বিএডিসি কর্মকর্তার যোগসাজশে লাইসেন্স কৃষকদের..

প্রকাশ: 17 June 2023 । 17:45 | আপডেট: 17 June 2023 । 17:45

মোঃ আব্দুল আজিজ ভাঙ্গুরা করেসপন্ডেন্ট,পাবনা

পাবনার ভাঙ্গুড়ায় ২০ জন কৃষকের টাকায় স্থাপন করা গভীর নলকূপ নিজের নামে লাইসেন্স করে নিয়েছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শামীম আহমেদ। উপজেলার পাথরঘাটা গ্রামে বিএডিসি অফিসের সদ্য বিদায়ী উপসহকারী প্রকৌশলী ইয়াকুব আলীর যোগসাজশে শামীম আহমেদ এই কাজ করেছেন। নিজের নামে লাইসেন্স করে ও বিদ্যুৎ সংযোগ নেয়ার পরই শামীম আহমেদ অন্য সদস্যদের মালিকানা থেকে বাদ দিয়েছেন। এতে নিরুপায় হয়ে মালিকানা ফিরে পেতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে গত বৃহস্পতিবার লিখিত অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী ১৫ কৃষক।

জানা যায়, ২০০৮ সালে উপজেলার পাথরঘাটা গ্রামে উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক শামীম আহমেদ সহ ২০ জন কৃষক প্রায় ১০ লাখ টাকা ব্যায়ে বোরো চাষের জন্য গভীর নলকূপ স্থাপন করে। এই নলকূপ স্থাপন করা হয় শামীম আহমেদের জমিতে। সে সময় নলকূপের বিদ্যুৎ সংযোগ নেওয়া হয় অপর সদস্য নাসির উদ্দিনের নামে। এরপর সদস্যদের টাকায় জমিতে পানি সরবরাহের পাইপ লাইনও করা হয়। পরবর্তীতে গত বছর নাসির উদ্দিন বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দিয়ে সদস্য থেকে অব্যাহতি নেন। ফলে পুনরায় বিদ্যুৎ সংযোগ পেতে উপজেলা সেচ কমিটির লাইসেন্স ও নাসির উদ্দিনের সংযোগ হস্তান্তর প্রত্যয়ন পত্র প্রয়োজন হয়। কিন্তু নাসির উদ্দিন হস্তান্তর পত্র প্রদান করেনি। এতে চলতি বোরো মৌসুমে বিদ্যুৎ সংযোগ পাওয়া নিয়ে সংকট সৃষ্টি হয়। এ অবস্থায় শামীম আহমেদ প্রভাব খাটিয়ে গোপনে নিজের নামে উপজেলা সেচ কমিটি থেকে বিএডিসির লাইসেন্স ও পল্লী বিদ্যুতের সংযোগ করে নেন।

এদিকে এই গভীর নলকূপ স্থাপনের সময় দেড়শ টাকার নন জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে সকল সদস্যদের স্বাক্ষরিত মালিকানা ও অঙ্গীকারনামা লিখিত করা হয়। তবে সেই অঙ্গীকারনামা এখন আর মানছেন না শামীম আহমেদ। গত ফেব্রুয়ারি মাসের সংযোগ চালু হওয়ার পরই শামীম আহমেদ অর্ধেক সদস্যকে বাদ দেন। সেসময় উপজেলা চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন চেয়ারম্যানের মধ্যস্থতায় বিষয়টি সাময়িক সুরাহা হয়। কিন্তু সম্প্রতি শামীম আহমেদ এই গভীর নলকূপ নিজের একক মালিকানা দাবি করে আগামী মৌসুমে কাউকে সাথে রাখবেন না বলে জানিয়ে দেন। এতে নিরুপায় হয়ে ১৫ কৃষক গত বৃহস্পতিবার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে তাদের মালিকানা ফিরে পেতে লিখিত অভিযোগ করেন। কৃষকের লিখিত অভিযোগের প্রেক্ষিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা গত সোমবার অভিযোগকারী ১৫ কৃষক ও আওয়ামী লীগ নেতা শামীম আহমেদকে নিজ কার্যালয়ে ডাকেন। তবে শামীম আহমেদ নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে যাননি।

এ বিষয়ে গভীর নলকূপের একজন অংশীদার কামরুজ্জামান বলেন, গভীর নলকূপ করলাম সবাই টাকা দিয়ে। কিন্তু এখন শামীম আহমেদ নিজের বলে দাবি করছে। নলকূপ নিজের বলে সে সবাইকে বাদ দিয়েছে। এমনকি কারো কাছে কোনো লিখিত অভিযোগ করে লাভ হবে না বলেও দাম্ভিকতা দেখাচ্ছেন।

আরেকজন অংশীদার মোহাম্মদ আলী বলেন, অত্যন্ত প্রভাবশালী আওয়ামীলীগ নেতা শামীম। বাৎসরিক কোনো আয়-ব্যয়ের হিসাব নিকাশ দেন না তিনি। এতে আমরা কৃষকরা অসহায় হয়ে পড়েছি তার কাছে।

অভিযোগের বিষয়ে আওয়ামী লীগ নেতা শামীম আহমেদের মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি।

এ বিষয়ে উপজেলা বিএডিসি অফিসের সদ্য বিদায়ী উপসহকারী প্রকৌশলী ইয়াকুব আলী বলেন, আমি জানি কয়েকজন কৃষক মিলে এই নলকূপ বসিয়েছে। তবে সমিতির নামে লাইসেন্স না হয়ে লাইসেন্সটি হয়ে গেছে শামীম আহমেদের ব্যক্তিগত নামে। এখন আমার কিছু করার নেই। এ ব্যাপারে কৃষকদের লিখিত অভিযোগের প্রেক্ষিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পারেন।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও উপজেলা সেচ কমিটির সভাপতি নাহিদ হাসান খান বলেন, সকল মালিকদের সাথে সমন্বয় করে প্রকল্প চালাবেন বলে শামীম আহমেদের নামে লাইসেন্স প্রদান করা হয়। তাই সমঝোতার উদ্দেশ্যে অভিযোগকারী কৃষক ও লাইসেন্সের মালিক শামিম আহমেদকে সোমবার ডাকা হয়েছিল। কিন্তু শামীম আহমেদ আসেনি। এখন তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজন হলে লাইসেন্স বাতিল করা হবে।

উপদেষ্টা সম্পাদকঃ রোমান চৌধুরী।

প্রকাশকঃ  সানজিদা রেজিন মুন্নি।

সম্পাদকঃ কামরুজ্জামান বাঁধন।

নির্বাহী সম্পাদকঃ মোঃ জালাল উদ্দিন জুয়েল।

মোবাইলঃ ০১৭১১-৯৫৭২৬৩, ০১৭১২-৮৩১৪৪৭

মেইলঃ rhbnews247@gmail.com, CC: rhbnews.nd@gmail.com

ঢাকা অফিসঃ এ্যাড পার্ক, ওয়াজী কমপ্লেক্স (৯ম তলা), ৩১/সি, তোপখানা রোড, সেগুনবাগিচা, ঢাকা -১০০০.

error: Content is protected !!