রায় প্রতিটি বড় চা বাগানেই রয়েছে ছোট-বড় মনোরম লেক। এসব লেক একদিকে বাগানের সৌন্দর্য বৃদ্ধি করেছে, অন্যদিকে পর্যটকদের কাছে বাড়তি আকর্ষণ সৃষ্টি করেছে। বর্তমানে অনেক পর্যটক বাগান পরিদর্শনের পাশাপাশি লেকের পাশেই সময় কাটাতে আগ্রহী হন। কিন্তু অধিকাংশ ক্ষেত্রেই এসব লেক এখনো সাধারণ পর্যটকদের জন্য পুরোপুরি উন্মুক্ত নয়।

যদি টিকিট সিস্টেম চালু করে এসব লেক ও বাগান পর্যটকদের জন্য উন্মুক্ত করা হয়, তবে চা শিল্পকে কেন্দ্র করে নতুন করে পর্যটন আয় সৃষ্টি হবে। এতে স্থানীয় মানুষের কর্মসংস্থান বাড়বে, বাগান কর্তৃপক্ষেরও অতিরিক্ত আয়ের সুযোগ তৈরি হবে।

মাধবপুর চা বাগান – এখানে বিশাল মাধবপুর লেক রয়েছে, যা পর্যটকদের কাছে ইতিমধ্যেই জনপ্রিয়। সঠিক ব্যবস্থাপনায় এটি আরও আকর্ষণীয় করে তোলা সম্ভভ।

রাজঘাট চা বাগান – বাগানের ভেতরে অবস্থিত ছোট ছোট লেক পর্যটন উন্নয়নের জন্য ব্যবহার করা যেতে পারে।

সাতগাঁও চা বাগান – এখানে রয়েছে চা কন্যা ভাস্কর্য। যদি পাশের লেককে পর্যটকদের জন্য সাজানো হয় তবে এটি হবে বাড়তি আকর্ষণ।

ভাড়াউড়া ও ফিনলে চা বাগানসমূহের লেক – ঐতিহাসিক এসব বাগানের লেক ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্য পর্যটন খাতে বিশাল ভূমিকা রাখতে পারে।

চা বাগানের ভেতরে লেক ঘিরে বোটিং, ফিশিং, ওয়াকওয়ে ও বসার স্থান তৈরি করা যায়।স্থানীয় ও বিদেশি পর্যটকদের জন্য গাইডেড ট্যুর চালু করলে চা শিল্পের ইতিহাস ও ঐতিহ্য তারা কাছ থেকে জানতে পারবে। টিকিটের মাধ্যমে আয় হওয়া অর্থ বাগানের রক্ষণাবেক্ষণ ও শ্রমিক কল্যাণে ব্যয় করা যেতে পারে।

শ্রীমঙ্গলে প্রতি বছর বিপুল সংখ্যক দেশি-বিদেশি পর্যটক আসেন—প্রতিদিন গড়ে ২-৩ হাজার পর্যটক শ্রীমঙ্গলের বিভিন্ন দর্শনীয় স্থানে ভ্রমণ করেন। এদের বড় অংশকেই চা বাগান ও লেক ঘিরে আকৃষ্ট করা সম্ভব।

শুধু আয়ই নয়, সঠিক পরিকল্পনার মাধ্যমে শ্রীমঙ্গলের চা শিল্প ও ঐতিহ্যকে বিশ্ব দরবারে তুলে ধরা সম্ভব। লেককেন্দ্রিক পর্যটনের উদ্যোগ নিলে শ্রীমঙ্গল হয়ে উঠবে দেশের অন্যতম ইকো-ট্যুরিজম হাব।

চা শিল্পের সাথে জড়িয়ে থাকা এসব দৃষ্টিনন্দন লেক যদি সুষ্ঠু পরিকল্পনা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করে পর্যটকদের জন্য উন্মুক্ত করা হয়, তবে শ্রীমঙ্গলের পর্যটন খাতে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে। এতে যেমন জাতীয় অর্থনীতিতে নতুন সংযোজন ঘটবে, তেমনি চা শিল্পের ইতিহাস ও ঐতিহ্যও আরও বেশি মানুষের কাছে পৌঁছে যাবে।

উপদেষ্টা সম্পাদকঃ রোমান চৌধুরী।

প্রকাশকঃ  সানজিদা রেজিন মুন্নি।

সম্পাদকঃ কামরুজ্জামান বাঁধন।

নির্বাহী সম্পাদকঃ মোঃ জালাল উদ্দিন জুয়েল।

মোবাইলঃ ০১৭১১-৯৫৭২৬৩, ০১৭১২-৮৩১৪৪৭

মেইলঃ rhbnews247@gmail.com, CC: rhbnews.nd@gmail.com

ঢাকা অফিসঃ এ্যাড পার্ক, ওয়াজী কমপ্লেক্স (৯ম তলা), ৩১/সি, তোপখানা রোড, সেগুনবাগিচা, ঢাকা -১০০০.

error: Content is protected !!